New Town Action Area 3 Broken Road Turns Dangerous: চওড়া রাস্তা, ঝাঁ-চকচকে বহুতল আর আধুনিক জীবনযাত্রা- ‘স্মার্ট সিটি’ নিউটাউনের এই চেনা ছবির আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে এক অন্য বাস্তব। নিউ টাউন অ্যাকশন এরিয়া III-এর ‘দ্য সোল’ আবাসন কমপ্লেক্সের বাসিন্দারা এখন গভীর সমস্যায় পড়েছেন। প্রায় ৭০০ পরিবার দু’বছর ধরে ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, অন্ধকার গলি এবং কুকুরের আক্রমণের মত নানা কষ্ট সহ্য করছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ সত্ত্বেও কোনো সমাধান না হওয়ায় তাদের একটাই প্রশ্ন- “এ কি স্মার্ট সিটির বাস্তব চিত্র?”
আবাসনটির ঠিক বাইরের রাস্তাটি আগে মসৃণ ও শান্ত ছিল, কিন্তু এখন তা যেন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়ে গিয়েছে।
কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা
ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজিস্ট এবং সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অর্জুন চ্যাটার্জি জানান, “রাস্তাটি দেড় বছর আগে খুঁড়ে এভাবেই ফেলে রাখা হয়েছিল। প্রবল বৃষ্টিপাতের পর, প্রতিটি গর্তে জল ভরে যায়, সর্বত্র মশার বংশবৃদ্ধি হয় এবং ডেঙ্গুর প্রকোপও বাড়ছে। রাস্তার আলো কাজ করে না, ২৫টি আক্রমণাত্মক বেওয়ারিশ কুকুর রয়েছে, এবং আমরা অন্ধকারের পরে বাইরে বেরোতে পারি না। একটি স্মার্ট সিটি কি তার মানুষের সাথে এইভাবে আচরণ করে?”
যদিও জল সরবরাহ এবং আবর্জনা সংগ্রহ NKDA দ্বারা পরিচালিত হয়, তবুও কমপ্লেক্স এবং এনকেডিএ 3E মার্কেটের মধ্যে রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। এই রাস্তাটি NKDA (নিউ কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি) এবং রাজারহাট চাঁদপুর পঞ্চায়েতের আইনি টানাপোড়েনের মাঝে পড়ে রয়েছে।
বাসিন্দারা ইমেল, সোশ্যাল মিডিয়া ট্যাগ, ছবি এবং ভিডিও কর্তৃপক্ষকে পাঠালেও লাভের লাভ কিছুই হয়নি।
New Town Action Area 3 Broken Road Turns Dangerous- বাসিন্দাদের ক্ষোভ
রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে অনেক বাসিন্দাই শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। চিকিৎসক শুভব্রত রায় বলেন, ওই রাস্তার কারণে তাঁর গাড়ির সাসপেনশন দু’বার নষ্ট হয়েছে। তিনি জানান, “বর্ষায় প্রায় বাইক থেকে পড়ে যেতাম, পা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। অসহায় বোধ করে, বাসিন্দারা নিজেরাই মাটি দিয়ে গর্ত ভরাট করার চেষ্টা করেছিলেন। “কিন্তু সঠিক উপকরণের অভাবে তা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।আমরা তো রাস্তা নির্মাণের ইঞ্জিনিয়ার নই- সরকারের কাজ আমাদের করতে হবে কেন?”
আরেক বাসিন্দা ও কর্পোরেট কর্মী সনির্বরন্ধ চৌধুরী বলেন, “কমপ্লেক্স থেকে বেরোলে মনে হয় নরকে ঢুকছি। চলাচল, পরিবহন, এমনকি রাস্তা পার হওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ। উৎসবে প্রতিমা উঠানো বা নামানো একপ্রকার দুঃস্বপ্ন- ভাঙা রাস্তায় প্রতিমারও ক্ষতি হতে পারে।”
পেশায় স্থপতি, সৌম্য চক্রবর্তী জানান যে এই রাস্তাটি বিমানবন্দর এবং বৈদিক ভিলেজের সাথে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ পথের অংশ। মাটির নিচে ইউটিলিটি লাইন পাতার জন্য এই রাস্তাটি খোঁড়া হয়েছিল এবং তারপর আর মেরামত করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন “এটা পরিকল্পনার ব্যর্থতা। যে সংস্থা রাস্তা কাটবে, পাইপ বসাবে এবং রাস্তা সারাবে- পুরোটার জন্য একটাই টেন্ডার হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এখানে একে অপরকে দোষারোপ করে আর কাজটাই হয় না।” তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “আমরা ট্যাক্স দিই। একটা ভালো রাস্তা কোনো সুবিধা নয়, এটা আমাদের মৌলিক মানবাধিকার।”
ছোট বাচ্চাদের নিয়ে যে পরিবারগুলি থাকে তারাও আতঙ্কিত। “আমার দুটি বাচ্চা আছে, দুই এবং চার বছর বয়সী,” আইটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার সায়ক রায় বলেন। “কার সিট থাকা সত্ত্বেও, ঝাঁকুনি এত তীব্র যে তারা পড়ে যেতে পারে। রাস্তার ধারের খাবারের দোকানগুলিতে অবৈধ পার্কিং পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তোলে।”
কেউ কেউ এখন বাড়ি কেনার জন্য আফসোস করছেন। আইবিএম পেশাদার সুদীপ দাস বলেন, “যদি জানতাম, তাহলে আমি এখানে কখনও ফ্ল্যাট কিনতাম না।” আমি একটি এসইউভির এক্সেল ভাঙতে দেখেছি। আমি অতিথিদের ডাকতেও ভয় পাই কারণ তারা হয়ত নিরাপদে পৌঁছাতে পারবে না।”