Thursday, June 4, 2026
Homeপশ্চিমবঙ্গবাংলা সহ ১২ রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের তোড়জোড়

বাংলা সহ ১২ রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের তোড়জোড়

Special Intensive Revision of Electoral Roll in WB: সোমবার ভারতের নির্বাচন কমিশন নয়টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ঘোষণা করেছে। এই রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে বাংলা, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং পুদুচেরি, যেগুলিতে আগামী বছর নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে এই তালিকায় নির্বাচনমুখী আসাম নেই।

বিহারে সম্প্রতি সমাপ্ত হওয়া SIR-এর নিয়মাবলীর সঙ্গে এবারের সংশোধনীর একটি তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। এইবার সকল ভোটারকে প্রায় দুই দশক আগে তাদের রাজ্যে অনুষ্ঠিত শেষ নিবিড় সংশোধনীর (Intensive Revision) পরবর্তীকালে প্রকাশিত ভোটার তালিকা থেকে তাদের নিজেদের এবং তাদের যেকোনো একজন অভিভাবকের তথ্য দিতে হবে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে সর্বশেষ SIR হয়েছিল ২০০২ সালে।

নিয়ম এবং নথি যাচাই প্রক্রিয়া (Special Intensive Revision of Electoral Roll in WB)

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন, যখন বুথ-লেভেল অফিসাররা (BLOs) বর্তমান ভোটারদের কাছে ফর্ম বিতরণ করা শুরু করবেন, তখন ভোটাররা (ফর্মের) নাম আগের (SIR-পরবর্তী) তালিকার সাথে মিলিয়ে দেখবেন। যদি নাম মিলে যায়, তাহলে তাদের অন্য কোনো নথি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। একইভাবে, যদি তাদের নাম না থাকে কিন্তু তাদের বাবা অথবা মায়ের নাম সেখানে থাকে, তাহলেও তাদের অন্য কোনও নথি জমা দিতে হবে না।

ভোটাররা অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন এবং voters.eci.gov.in ওয়েবসাইটে পূর্বের SIR ভোটার তালিকার সাথে লিঙ্ক করতে পারবেন। এই তালিকাগুলো ২০০২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে পুরো ভারত জুড়ে তৈরি করা হয়েছে। ১২টি SIR-এর সাথে যুক্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, ছত্তিশগড়, গোয়া, গুজরাট, লক্ষদ্বীপ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং উত্তরপ্রদেশ উল্লেখযোগ্য।

গণনা চলাকালীন কোনো কাগজপত্র সংগ্রহ করা হবে না বলে জানা গিয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমার আরও বলেন, “যেসব ভোটারের তথ্যের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না অথবা যাদের তথ্য লিঙ্ক করা যাচ্ছে না, তাদের ক্ষেত্রে দেখা হবে তারা ২০০৩ সালে কোথায় ছিলেন? তাদের বাবা-মা অথবা অন্য কেউ কি সেই সময় ছিলেন?”

এমনকি যদি এই ধরনের ব্যক্তিরা গণনার ফর্ম জমা দেন, তবুও Electoral Registration Officer অর্থাৎ ERO এবং Assistant ERO একটি নোটিশ জারি করবেন। নোটিশ জারির পর, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনুযায়ী তাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হবে, নাকি বাদ দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই কাগজপত্রগুলো বিহারে যে ধরনের কাগজপত্র চাওয়া হয়েছিল সেই একই রকম, এর সাথে বিহারের SIR-পরবর্তী তালিকাও যুক্ত করা হয়েছে, অর্থাৎ যারা SIR-এর পরে বিহার ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের তালিকা।

নাগরিকত্বের প্রমান

একজন ভোটারকে ১২টি নথির মধ্যে যেকোনও একটি জমা দিতে হবে। এই নথিগুলোর মধ্যে একটি হল ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অফ সিটিজেনস বা NRC থেকে নেওয়া প্রাসঙ্গিক অংশ, যা শুধুমাত্র আসাম ছাড়া আর কোথাও নেই। আধার কার্ডকেও অতিরিক্ত নথি হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এর সাথে নাগরিকত্বের প্রমাণস্বরূপ একটি সহায়ক নথিও দেখাতে হবে।

কুমার বলেন, “আজ মধ্যরাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া প্রাক-গণনা পর্বটি ECI Net (সফটওয়্যার)-এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী SIR-এর সাথে কম্পিউটার ম্যাচিং এবং লিঙ্কিং-এর কাজ করবে। এই রাজ্যগুলিতে বুথ-লেভেল অফিসারদের দ্বারা হাতে-কলমে (Manual) ম্যাচিং এবং লিঙ্কিং-এর কাজ প্রায় শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, পূর্বের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা তালিকার সঙ্গে সকল ভোটারদের এই সার্বজনীন সংযুক্তির কারণ হল, “মাঝে মাঝে, যদি এমন কোনও ব্যক্তি আমাদের দেশে আসেন যিনি এখানকার নাগরিক নন, কিন্তু কিছু কাগজপত্র পেয়ে যান, গণনার সময়, আমরা ২০০২ থেকে ২০০৪ সালে আপনার অথবা আপনার পূর্বপুরুষদের অবস্থান মিলিয়ে দেখব। যদি সেটি মিলে যায়, তাহলে বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে যাবে। যাদের বিবরণ মিলবে না, তাদের একটি নোটিশ দেওয়া হবে এবং নোটিশ দেওয়ার পরে, তাদের সেই কাগজপত্র দেখাতে হবে এবং উদাহরণস্বরূপ, ২০০৩ সালে তারা কোথায় ছিলেন, সেটিও উল্লেখ করতে হবে।”

উল্লেখ্য, বিহারের ভোটার তালিকায় কতজন বিদেশি নাগরিকের নাম পাওয়া গিয়েছে, সে বিষয়ে কমিশন এখনও কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত আটটি বড় সংশোধনীতে সব ভোটারের জন্য সমস্ত ভোটারের উপর এমন নথি-ভিত্তিক নাগরিকত্ব যাচাই চাপানো হয়নি।

নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে যে, ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটার তালিকার প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটারের নাম আগের SIR তালিকায় ছিল। তারা আগে যে গণনা করার ফর্ম পূরণ করেছিলেন, সেখানে তাদের তথ্য দেখা যাবে।

SIR থেকে বাদ পড়া অঞ্চল

যদিও বেশ কয়েকটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, যেখানে আগামী বছর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না, তারাও এই রাউন্ডের SIR-এর মধ্যে দিয়ে যাবে, তবে আরও অনেক রাজ্যকে বিভিন্ন কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, দিল্লি এবং চণ্ডীগড়ের মতো উচ্চ নগরায়িত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, কারণ পূর্ববর্তী SIR তালিকার সাথে নাম মেলানো শহরাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে কঠিন প্রমাণিত হয়েছে, পোল প্যানেল সূত্রে এমনটা জানা যায়।

আবার অন্যদিকে শীতল তাপমাত্রা এবং তুষারপাতের কারণে হিমালয় রাজ্যগুলো এই শীতকালীন রাউন্ড থেকে বাদ পড়েছে।

প্রসঙ্গত, বিহারের এসআইআর নির্দেশের মতই, কমিশন অনাথ বা পরিচয়হীন শিশুদের (যাদের বাবা-মায়ের পরিচয় অজানা অথবা পাওয়া যায়নি) ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের অস্পষ্টতা বজায় রেখেছে।

এই বিষয়ে জ্ঞানেশ কুমারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন যে যেসব শিশুদের বাবা-মা নেই, তাদের অবশ্যই এই নির্দেশিত নথিগুলো থাকবে। তিনি আরও বলেন যেসব শিশুদের বাবা-মা নেই, তাদের বাবা-মা কোথাও না কোথাও আছেন। যেখানে তাদের বাবা-মা আছেন, সেখানে তাদের সাথে মেলানো এবং লিঙ্কিং করা হবে। ভোটার তালিকার সাথে মেলানো এবং লিঙ্কিং-এর কাজও BLO-রা করবেন, এবং এই বিষয়ে ইতিপূর্বেই অনেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

Mimi Banerjee
Mimi Banerjee
Passionate content writer with expertise in a variety of areas, including health, environment, and lifestyle, to name a few. Seeking to utilize my writing experience as a Content Writer for an organization that fosters innovative thoughts.
RELATED ARTICLES

Most Popular