Thursday, June 4, 2026
Homeখবরপশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের খবর!

পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের খবর!

Two Cases of Nipah Virus Detected in West Bengal: পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের অন্তত দুটি ঘটনা চিহ্নিত করা গিয়েছে। সংক্রমণ ছড়ানো বন্ধ করতে রাজ্যকে সাহায্য করার জন্য একটি ‘ন্যাশনাল জয়েন্ট আউটব্রেক রেসপন্স’ (National Joint Outbreak Response) দল পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব (Two Cases of Nipah Virus Detected in West Bengal) এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

নিপা ভাইরাস (Nipah Virus) ও এর প্রভাব

নিপা মূলত বাদুড়, শূকর, কুকুর ও ঘোড়ার মতো প্রাণীদের মধ্যে হওয়া একটি ভাইরাসঘটিত রোগ। তবে আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে আসা মানুষের মধ্যেও এটি ছড়াতে পারে এবং মারাত্মক অসুস্থতার কারণ হতে পারে। ফল বা খেজুরের রসের মতো খাবার, যা কোনও আক্রান্ত প্রাণীর, বিশেষত বাদুড়ের দেহ থেকে নির্গত তরল দ্বারা দূষিত, তার মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে।

সাধারণত নিপা জ্বর ও মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় এবং এটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী হতে পারে।

ভারতে নিপার পূর্ব পরিসংখ্যান

ভারতে নিপার প্রকোপ খুব বেশি দেখা যায় না। সম্প্রতি কেরালায় এর সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল। এর আগে ২০০১ সালে পশ্চিমবঙ্গে নিপার প্রাদুর্ভাব হয়েছিল। ভারতে অস্ট্রেলিয়ায় তৈরি একটি পরীক্ষামূলক মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি মজুদ আছে, যা রোগের প্রথম দিকে দেওয়া হলে মারাত্মক অসুস্থতা থেকে বাঁচাতে পারে।

আক্রান্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে রোগের বিস্তার রোধ করা খুবই জরুরি, কারণ নিপাতে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। ২০০১ ও ২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে এই রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় মৃত্যুর হার ছিল যথাক্রমে ৬৮% ও ১০০%। ২০১৮ সালে কেরালায় প্রাদুর্ভাবের সময় এই হার ছিল ৯১%, যেখানে অল্প কয়েকজন আক্রান্ত ব্যক্তি বেঁচে গিয়েছিলেন।

তবে এই রোগ কোভিড-১৯ বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো দ্রুত ছোঁয়াচে নয়, তাই অল্প সময়ে অনেক বেশি মানুষ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম।

নিপা ভাইরাস রোধে ন্যাশনাল রেসপন্স টিম

জাতীয় মোকাবিলা দলটিতে (national response team) রয়েছেন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ হেলথ অ্যান্ড পাবলিক হাইজিন, কলকাতা; ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি (NIV), পুনে; ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ এপিডেমিওলজি (NIE), চেন্নাই; এইমস কল্যাণী; এবং ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়াইল্ডলাইফ, মিনিস্ট্রি অফ এনভায়রনমেন্ট, ফরেস্ট এন্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ বিভাগের সদস্যরা।

যেকোনো প্রাদুর্ভাবের মোকাবিলায় কেন্দ্র এখন ‘এক-স্বাস্থ্য’ ( ‘one-health’ approach) নীতি অনুসরণ করে উদ্ভিদ ও প্রাণী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বহু-বিভাগীয় দল গঠন করে।

এই জাতীয় রেসপন্স টিমের (national response team) পাশাপাশি, জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় করার জন্য দিল্লির ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (NCDC)-এর অধীনে থাকা পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (PHEOC)-কেও সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Mimi Banerjee
Mimi Banerjee
Passionate content writer with expertise in a variety of areas, including health, environment, and lifestyle, to name a few. Seeking to utilize my writing experience as a Content Writer for an organization that fosters innovative thoughts.
RELATED ARTICLES

Most Popular