How The Renewable Energy Sector Is The World Biggest Source Of Electricity Today: বৈশ্বিক শক্তি বিষয়ক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক Ember-এর নতুন তথ্য অনুযায়ী, এই বছরের প্রথমার্ধে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি বা রিনিউএবেল এনার্জি (Renewable energy)বিশ্বে বিদ্যুতের প্রধান উৎস হিসেবে কয়লাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা ইতিহাসে প্রথম।
বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, তবে সৌর এবং বায়ুশক্তির উৎপাদন এতটাই বেশি ছিল যে তা অতিরিক্ত বিদ্যুতের চাহিদার ১০০% পূরণ করেছে, এমনকি কয়লা ও গ্যাসের ব্যবহার সামান্য কমাতে সাহায্য করেছে।
চিন ও ভারতের সাফল্য
এটি একটি আশ্চর্যজনক বিষয় যে এই ক্লিন এনার্জি বিপ্লবের নেতৃত্ব দিচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলো, বিশেষ করে চিন এবং ভারত।
চিন একা বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর সম্মিলিত শক্তির চেয়েও বেশি সৌর এবং বায়ুশক্তি উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত করেছে। ভারতেও বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির তুলনায় সৌর এবং বায়ুশক্তির উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে কয়লা ও গ্যাসের ব্যবহার হ্রাস পেয়েছে।
অন্যদিকে, আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মত উন্নত দেশগুলোতে কিন্তু এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেখানে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির চেয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই আঞ্চলিক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, Ember এই মুহূর্তটিকে “একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়” বলে অভিহিত করেছেন।
Ember-এর সিনিয়র বিশ্লেষক মালগোরজাটা উইয়াট্রোস-মোটিকা বলেছেন যে এটি “এমন একটি পরিবর্তনের সূচনা যেখানে পরিষ্কার বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে চলছে।”
সৌর বিদ্যুতের ব্যাপক প্রসার এবং বিশ্বব্যাপী প্রভাব
বর্তমানে রিনিউএবেল এনার্জির অগ্রগতিতে সৌরশক্তি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মোট চাহিদার ৮৩% পূরণ করে এটি বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়িয়েছে। গত তিন বছর ধরে সৌরশক্তি নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎস হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। কারণগুলি হল:
খরচ হ্রাস: ১৯৭৫ সাল থেকে সৌর প্যানেলের দাম প্রায় ৯৯.৯% কমে গিয়েছে । যেখানে গ্রিড বিদ্যুতের দাম বেশি অথবা এটি নির্ভরযোগ্য নয়, সেখানে সৌরশক্তি এক বছরেই বড় বাজার তৈরি করতে সক্ষম।
আফ্রিকা ও পাকিস্তান: বিগত এক বছরে আফ্রিকাতে সৌর প্যানেলের আমদানি ৬০% বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও পাকিস্তান ২০২৪ সালে ১৭ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ আমদানি করেছে, যা তাদের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার এক তৃতীয়াংশের সমান।
তবে এর নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে যেমন আফগানিস্তানের মত কিছু দেশে সৌর পাম্পের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, যা আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে মারাত্মক জলসংকট সৃষ্টি করতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ইউকে-র এনার্জি ট্রানজিশনস কমিশনের (UK’s Energy Transitions Commission) চেয়ারম্যান আদাইর টার্নার বলেছেন, বিশ্বব্যাপী ‘সান বেল্ট’ (Sun Belt) এবং ‘উইন্ড বেল্ট’ (Wind Belt) অঞ্চলের দেশগুলো ভিন্ন ভিন্ন জ্বালানি সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।
Sun Belt দেশগুলো যেমন এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার অধিকাংশ অঞ্চল- তাদের দিনের বেলায় এয়ার কন্ডিশনার চালানোর জন্য প্রচুর বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। এই দেশগুলো সৌর-ভিত্তিক সিস্টেম গ্রহণ করে প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে পারে, এক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ রাতে ব্যবহারের জন্য ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করা যেতে পারে, যা বর্তমানে সাশ্রয়ী হচ্ছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের মত ‘উইন্ড বেল্ট’ দেশগুলো বেশ কিছু কঠিন সমস্যার সম্মুখীন। সৌর প্যানেলের মত উইন্ড টারবাইনের দাম তেমন কমেনি। তার ওপরে আবার সুদের হার বেশি হওয়ার কারণে ঋণের খরচ বেড়ে গিএছিড, এবং এর ফলস্বরূপ গত কয়েক বছরে বায়ু খামার (wind farms) স্থাপনের খরচও অনেক বেড়েছে। বিদ্যুতের সরবরাহ বজায় রাখা এখানে কঠিন, শীতকালে বাতাসের গতি কমে গেলে প্রায় সারা সপ্তাহব্যাপী সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার জন্য ব্যাকআপ পাওয়ারের প্রয়োজন, যা শুধু ব্যাটারি দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। ফলে এই সিস্টেম তৈরি ও পরিচালনা করা আরও বেশি ব্যয়বহুল হয়ে যায়।
তবে, ক্লিন টেকনোলজির দুনিয়ায় চীনের আধিপত্য এখনও পর্যন্ত অটুট রয়েছে। ইলেকট্রিক গাড়ি থেকে শুরু করে ব্যাটারি এবং সোলার প্যানেল- সবকিছু রপ্তানিতেই বেইজিং অন্যান্যদের তুলনায় অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছে।