Witness the Kali Puja of Boro Maa in Hooghly: হুগলির উত্তরপাড়াতেও রয়েছেন বড়মা। আনুমানিক ৫০০ বছর ধরে পূজিত তিনি। উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির বড়মার খ্যাতি যেমন বিশ্বজুড়ে, হুগলির বড়মা-কে ঘিরেও প্রকাশ্যে নানা আশ্চর্য কাহিনি। জাগ্রত এই কালীপ্রতিমা দর্শন করলে নাকি মনস্কামনা পূরণ করেন দেবী। নৈহাটির মতো স্থায়ী মন্দিরে হয় দেবীর পুজো।
কীভাবে হুগলির বড় মায়ের পুজো শুরু হল?
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, একসময় মন্দিরের পাশে এক নদী বয়ে যেত। সেই নদীর পাড়েই এক তান্ত্রিক তন্ত্র সাধনা করতেন। তিনিই নদীর জলে বড়মা-র একটি শিলামূর্তি পান। তারপর ওই তান্ত্রিকই বিশাল এক মাটির কালীমূর্তি তৈরি করে শুরু করেন কালীপুজো। বড়মার ওই শিলামূর্তি এখন গ্রামের দক্ষিণপাড়ার এক ব্রাহ্মণের পরিবারে রয়েছে। কালীপুজোর সময় ওই শিলামূর্তি মন্দিরে নিয়ে আসা হয়। দেবীর মন্দিরে পঞ্চমুণ্ডির আসনে ব্রাহ্মণ পুজো করেন।
কত বছর ধরে বড় মায়ের পুজো হচ্ছে?
উত্তরপাড়ার বৈঁচিগ্রামে আনুমানিক ৫০০ বছর ধরে পুজো হচ্ছে বড়মার। লক্ষ্মীপুজোর দিন থেকে শুরু হয় ২২ ফুট উঁচু বিগ্রহের কাঠামো পুজো। গত ১৭ বছর ধরে বড়মার মূর্তি তৈরি করছেন শিল্পী রমেশ হাজরা। তাঁর দাবি, “প্রতি বছর শাল কাঠ দিয়ে মূর্তির কাঠামো তৈরি হয়। এরপর তিনদিন ধরে চলে কাঠামোর উপর খড় বাঁধার কাজ। সেই কাজ শেষ হলে শুরু হয় মাটি লেপা।” মাটির কাজ আগে শেষ হলে, শুধুমাত্র কালীপুজোর দিনই সকালে প্রতিমা রং করা হয়। ভুষোকালি, নীলের ডেলা ও গদের আঠা দিয়ে তৈরি এই রঙে রক্তবর্ণা দেবীর জীবের উপরে দাঁত নেই।
দেবীর দাঁত নেই কেন?
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, বড়মার বয়স হয়ে বলে সামনের ওই দাঁতটি পড়েছে। দেড় কাহন খড়, ৩০ বস্তা এঁটেল মাটি ও ১৫ বস্তা গঙ্গামাটিতে তৈরি বিগ্রহের ডান পা থাকে মহাদেবের বুকের উপর। কালীপুজোর দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে বড়মা-কে সাজানো। মধ্যরাতে শুরু হয় পুজো, চলে নিশিভোর পর্যন্ত।
দেবীর পুজো কবে ও কখন শুরু হয়? Witness the Kali Puja of Boro Maa in Hooghly
কালীপুজোর দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে বড়মা-কে সাজানো হয়। মধ্যরাতে শুরু হয় পুজো, নিশিভোর পর্যন্ত পুজো চলে। প্রতি বছর ভাইফোঁটার দিন বড়মার বিসর্জন হয়। জেনে রাখবেন, হুগলির মন্দিরে দক্ষিণা কালীরূপে পূজিত হন বড় মা।