The List of 5 Important mountain passes in india: প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা তুষারপাতের সময়, প্রায়শই বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে ত্রাণ, চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে যায় গিরিপথ দিয়েই। পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে এঁকেবেঁকে যায় যে পথ, সেই পথই গিরিপথ। প্রাচীনকাল থেকেই এই গিরিপথগুলি বাণিজ্য, ভ্রমণ এবং প্রতিরক্ষা করে আসছে ভারতকে। পাহাড়ি গিরিপথ ধরেই সেনাবাহিনী দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছায়, এক ভূখণ্ড অন্য ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত হয়।
জানেন, ভারত জুড়ে ১০০ টিরও বেশি পর্বত গিরিপথ রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের বিখ্যাত জোজি লা থেকে সিকিমের নাথু লা, প্রত্যেকটির অবদান অনস্বীকার্য। এই প্রবন্ধে, আমরা ভারতের গুরুত্বপূর্ণ পর্বত গিরিপথগুলির বিষয়ে জেনে নেব।
বিশ্বের সর্বোচ্চ মোটরযান চলাচল করে কোন গিরিপথ দিয়ে?
৫,৩৫৯ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত খারদুং লা দিয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ মোটরযান চলাচল করে। বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশনের অধীনে, এই পথটি লেহকে নুব্রা এবং শ্যোক উপত্যকার সঙ্গে সংযোগ করে। সিয়াচেন হিমবাহ যেতে হলে, এটাই প্রধান রুট।
ভারতের গিরিপথের তালিকা। The List of 5 Important mountain passes in india
| কোন অঞ্চলে রয়েছে | গিরিপথের নাম | গিরিপথের উচ্চতা | কোন কোন ভূখণ্ডকে যুক্ত করে | কোন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ |
| লেহ-লাদাখ | আঘিল পাস | ৪,৯৭৮ | লাদাখ এবং জিনজিয়াং (চিন) | সেযুগে কারাকোরাম রেঞ্জ জুড়ে বাণিজ্য এবং ভ্রমণের জন্য এই গিরিখাত ছিল গুরুত্বপূর্ণ। |
| বিলাফন্ড লা (সাল্টোরো পাস) | ৫,৪৫০ | কাশ্মীর এবং চিন | নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে অবস্থিত, সিয়াচেন হিমবাহ অঞ্চলে ভারতকে সুরক্ষা করে। | |
| চ্যাং লা | ৫,৩৯১ | লেহ এবং চাংথাং-তিব্বত | লেহ থেকে প্যাংগং হ্রদ এবং চাংথাং মালভূমিতে যেতে হলে এই পথ জরুরি। | |
| ডেহরা কম্পাস | ৫,৪৫০ | ভারত এবং তারিম অববাহিকা (চিন) | একসময় মধ্য এশীয় বাণিজ্য নেটওয়ার্কে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। | |
| ফোটু লা | ৪,১০৮ | কার্গিল এবং লেহ | শ্রীনগর-লেহ হাইওয়ের এই সর্বোচ্চ গিরিপথ, কার্গিল এবং লেহের মধ্যে যাতায়াতের আধার। | |
| ইমিস লা | ৫,৩০০ | লাদাখ এবং তিব্বত | ভারত ও তিব্বতকে সংযুক্ত করে। ধর্মীয় স্থান হানলে উপত্যকায় নিয়ে যায়। | |
| কারাকোরাম পাস | ৫,৫৪০ | লাদাখ এবং জিনজিয়াং (চিন) | ভারত ও চিনের মধ্যে একটি সংবেদনশীল বর্ডার এলাকা। | |
| খারদুং লা | ৫,৩৫৯ | লেহ এবং নুব্রা ভ্যালি | বিশ্বের সর্বোচ্চ মোটরযান চলাচল করে এই রাস্তায়। | |
| কংকা পাস | ৫,১৭১ | লাদাখ এবং তিব্বত (চীন) | ১৯৬২ সালের যুদ্ধের সময় এটি সংঘর্ষের সাক্ষী ছিল। | |
| কালডাং কিলডাং | ৪,০৯২ | চাংথাং এবং নুব্রা উপত্যকা | যাযাবর পশুপালকদের জন্য অন্যতম গিরিপথ। লাদাখের স্থানীয় চাংপা সম্প্রদায়ের কাছে এটির সাংস্কৃতিক তাৎপর্য অসীম। | |
| লানাক পাস | ৫,৪৬৬ | দক্ষিণ-পূর্ব লাদাখ এবং পশ্চিম তিব্বত | একসময় তিব্বত এবং লাদাখের মধ্যে বাণিজ্য রুট হিসাবে ব্যবহার করা হত। | |
| লুঙ্গালাচা লা | ৫,০৫৯ | সারচু এবং লেহ | মানালি-লেহ হাইওয়ে এবং হিমাচল ও লাদাখের মধ্যে পরিবহন, বাণিজ্য এবং প্রতিরক্ষা করে। | |
| মার্সিমিক লা | ৫,৫৮২ | পূর্ব লাদাখ এবং তিব্বত | প্যাংগং হ্রদের কাছে অবস্থিত এই পথে বিশ্বের সর্বোচ্চ মোটরযান চলাচল করে। | |
| নামিকা লা | ৩,৭০০ | কার্গিল এবং লেহ | শ্রীনগর-লেহ মহাসড়কে অবস্থিত এই রুট “আকাশের স্তম্ভ” নামেও পরিচিত। | |
| পারপিক পাস | ৫,৫৭০ | কাশ্মীর এবং চীন | ভারত, চিন এবং জিনজিয়াংয়ের ত্রিসংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত। | |
| পেনসি লা | ৪,৪০০ | কার্গিল এবং জান্সকার উপত্যকা | “জান্সকারের প্রবেশদ্বার” নামে পরিচিত, দ্রাং-দ্রাং হিমবাহ দেখা যায়। | |
| রেনজাং লা | ৫,০৫৯ | দক্ষিণ লাদাখ এবং তিব্বত | ১৯৬২ সালের রেজাং লা-এর যুদ্ধের স্থান। | |
| সাসের পাস | ৫,৪১১ | নুব্রা ভ্যালি এবং ইয়ারকান্দ (চীন) | ভারতকে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সংযুক্তকারী প্রাচীন সিল্ক রুটের অংশ। | |
| শশী লা | ৪,২৬৪ | লালুং উপত্যকা এবং হাগনিস (কারগিল) | পশুপালক এবং ট্রেকারদের জন্য। | |
| শিঙ্গো লা (শিঙ্কু লা) | ৫,০৯১ | জান্সকার এবং লাহৌল (এইচপি) | লাদাখ এবং হিমাচলের মধ্যে যোগাযোগ করে। | |
| সিয়া লা | ৫,৫৮৯ | সিয়াচেন হিমবাহ এবং বালতিস্তান (পাকিস্তান) | সিয়াচেন হিমবাহের কাছে গুরুত্বপূর্ণ গিরিপথ। | |
| স্পাংগুর গ্যাপ | ৪,৯০০ | পশ্চিম লাদাখ এবং তিব্বত | প্যাংগং হ্রদের কাছে অবস্থিত। ১৯৬২ সালের যুদ্ধে সংঘর্ষের সাক্ষী। | |
| ট্যাংলাং লা | ৫,৩২৮ | লেহ এবং মানালি | বিশ্বের সর্বোচ্চ গিরিপথগুলির মধ্যে একটি। | |
| উমলিং লা | ৫,৭৯৯ | চিসুমলে এবং ডেমচক | বিশ্বের সর্বোচ্চ মোটরযান চলাচল করে। | |
| জম্মু ও কাশ্মীর | জোজি লা | ৩,৫২৮ | কাশ্মীর উপত্যকা এবং লাদাখ | কাশ্মীরকে লাদাখের সঙ্গে সংযুক্ত করে। |
| পীর পাঞ্জাল পাস | ৩,৪৯০ | কাশ্মীর উপত্যকা এবং রাজৌরি-পুঞ্চ | মুঘল রোডের মাধ্যমে কাশ্মীরকে জম্মুর সঙ্গে সংযুক্ত করে। | |
| বানিহাল পাস | ২,৮৩২ | বানিহাল এবং কাজীগুন্ড | কাশ্মীর উপত্যকার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত, এখন এটি জওহর টানেল দিয়ে বাইপাস করা হয়। | |
| হিমাচল প্রদেশ | রোহতাং পাস | ৩,৯৭৮ | কুল্লু এবং লাহৌল-স্পিতি | কুল্লু উপত্যকার সাথে লাহৌল-স্পিতির সংযোগ করে। |
| শিপকি লা | ৩,৯৩০ | কিন্নৌর এবং তিব্বত | ভারত-তিব্বত সীমান্তে বাণিজ্য পথ। | |
| বড়লাচা লা | ৪,৮৫০ | লাহৌল এবং লেহ | মানালি-লেহ হাইওয়েতে অবস্থিত। | |
| কুনজুম পাস | ৪,৫৫১ | লাহুল ও স্পিতি | পিন ভ্যালি জাতীয় উদ্যানে পৌঁছে দেয়। | |
| সাচ পাস | ৪,৪১৪ | চাম্বা এবং পাঙ্গি উপত্যকা | অসাধারণ পাহাড়ের দৃশ্য দেখা যায়। | |
| পিন পার্বতী পাস | ৫,৩১৯ | পার্বতী এবং স্পিতি উপত্যকা | স্পিতির সঙ্গে কুল্লুকে সংযুক্ত করে। | |
| জালোরি পাস | ৩,১২০ | সাতলুজ এবং তীর্থান উপত্যকা | হিমাচলের অভ্যন্তরীণ উপত্যকাগুলিকে সংযুক্ত করে। | |
| উত্তরাখণ্ড | মানা পাস | ৫,৫৪৫ | চামোলি এবং তিব্বত | নন্দা দেবী জীবমণ্ডল এলাকায় প্রতিরক্ষা এবং তীর্থযাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয়। |
| লিপু লেখ | ৫,১১৫ | ভারত-তিব্বত-নেপাল | কৈলাস মানসরোবর যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ। | |
| নীতি পাস | ৫,০৮৬ | ভারত ও তিব্বত | আগে বাণিজ্য হত, এখন সেনাবাহিনীর পথ। | |
| ট্রেইলস পাস | ৫,৩০০ | কুমায়ুন এবং গাড়োয়াল | ভারতের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ট্রেকগুলির মধ্যে একটি। | |
| বোরাসু পাস | ৫,৪৫০ | হর কি দুন এবং কিন্নৌর | একটি বিখ্যাত ট্রেকিং ট্রেইল। | |
| মুলিং লা | ৫,৬৬৯ | পিথোরাগড় এবং নেপাল | ভারত-নেপাল-তিব্বত সংযোগস্থলের কাছে সামরিক গিরিপথ। | |
| কুংরি বিংরি পাস | ৫,৫৪০ | চামোলি এবং তিব্বত | ভারত ও চিনের বাণিজ্য পথ। | |
| উত্তর-পূর্ব রাজ্যসমূহ | বোমডিলা পাস | ২,২১৭ | বোমডিলা শহর, অরুণাচল প্রদেশ | আঞ্চলিক যাতায়াত এবং পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। |
| সেলা পাস | ৪,১৭০ | তাওয়াং এবং দিরাং | তাওয়াংয়ের মূল সংযোগস্থল। | |
| বাম লা পাস | ৪,৬৩৩ | তাওয়াং এবং তিব্বত | ১৯৬২ সালের যুদ্ধ হয়েছিল। | |
| ডিফু পাস | ৪,৫৮৭ | অরুণাচল প্রদেশ এবং মায়ানমার | ভারত, চিন এবং মায়ানমারের সংযোগস্থল। | |
| পাংসাউ পাস | ১,১৩৬ | অরুণাচল প্রদেশ এবং মায়ানমার | মায়ানমারের মাধ্যমে ভারতকে চিনের সাথে সংযুক্ত করে। | |
| নাথু লা | ৪,৩১০ | সিকিম এবং তিব্বত | প্রধান ভারত-চিন বাণিজ্য পোস্ট। | |
| জেলেপ লা | ৪,২৭০ | সিকিম এবং তিব্বত | লাসায় যাওয়ার বাণিজ্য পথ। | |
| দক্ষিণ ভারত | পালঘাট গ্যাপ | ১৪০ | তামিলনাড়ু এবং কেরালা | কোয়েম্বাটুর এবং পালাক্কাদের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় রেল এবং রোড করিডোর এটি। |
| শেনকোটা পাস | ১৮১ | টেনকাসি (TN) এবং কোল্লাম (কেরল) | বাণিজ্য ও পরিবহনের জন্য দক্ষিণ তামিলনাড়ু এবং কেরালার সঙ্গে সংযোগ করায়। | |
| থামারাসেরি পাস | ৮০০ | কোঝিকোড় এবং ওয়ানাড় | পুরোনো দিনের মশলা বাণিজ্য পথ ছিল। | |
| বিসলে ঘাট | ৮৪০ | হাসান ও দক্ষিণা কন্নড় | ঘন রেইনফরেস্ট এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত। | |
| চরমাদি ঘাট | ১৫০ | চিকমাগালুর এবং উপকূলীয় কর্ণাটক | এই পাহাড়ি গিরিপথে ২৫টি বাঁক রয়েছে। |