Ruined Taratala Road Turns Daily Hazard: দক্ষিণ-পশ্চিম কলকাতার একটি প্রধান সংযোগকারী রাস্তা, তারাতলা রোড, যাত্রী এবং বাসিন্দাদের জন্য দৈনিক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত আট মাস ধরে রাস্তাটি ভাঙাচোরা, এবড়োখেবড়ো এবং খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টির সময় খানাখন্দগুলো কাদাযুক্ত জলের নিচে অদৃশ্য হয়ে যায়, ফলে চালকরা গভীরতা আন্দাজ করতে গিয়ে প্রায়শই বিপদে পড়েন। এর পাশাপাশি শুকনো মাসগুলোতে যানবাহনের চলাচলের কারণে প্রচুর ধুলো উড়তে থাকে, যা ঘরবাড়ি, দোকানপাট এবং স্থানীয়দের ঢেকে ফেলে। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তাটিকে ‘মৃত্যুর ফাঁদ’ (Ruined Taratala Road Turns Daily Hazard) হিসেবে অভিহিত করছেন।
মঙ্গলবার সকালে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সেরিব্রাল প্যালসির (IICP প্রায়) ৩৫০ থেকে ৪০০ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবক জরুরি মেরামতের দাবিতে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পুলিশি হস্তক্ষেপের পূর্বে তারা প্রায় দশ মিনিট রাস্তা অবরোধ করে। এরপর দলটি রাস্তার পাশে প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তাদের দাবি জানাতে থাকে।
আইআইসিপি-র অঙ্কুর অ্যাডভোকেসি গ্রুপের সুদীপেন্দু দত্ত জানান যে তাঁরা গত আট মাস ধরে রাস্তাটির এই দুরবস্থা দেখছেন। রাস্তাটি ধুলো, কাদা ও ভাঙা ইটে পরিপূর্ণ। লোকজনকে প্রতিটি পদক্ষেপ খুব সাবধানে ফেলতে হয়, কারণ সামান্য ভুল পদক্ষেপের ফলেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আরও বলেন, “এই রাস্তার অবস্থা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না।”
বিক্ষোভকারীরা জানান, তারা কর্তৃপক্ষের কাছে বারংবার আবেদন করেছেন এবং গণমাধ্যমেও বিষয়টি জানিয়েছেন। আইআইসিপি-র অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর শ্বাশতী আচার্য মহন্তী প্রশ্ন তুলেছেন, “আমরা জানতে পেরেছি কলকাতা পৌরসংস্থা (KMC) ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে রাস্তাটি সংস্কার করার কথা বলেছে। এত দীর্ঘ সময় আমরা কীভাবে অপেক্ষা করব ? রাস্তাটি জুলাই মাস থেকে খারাপ হয়ে আছে, এখন অক্টোবর মাস, কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।”
বিক্ষোভকারীরা বৃষ্টির পরে রাস্তার উভয় পাশে জমে থাকা জলের বিষয়টিও উল্লেখ করেন, যার কারণে মশার উপদ্রব এবং নানা রোগ দেখা দিচ্ছে। বুলডোজার ও নির্মাণসামগ্রী রাস্তায় অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। একজন অভিভাবক বলেন, “পুজোর আগে তারা কাজ শুরু করেছিল, কিন্তু কাজটি মাঝপথে বন্ধ করে দেয় এতে রাস্তা এখন আরও সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে। এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এমনকি রিকশাও আটকে যায়। একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু কীভাবে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করবে?”
এটি শুধুমাত্র অসুবিধার বিষয় নয়, বরং এটি ‘জীবন-মৃত্যুর’ একটি বিষয়- এমনটাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। শ্বাশতী আচার্য মহন্তী আরও বলেন, “যারা এখান দিয়ে চলাচল করেন, তাদের সকলের জন্য এটি একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা বা উদ্বেগের কারণ। আমরা কেন একটি মর্মান্তিক ঘটনার জন্য অপেক্ষা করব? যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটে, তবে এর ক্ষতিপূরণ কে দেবে? একটি শিশুর জীবনের মূল্য কি ২ লক্ষ টাকা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব। আমরা টাকা চাই না, আমরা নিরাপত্তা চাই।”
প্রসঙ্গত, IICP গোষ্ঠী জানিয়েছে যে দৃশ্যমান উন্নতি দেখার জন্য তারা এক মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তারা তাদের প্রতিবাদ আরও জোরালো করবে। সুদীপ্তেন্দু দত্ত বলেন, “আমরা কোনও বিলাসিতা চাইছি না। একটি মোটর-যোগ্য রাস্তা আমাদের মৌলিক অধিকার। সাধারণ মানুষ প্রতিদিন কষ্ট পাচ্ছে।”
উল্লেখ্য, বর্তমানে ভাঙা রাস্তার ওপর দিয়ে ট্রাক চলছে, ধুলোর মেঘ উড়ছে এবং জমে থাকা জল পরবর্তী গর্তটিকে লুকিয়ে রাখছে। তারাতলা রোডে প্রতিটি যাত্রা আজও স্থানীয় বাসিন্দাদের এবং নিয়মিত যাত্রীদের কাছে ভাগ্যের সঙ্গে জুয়া খেলার মত।