CM Mamata’s Statement On North Bengal Flood Relief: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পরে ত্রাণ এবং পুনর্বাসন নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে (CM Mamata’s Statement On North Bengal Flood Relief)। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে কেন্দ্র সরকার বন্যা দুর্গতদের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা প্রদান করেননি। মঙ্গলবার ১৪ অক্টোবর বন্যা এবং ভূমিধস কবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় মুখ্যমন্ত্রী এই মন্তব্যটি করেন।
বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ফটোশুটের’ অভিযোগ (CM Mamata’s Statement On North Bengal Flood Relief)
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত রাজ্যের ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-র নেতৃত্বকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে কিছু লোক ‘ধূপগুড়ি এবং ময়নাগুড়ি বন্যা-বিধ্বস্ত এলাকা নিয়ে রাজনীতি করারচেষ্টা করছেন’ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছেন।
তিনি বলেন “সাহায্য করার পরিবর্তে, আপনারা বিজেপির টাকায় বিশাল বক্তৃতা দেন, একদিনের জন্য ফটোশুট করেন এবং তারপর উধাও হয়ে যান। অন্যদিকে, আমরা বাড়িঘর এবং সেতু পুনর্নির্মাণ করব, ভূমিধসের পরে রাস্তা পরিষ্কার করব, মানুষকে ত্রাণ সরবরাহ করব এবং কমিউনিটি রান্নাঘর পরিচালনা করব। এর কোনওটিতেই কেন্দ্রের কোনও ভূমিকা নেই।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া মন্তব্যটি এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন কিছুদিন আগেই গত ৬ই অক্টোবর নাগরাকাটায় বন্যাদুর্গতদের সাথে দেখা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। এই ঘটনা নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিরোধী নেতাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করেছিলেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী
গত ৫ই অক্টোবর উত্তরবঙ্গে বন্যার পরে, ৩০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রী এই নিয়ে দু’বার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার তিনি মিরিকের ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সাম্প্রতিক ভূমিধসে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করেন। দিনের শেষে, মুখ্যমন্ত্রী মিরিক বাজারে একটি শিবিরে সাম্প্রতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাথে মতবিনিময় করেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী সুখিয়াপোখরিও পরিদর্শন করেন, যেখানে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং চারজন নিহতের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রী মৃতের নিকটা আত্মীয়দের মধ্যে ১০টি স্পেশাল হোমগার্ড পদের নিয়োগপত্র বিতরণ করেন এবং ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।
এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে ক্ষতিগ্রস্ত সব বাড়ি পুনর্নির্মাণ করা হবে এবং প্রত্যেক বাড়ির জন্য ১.২ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
ত্রাণ তহবিলে সাহায্যের আবেদন
পশ্চিমবঙ্গ সরকার দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার ও ত্রাণকার্যে সাহায্য এবং দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের জন্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (WBSDMA) তহবিলে অনুদান দিতে জনগণের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই তহবিলে ১ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন। তাছাড়া তিনি সেই সমস্ত দুর্গত মানুষদের পাশে থাকার জন্য সকলকে অনুরোধও জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর চোখে ‘ম্যান-মেড’ বিপর্যয়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বন্যাকে ‘ম্যান মেড’ (Man Made) অর্থাৎ মানুষের তৈরি বিপর্যয় বলেছেন। তাঁর দাবি, ভুটান ও সিকিমের নদীগুলো থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়ার কারণেই উত্তরবঙ্গে এই বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার তিনি আরও বলেছেন, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য ভুটানের পশ্চিমবঙ্গকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।