Which is the most expensive substance in the world: আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন যে মাত্র এক গ্রাম পদার্থ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তি উৎপন্ন করতে পারে? আর এই পদার্থই সবচেয়ে দামি। বলা হয়, যদি এর এক গ্রাম বিস্ফোরিত হয়, তাহলে যে শক্তি নির্গত হবে তা চারটি হিরোশিমা পারমাণবিক বোমার সমান হবে। বিশ্বের সবচেয়ে দামি এই জিনিসটির নাম “অ্যান্টিমেটার”। এই পদার্থের এক গ্রাম এতটাই দামি যে এটি কেবল একটি বা দু’ টি নয়, বরং ১০০টি ছোট দেশ কিনতে পারে।
অ্যান্টিম্যাটারের দাম কত? Which is the most expensive substance in the world
বিবিসি সায়েন্স ফোকাসের ২০২৫ সালের এক রিপোর্ট অনুসারে ও গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুসারে, প্রতি গ্রামে ৫৯.৮ ট্রিলিয়ন ডলার (৪৯ ট্রিলিয়ন পাউন্ড) মূল্যের হল অ্যান্টিম্যাটার। অর্থাৎ মাত্র এক গ্রামের খরচ ভারতের সমগ্র বার্ষিক বাজেটের (প্রায় ৫০ লক্ষ কোটি টাকা) চেয়ে বহুগুণ বেশি। আসলে, অ্যান্টিম্যাটার বায়ুমণ্ডলে বা ভূগর্ভে পাওয়া যায় না। পরিবর্তে, এটি পরীক্ষাগারে উৎপাদন করা হয় এবং মহাকাশ-সম্পর্কিত প্রজেক্টে ব্যবহৃত হয়।
অ্যান্টিম্যাটার কীসের জন্য ব্যবহার করা হয়?
অ্যান্টিম্যাটার চিকিৎসা ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে, বিশেষ করে ক্যান্সারের চিকিৎসায় এটি। যেহেতু অ্যান্টিম্যাটারের শক্তি ঘনত্ব সাধারণ জ্বালানির তুলনায় অনেক বেশি, তাই এটি রকেট জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্তমানে মঙ্গল গ্রহে পৌঁছাতে ৭-৯ মাস সময় লাগে, কিন্তু অ্যান্টিম্যাটার রকেট পৌঁছাতে মাত্র ১ মাস সময় লাগতে পারে। এটি সমগ্র ভারতকে ১০-১২ দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে।
এই অ্যান্টিম্যাটার কোথায় পাওয়া যায়?
১৯৯৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত, বিশ্বব্যাপী মাত্র ১০ ন্যানোগ্রাম অ্যান্টিম্যাটার উৎপাদিত হয়েছে। এই পরিমাণ অ্যান্টিম্যাটার এক সেকেন্ডের জন্যও একটি বাল্ব জ্বালাতে পারবে না। কিন্তু এটি উৎপাদন করতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে, একটি পরীক্ষাগারে এক গ্রাম অ্যান্টিম্যাটার তৈরি করতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২৫ মিলিয়ন বিলিয়ন কিলোওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। তদুপরি, এক গ্রাম অ্যান্টিম্যাটার তৈরি করতে বিশ্বের প্রত্যেককে এক বছর ধরে একটানা কাজ করতে হবে। জানিয়ে রাখি, প্রতি গ্রাম অ্যান্টিম্যাটার তৈরি করতে ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হবে।
