Explore Top 10 Most Expensive Cities In The World: প্রতি বছর, গ্লোবাল ইকোনমিকস কনসালটেন্সি মার্সার (Mercer) বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করে। এই সূচকটি বিশ্বের ২২৬টি শহরকে তালিকাভুক্ত করে, যেখানে পরিবহন, খাদ্য, পোশাক, গৃহস্থালি পণ্য এবং বিনোদেনসহ ২০০টিরও বেশি জিনিসের দামের তুলনা করে প্রতিটি শহরকতটা ‘ব্যয়বহুল’ তা পরিমাপ করা হয়।
মার্সার জানিয়েছে, “এই ব্যাপক র্যাঙ্কিংটি বিশ্বজুড়ে শহরগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয়ের জটিল পরিস্থিতিতে পথ দেখানোর জন্য একটি মূল্যবান কম্পাস হিসেবে কাজ করে।” বিশ্বের সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল শহরগুলোর মধ্যে আছে ইসলামাবাদ, লাগোস এবং আবুজা।
এখানে বিভিন্ন সূচক থেকে প্রাপ্ত তথ্য একত্রিত করে ২০২৫ সালের বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ১০টি শহরের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে (Explore Top 10 Most Expensive Cities In The World), যেগুলি একই সাথে দারুণ বিলাসবহুল ভ্রমণেরও গন্তব্য।
বিশ্বের ১০টি সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর (Explore Top 10 Most Expensive Cities In The World)
১. সিঙ্গাপুর (Singapore)
এই বিলাসবহুল শহরটিকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে গণ্য করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সিঙ্গাপুরে আড়ম্বরপূর্ণতার কোনো অভাব নেই। এমনকি এখানকার বোটানিক্যাল গার্ডেন সম্পর্কে এক জায়গায় লেখা হয়েছে, এটি ১ বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার ব্যয়ে নির্মিত ১০১ হেক্টরের ফ্যান্টাসি ল্যান্ড, যেখানে রয়েছে অত্যাধুনিক বায়োডোম এবং হাই-টেক সুপারট্রি।
তবে জীবনযাত্রার ব্যয় মূলত জীবনশৈলীর উপর নির্ভরশীল, এখানে যেমন বেশি খরচের সুযোগ আছে, তেমনই কম খরচে জীবনধারণের উপায়ও রয়েছে। ব্যয়ের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে গাড়ি, বেসরকারি শিক্ষা এবং যারা সরকারি আবাসনগুলোতে বসবাস করেন না তাদের জন্য আবাসন খরচ। যদিও হকার সেন্টারগুলোতে স্থানীয় খাবার সহজলভ্য, যা সাশ্রয়ী মূল্যের বিকল্প হতে পারে।
২. হংকং
হংকংকে প্রায়শই বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে গণ্য করা হয়, এর প্রধান কারণ হল এখানকার আবাসন খরচ অত্যন্ত বেশি। যদিও এখানে জীবনধারণের সামগ্রিক ব্যয় বিভিন্ন সূচকের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। কিছু গবেষণা অনুযায়ী, এটি প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরগুলোর মধ্যে একটি, তবে অন্যান্য সূচকে এটি সাধারণ জীবনযাপন অথবা বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য শীর্ষ পাঁচটি শহরের মধ্যে অবস্থান করে।
৩. জুরিখ
জুরিখকে সাধারণত বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এর প্রধান কারণ হল শক্তিশালী সুইস ফ্রাঁ এবং খাদ্যসামগ্রী, বিনোদন ও অন্যান্য ব্যবহার্য জিনিসপত্রের উচ্চ মূল্য। বিভিন্ন প্রতিবেদনের অনুসারে, ২০২৫ সালে এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এবং আবাসনের উচ্চ মূল্যের কারণে এটি আন্তর্জাতিক কর্মীদের জন্য বসবাস করার ক্ষেত্রে অন্যতম ব্যয়বহুল স্থান।
৪. জেনেভা
জেনেভা শহরটিকে সাধারণত খুব ব্যয়বহুল বলে মনে করা হয় এবং জীবনযাত্রা ও নির্মাণ খরচ – এই উভয় ক্ষেত্রেই এটি প্রায়শই বিশ্বের সবচেয়ে দামি শহরগুলোর মধ্যে স্থান পায়। এখানে বাড়ি ভাড়া, খাদ্যসামগ্রী ও রেস্টুরেন্টে খাওয়ার খরচ বেশি হওয়ার কারণে জীবনধারণের ব্যয় অনেক বেশি। অন্যান্য আন্তর্জাতিক শহরগুলোর তুলনায় এখানে জীবনযাত্রার ব্যয় সূচক( Cost of Living Index) অনেক বেশি।
কিছু স্থানীয় বাসিন্দার মতে, এই শহরে ব্যাঙ্কিং এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মত খাতে কর্মরত ধনী মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি, যা অপেক্ষাকৃত কম আয়ের মানুষের জন্য স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন করে তোলে।
৫. কোপেনহেগেন
কোপেনহেগেন একটি ব্যয়বহুল শহর হিসেবে পরিচিত, বিশেষ করে ভাড়া, খাবার এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচের ক্ষেত্রে এটি প্রায়শই ইউরোপ এবং বিশ্বের সবচেয়ে দামি শহরগুলোর মধ্যে স্থান পায়। যদিও এখানে খরচ বেশি হতে পারে, বাজেট-বান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা যেমন সাইকেল ব্যবহার এবং বিভিন্ন খাদ্য বাজার থেকে খাবার কেনার মতো কিছু কৌশল অবলম্বন করে খরচ কমানো সম্ভব।
২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, স্বল্প বাজেটের ভ্রমণকারীদের জন্য প্রতিদিন €৮০–€১০০ এবং মাঝারি বাজেটের ভ্রমণকারীদের জন্য €১৫০–€২৫০ বাজেট রাখা যেতে পারে। কোপেনহেগেনে জীবনযাত্রার ব্যয় অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি। উদাহরণস্বরূপ, বাড়ি ভাড়া ছাড়া অন্যান্য খরচ জার্মানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বেশি।
৬. প্যারিস
প্যারিস ভ্রমণ করা বেশ ব্যয়বহুল হতে পারে, বিশেষ করে যদি কেউ বিলাসবহুলভাবে ভ্রমণ করতে চান, তবে ভালোভাবে পরিকল্পনা করলে খরচ কমানো সম্ভব। এটি ইউরোপের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর হলেও, প্রায়শই লন্ডন বা নিউ ইয়র্কের চেয়ে কম খরচ হয়। তাছাড়া, এখানে থাকা, খাওয়া এবং যাতায়াতের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের অনেক বিকল্পও রয়েছে। পর্যটকেরা হোস্টেল বা কম দামের হোটেলে থাকতে পারেন, কিছু খাবার নিজেরা তৈরি করে নিতে পারেন, গণপরিবহন ব্যবহার করতে পারেন এবং বিনামূল্যে বিভিন্ন বিনোদনমূলক কাজ করে খরচ কমাতে পারেন।
৭. নিউ ইয়র্ক সিটি
নিউ ইয়র্ক শহরকে একটি ব্যয়বহুল শহর হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ আবাসন, ইউটিলিটি এবং জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের কারণে এটি বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরগুলোর মধ্যে নিজের স্থান ধরে রেখেছে। এই উচ্চ ব্যয়ের প্রধান কারণ হল আকাশছোঁয়া ভাড়া এবং জীবনধারণের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা, বিশেষ করে ম্যানহাটনের মতো কিছু অঞ্চলে। নিউ ইয়র্ক সিটিতে ভালোভাবে জীবনযাপন করতে হলে ভালো আয়ের প্রয়োজন, কারণ এখানে প্রতিদিনের জিনিসপত্র, পরিষেবা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রার খরচ অনেক বেশি।
৮. লন্ডন
লন্ডন একটি ব্যয়বহুল শহর, এবং মূলত বাসস্থানের উচ্চ মূল্যের কারণে এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। একজন পর্যটকের প্রতিদিনের খরচ তাদের ভ্রমণের ধরনের ওপর নির্ভর করে প্রায় £৭০ থেকে £২৫০ বা তার বেশি হতে পারে, তবে এখানকার বাসিন্দাদের আবাসন এবং জীবনযাত্রার জন্য প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হয়। এখানে হিসেব করে খরচ করে এবং ভাগ করা আবাসনে (shared accommodations) থেকে খরচের বাজেট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
৯. নাসাউ
নাসাউকে একটি ব্যয়বহুল শহর হিসেবে গণ্য করা হয়, এর প্রধান কারণ হল এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক হাব। এখানে আবাসনের সুযোগ কম থাকার কারণে চাহিদা বেশি, সেইসাথে আমদানি করা জিনিসপত্রের দাম এবং পর্যটন শিল্পের কারণে বিভিন্ন সেবার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশিদের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে যায়।
১০. লস অ্যাঞ্জেলেস
লস অ্যাঞ্জেলেসকে (LA) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল শহরের মধ্যে একটি হিসাবে গণ্য করা হয়। এর প্রধান কারণ হল চাহিদা ও সীমিত স্থানের জন্য আবাসন খরচ অনেক বেশি। জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি হওয়ার অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ট্যাক্স, পরিবহন বিশেষ করে গাড়ি কেনা ও পেট্রোলের দাম, ইউটিলিটি, মুদি এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচ।