Kerala Underwater Tunnel To Cut Fort Kochi: কেরালা খুব শীঘ্রই তার প্রথম জলের নিচের টানেল বা আন্ডারওয়াটার টানেল তৈরি করতে যাচ্ছে, যা ভাইপিন এবং ফোর্ট কোচিকে (Kerala Underwater Tunnel To Cut Fort Kochi) যুক্ত করবে। রাজ্যের উপকূলীয় মহাসড়ক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গৃহীত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি এই দুটি অঞ্চলের মধ্যে যাতায়াতের পদ্ধতিকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করে দেবে।
৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেলটি সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে নির্মিত হবে এবং বর্তমানের ১৬ কিলোমিটার পথের দূরত্বকে কমিয়ে আনবে। শুধু তাই নয়, নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরে, এই টানেলটি ব্যবহারকারীদের প্রতি মাসে প্রায় ১,৫০০ টাকা সাশ্রয় করতে সাহায্য করবে এবং যাতায়াতের সময় প্রায় দু ঘণ্টা পর্যন্ত কমাতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Kerala Underwater Tunnel- প্রকল্পের আনুমানিক খরচ
এই প্রকল্পের আনুমানিক খরচ ২,৬৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১,২২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে টুইন-টিউব টানেল এবং ৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে, কারণ রাজ্য সরকার কেরালা রেল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (KRDCL)-কে এটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন সংস্থা থেকে আগ্রহপত্র (Expression of Interest – EOI) আহ্বানের নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমানে, কোচিন বন্দরের ব্যস্ত শিপিং চ্যানেলের কারণে ভাইপিন এবং ফোর্ট কোচির মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে যাত্রীদের হয় ফেরি অথবা দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর গোশ্রী রুটের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
ভাইপিন এবং ফোর্ট কোচির মধ্যে কেরালার প্রথম আন্ডারওয়াটার টানেল (Kerala Underwater Tunnel To Cut Fort Kochi)
একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে ফোর্ট কোচি এবং এর্নাকুলামের হাইকোর্ট জংশনের মধ্যে প্রতিদিনের যাতায়াত সময় এবং অর্থের দিক থেকে বেশ ব্যয়বহুল। দীর্ঘ পথ এবং প্রচুর যানবাহনের কারণে যাত্রীদের প্রায়শই একটি সম্পূর্ণ যাত্রায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় লেগে যায়। অনেক যাত্রী এই ক্লান্তিকর পথের জন্য কমপক্ষে ৩০০ টাকা খরচ করতে বাধ্য হন, তবে প্রস্তাবিত টানেলটি এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাবে।
জনৈক ব্যক্তির বক্তব্য অনুযায়ী, এই চ্যানেল টানেলের মাধ্যমে যাত্রীদের যাতায়াতে সম্ভবত ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে খরচ হবে এবং সময় লাগবে মাত্র আধা ঘণ্টা। একজন নিয়মিত যাত্রী প্রতি মাসে কমপক্ষে ১৫০০ টাকা এবং মূল্যবান ৬০ ঘণ্টা সময় বাঁচাতে পারবেন। টানেল ব্যবহারকারী ট্রাক এবং অন্যান্য যানবাহনগুলোও একইভাবে সাশ্রয় করতে পারবে।
চ্যালেঞ্জের কারণে ওভারব্রিজের পরিকল্পনা বাতিল
তবে ফোর্ট কোচি এবং ভাইপিনের সাথে সংযোগকারী একটি ওভারব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাবও ছিল। কিন্তু সতর্কতার সাথে পর্যালোচনা করার পর পরিকল্পনাটি স্থগিত করা হয়েছিল, কারণ এটি ‘প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন এবং আর্থিকভাবে অযোগ্য’ বলে বিবেচিত হয়েছিল।
কেআরডিসিএলের ((KRDCL) ম্যানেজিং ডিরেক্টর ভি অজিত কুমার বলেন, “যেহেতু এটি একটি শিপিং চ্যানেল, তাই সেতু নির্মাণ করা বাস্তবসম্মত নয়। জাহাজের চলাচলের অনুমতি দেওয়ার জন্য এটিকে অনেক উঁচু করে বানাতে হবে। তাছাড়া, জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াটিও কঠিন হবে। যদি আমরা একটি টানেল তৈরি করি, তাহলে ল্যান্ডিং পয়েন্টের উভয় পাশে আমাদের মাত্র ১০০ মিটার জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। তাই এখানে একটি টানেলই সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প।”
টানেলটির নির্মাণ পরিকল্পনা
পরিকল্পিত এই আন্ডারওয়াটার টানেলটিতে দুটি আলাদা টিউব থাকবে, যেগুলোর প্রত্যেকটির বাইরের ব্যাস হবে ১২.৫ মিটার এবং ভেতরের প্রস্থ হবে ১১.২৫ মিটার। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৫ মিটার গভীরতায় অবস্থিত হবে। সর্বমোট ২.৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পে ১.৭৫ কিলোমিটার বোরড টানেল এবং উভয় প্রান্তে ১ কিলোমিটার কাট-এন্ড-কভার অংশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তার মান বজায় রাখার জন্য, এর নকশায় প্রতি ২৫০ মিটারে জরুরি স্টপ এরিয়া, প্রতি ৫০০ মিটারে এস্কেপ রুট এবং একটি আধুনিক বায়ু চলাচল ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আশা করা যাচ্ছে নির্মাণ কাজ শেষ হতে প্রায় ৩০ মাস সময় লাগবে এবং ভূমি অধিগ্রহণের জন্য অতিরিক্ত ১৮ মাস প্রয়োজন হবে। কর্মকর্তারা ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।