Why Donald Trump wants to acquire Greenland: মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস জানায় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়নের জন্য গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিভিন্ন উপায় দেখছেন। কিন্তু ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন (Mette Frederiksen) বলেছেন যে গ্রিনল্যান্ড – যা ডেনমার্কের একটি অংশ তা বিক্রির জন্য নয় এবং গ্রিনল্যান্ডে যদি আমেরিকা সামরিক অভিযান চালায়, তবে ন্যাটো সামরিক জোটের (NATO military alliance) সমাপ্তি ঘটবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প কেন গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করতে চান? (Why Donald Trump wants to acquire Greenland)
i) ভৌগোলিক সুবিধা
একসময় ডেনমার্কের উপনিবেশ থাকা গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের একটি স্বশাসিত অঞ্চল। এটি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝে, কানাডা থেকে বাফিন উপসাগরের ওপারে অবস্থিত। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় এর কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ে এবং এখানে আমেরিকার একটি বিশাল বিমানঘাঁটি রয়েছে, পিটুফিক স্পেস বেস, যা আগে থুলে বিমান ঘাঁটি নামে পরিচিত ছিল। গ্রিনল্যান্ড থেকে আমেরিকা, রাশিয়া, চিন, এমনকি উত্তর কোরিয়া থেকে আসা যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র চিহ্নিত করতে ও আটকাতে পারবে। একই ভাবে, গ্রিনল্যান্ড থেকে তারা খুব সহজেই এশিয়া বা ইউরোপের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও জাহাজ পাঠাতে পারবে।
ii) দুর্লভ খনিজ পদার্থে পরিপূর্ণ
গ্রিনল্যান্ড ৮,৩৬,০০০ বর্গমাইলের একটি সম্পদপূর্ণ দ্বীপ। এখানে প্রচুর পরিমাণে দুর্লভ খনিজ পদার্থ রয়েছে, যা মোবাইল ফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক গ্যাজেটে ব্যবহার করা হয়। এমনকি এগুলো বোমা ও অন্যান্য অস্ত্র তৈরিতেও লাগে। বর্তমানে, চিন এই খনিজ পদার্থগুলোর প্রধান সরবরাহকারী এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য এই শিল্পের ওপর তাদের কর্তৃত্ব দেখাচ্ছে। ২০২১ সালে, গ্রিনল্যান্ড ইউরেনিয়াম উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে একটি আইন পাশ করে।
iii) উত্তর মেরুর বরফ গলন
গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে উত্তর মেরুর বরফ গলছে, ফলে এই অঞ্চলে নতুন জলপথ তৈরি হচ্ছে। তাই গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার এখন আরও সহজে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সেই জন্য সব প্রধান শক্তি তাদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে, যাতে বাণিজ্যের পথ নতুন করে তৈরি করা যায়। ট্রাম্প জলবায়ু সংকটকে ‘সবচেয়ে বড় ধাপ্পা’ (greatest con job) বললেও, গ্রিনল্যান্ড এবং এর আশেপাশের এলাকাগুলোতে রাশিয়া বা চিনের থেকে নিজেদের অবস্থান আগে থেকেই শক্তিশালী করতে চাইছে আমেরিকা।
ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদের গুরুত্বকে কম করে দেখিয়েছেন। গত মাসে তিনি মিডিয়ার সাথে কথা বলার সময় জোর দিয়ে বলেছিলেন, “আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড দরকার, খনিজ সম্পদের জন্য নয়।” কিন্তু ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তার প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ জানান যে ট্রাম্প ডেনমার্কের এই দ্বীপের প্রাকৃতিক সম্পদের দিকে নজর রাখছেন। একটি সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় ওয়াল্টজ বলেন যে সরকারের গ্রিনল্যান্ডের প্রতি আগ্রহের কারণ হল এর “গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ” এবং “প্রাকৃতিক সম্পদ”।
গ্রিনল্যান্ডের উপর কি কোনও বিপদ আসছে?
মার্কিন সেনারা মাদুরোকে (Maduro) তাঁর বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পরের দিন, ট্রাম্প “জাতীয় নিরাপত্তার কথা ভেবে” গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা (Why Donald Trump wants to acquire Greenland) আবার প্রকাশ করেন। হোয়াইট হাউসের চিফ অফ স্টাফ (পলিসি) স্টিফেন মিলারও সেই একই কথা বলেন, যা থেকে আর্কটিক অঞ্চলের ওপর আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার… এটা এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গা। গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়ার ও চিনের অনেক জাহাজ দেখা যায়।” যদিও প্রথমে তিনি এই বিষয়ে কথা বলতে চাননি। “জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন, এবং ডেনমার্ক সেটা করতে পারবে না।”
ন্যাটোর জন্য যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের মানে কী?
যদি আমেরিকা গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেয়- ট্রাম্প এখনও পর্যন্ত এই সম্ভাবনা বাতিল করেননি, তাহলে ন্যাটো জোট ভেঙে যেতে পারে। ফ্রেডেরিকসেন সোমবার বলেন, “যদি আমেরিকা অন্য কোনও ন্যাটো দেশের উপর সামরিক হামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে, যার মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যে নিরাপত্তা পাওয়া যাচ্ছে, সেটাও বন্ধ হয়ে যাবে।”
মঙ্গলবার, ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলোর নেতারা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে ন্যাটোর সদস্য হিসেবে, যার মধ্যে আমেরিকাও আছে, তাদের একসঙ্গে আর্কটিকের নিরাপত্তা বজায় রাখতে হবে।
“গ্রিনল্যান্ড সেখানকার মানুষের। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের আছে”, ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, পোল্যান্ড, ইতালি, স্পেন ও ডেনমার্কের নেতারা এক বিবৃতিতে জানান। “ন্যাটো এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আর্কটিক অঞ্চল তাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং ইউরোপীয় মিত্ররা এক্ষেত্রে এগিয়ে আসছে।”