Court Order on Resumption of MGNREGS in West Bengal: সোমবার, ২৭ অক্টোবর, পশ্চিমবঙ্গের কৃষি শ্রমিক ইউনিয়ন এবং রাজনৈতিক দলগুলি সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। এই রায়ে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের করা একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আবেদনে কেন্দ্রীয় সরকার মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি এক্ট (MGNREGA) প্রকল্পটি ১ অগস্ট, ২০২৫ থেকে পশ্চিমবঙ্গে ভবিষ্যতে কার্যকর করার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছিল।
প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় রাজ্যে ১০০ দিনের এই কাজটি ২০২২ সাল থেকে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
MGNREGS বিষয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের বক্তব্য (Court Order on Resumption of MGNREGS in West Bengal)
পশ্চিমবঙ্গ ক্ষেত মজুর সমিতি (PBKMS) তাদের বিবৃতিতে জানায়, “মাননীয় কলকাতা হাইকোর্ট ১লা আগস্ট থেকে ১০০ দিনের কাজ পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার কেউই তা মানার জন্য কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক আজকের এই স্থগিতাদেশ বাংলার গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জয়। এর মাধ্যমে এই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হল যে, শ্রমিকদের কাজের অধিকার অস্বীকার বা বিলম্বিত করা যাবে না।”
“এটি কেবল একটি আইনি জয় নয়, এটি মর্যাদা, শ্রম এবং সম্মিলিত সংগ্রামের জয়,” কৃষি ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে বলেছে।
হাইকোর্টের যুক্তি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেওয়ার সময় বলেছিল যে “আইনটি (MGNREGA আইন) এমন পরিস্থিতি কল্পনা করে না যেখানে এটিকে চিরতরে ‘কোল্ড স্টোরেজ’-এ ফেলে রাখা হবে।”
হাইকোর্ট আরও জানায়, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে মজুরি বিতরণে অনিয়ম তদন্তের যথেষ্ট উপায় আছে। তবে পূর্বের পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে বাস্তবায়নের জন্য যে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তার মধ্যে একটি সুস্পষ্ট বিভাজন রেখা টানা যেতে পারে। এই আদালতের মতে, “এটি জনস্বার্থে হবে এবং আইনটি যে স্বার্থে প্রণীত হয়েছিল তা রক্ষা করবে,” হাইকোর্ট বলেছিল।
তৃণমূল কংগ্রেস এই নির্দেশকে (Court Order on Resumption of MGNREGS in West Bengal) স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে যে সুপ্রিম কোর্টের সোমবারের আদেশ বাংলার জনগণের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক জয়’, কারণ তারা “দিল্লির অহংকার ও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে অস্বীকার করেছিল।”
তৃণমূল কংগ্রেস একটি সরকারি বিবৃতিতে বলেছে, “যখন তারা রাজনৈতিকভাবে আমাদের পরাজিত করতে ব্যর্থ হয়, তখন বিজেপি বঞ্চনাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। তারা বাংলার উপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে, দরিদ্রদের মজুরি কেড়ে নেয় এবং মা, মাটি, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জনগণকে শাস্তি দেয়।”
এই প্রসঙ্গে সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘মনরেগা’-র অধীনে কাজ শুরু করতে দেরি হওয়া বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে ‘বোঝাপড়া (tacit understanding)’র একটি উদাহরণ।
মহম্মদ সেলিম বলেন, “আমরাই MGNREGA-এর জন্য আইন প্রণয়ন করেছিলাম। এর পরে, আমরা জানতে পারলাম যে পশ্চিম বঙ্গ ক্ষেত মজুর সমিতি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে এবং সেখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে ২০২৫ সালের ১ অগস্ট থেকে কাজ পুনরায় শুরু করতে হবে। গত কয়েক মাস ধরে এই ইউনিয়নগুলো, যার মধ্যে বাম ইউনিয়নগুলোও রয়েছে এবং আমাদের দল গ্রাম ও ব্লকগুলোতে প্রচারণা চালাচ্ছে যে কাজ পুনরায় শুরু করা উচিত।”
উল্লেখ্য, রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ তিন বছর দশ মাস ধরে স্থগিত রাখা হয়েছে, এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এটি রাজ্যের গ্রামীণ সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যখন ২০২২ সালে এই প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তখন রাজ্যে প্রায় ৭০ লক্ষ মনরেগা জব কার্ডধারী ছিলেন।