Trademark Registration in Kolkata for New Business: স্বতন্ত্র চিহ্ন, লোগো, শব্দ, বাক্যাংশ, নকশা, সুর, রঙ, প্রতীক অনুসারে ট্রেডমার্ক বেছে নেওয়া হয়। এটি আপনার ব্যবসার পরিচয়। এই পরিচয় ছাড়া আপনার ব্যবসা জনসাধারণের কাছে বৈধ নয়। আইনও বিরোধিতা করবে। অন্যান্য ব্যবসাও নাহলে আপনার ব্যবসাকে অনুকরণ করে এগিয়ে যেতে পারে। তাই ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন একান্ত জরুরি।
কলকাতায় ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনের জন্য কারা আবেদন করতে পারবেন? Who are Eligible for Trademark Registration in Kolkata for New Business
- যে কোনও ভারতীয় নাগরিক নিজের নামে ট্রেডমার্কের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
- একটি ট্রেডমার্ক দুই বা ততোধিক ব্যক্তি রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন।
- একটি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কলকাতায় মালিকের নামে ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন।
- বিদেশী ব্যক্তি এবং কোম্পানিগুলি কলকাতায় ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করতে পারে।
- কোনও সমিতি তাদের নাম, লোগো বা পরিষেবা সুরক্ষিত রাখার জন্য একটি ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করতে পারে।
কলকাতায় ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনের প্রকার
- ডিভাইস মার্ক: এই ট্রেডমার্ক গ্রাফিক ডিজাইন, ছবি ব্যবহার করে। সহজভাষায় যাকে বলে লোগো।
- সমষ্টিগত চিহ্ন: একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পণ্য এবং পরিষেবা উভয়কেই প্রতিনিধিত্ব করে।
- সার্টিফিকেশন মার্ক: একটি সার্টিফিকেশন মার্ক পণ্য বা পরিষেবাকে সার্টিফিকেশন করে যা ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট মান পূরণ করে।
- রঙের চিহ্ন: একটি নির্দিষ্ট রঙ বা অন্য রঙের সংমিশ্রণ যা অন্যদের থেকে আলাদা।
- আকৃতি চিহ্ন: গ্রাহকরা সহজেই আকৃতির উপর ভিত্তি করে পণ্যগুলি সনাক্ত করতে এবং কিনতে পারেন।
- প্যাটার্ন মার্ক: ব্যতিক্রমী নকশার মাধ্যমে আপনার ব্র্যান্ডটিকে অনন্য করে তোলে।
- সাউন্ড মার্ক: যে শব্দ শুনে পণ্য বা পরিষেবা সনাক্ত করা যায়।
- প্রতীক চিহ্ন: একটি ট্রেডমার্কের ভিজ্যুয়াল ডিজাইন, ছবি, লোগো ইত্যাদির মিশ্রণ এটি।
- শব্দ চিহ্ন: কোম্পানির নাম, পণ্যের নাম বিভিন্ন ডিজাইনে প্রেজেন্ট করা হয়।
কলকাতায় ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনের জন্য ফি কত?
একজন ব্যক্তি, স্টার্টআপ বা MSME-এ ই-ফাইলিং এর জন্য ৪,৫০০ টাকা এবং ফিজিক্যাল ফাইলিংয়ের জন্য ৫,০০০ টাকা লাগে।
কোম্পানি বা অংশীদারিত্বের জন্য ই-ফাইলিং এর খরচ হল ৯,০০০ টাকা, আর আপনার কাছে এই ধরণের কোনও ব্যবসার জন্য MSME সার্টিফিকেট থাকলে ৫০% ছাড় পাবেন। ফিজিক্যাল ফাইলিংয়ের জন্য ১০,০০০ টাকা লাগবে।
কলকাতায় ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনের জন্য কীভাবে আবেদন করবেন? How to Apply for Trademark Registration in Kolkata for New Business
নিজের জন্য উপযুক্ত ট্রেডমার্ক বেছে নিয়ে, পর্যাপ্ত ট্রেডমার্ক ক্লাস বুঝে, প্রথমে প্রয়োজনীয় কিছু নথি সংগ্রহ করুন:
- ফর্ম টিএম-এ
- আধার কার্ড, প্যান কার্ড, পাসপোর্ট, ইউটিলিটি বিল, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ইত্যাদি।
- ব্যবসায়িক প্রমাণপত্র
- লোগো/ওয়ার্ডমার্কের পরিষ্কার JPEG ছবি
- প্রয়োজনে TM-48 অর্থাৎ পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি
- এমএসএমই সার্টিফিকেট (যদি প্রযোজ্য হয়)
এবার আপনি ট্রেডমার্ক আবেদনপত্র অর্থাৎ TM-A ফর্মটি পূরণ করে অফিসিয়াল আইপি ইন্ডিয়া পোর্টালের মাধ্যমে বা নিকটতম ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রি অফিসেও জমা দিতে পারেন।
তারপর ব্যক্তি, স্টার্টআপ এবং কোম্পানি নির্বিশেষে প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হবে। এবার ট্রেডমার্ক অফিস আপনার আবেদন খতিয়ে দেখবে।
রেজিস্ট্রার আপনার ট্রেডমার্ক আবেদন অনুমোদন করলে, এটি চার মাসের জন্য ট্রেডমার্ক জার্নালে প্রকাশিত হবে। আইপি ইন্ডিয়া পোর্টালেও তা পাওয়া যাবে।
আপনার ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রার কর্তৃক অনুমোদিত হয়ে গেলে একটি অফিসিয়াল ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট পাবেন। প্রতি দশ বছর অন্তর ট্রেডমার্কটি রিনিউ করতে হবে।
ট্রেডমার্কের আবেদনের সময় কী কী সমস্যা হতে পারে?
মনে রাখবেন, এই আবেদনের সময় ভুলেও কোনও ভুল যাতে না হয়, কারণ যদি রেজিস্ট্রার কোনও সমস্যা খুঁজে পান, তাহলে আবেদনটি স্থগিত রাখা হবে। এক্ষেত্রে আপনি আবেদনের ভুলগুলি ৩০ দিনের মধ্যে সংশোধন করে নিতে পারেন।
যদি কোনও ব্যক্তি বা বিজনেস আপনার ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনের বিরোধিতা করে, তাহলে বিরোধিতার নোটিশ পাবেন। আপনাকে ২ মাসের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে হবে আপনি যে সঠিক তার সহায়ক নথি জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি রেজিস্টারের চোখে বিশ্বাসযোগ্য হলে আর কোনও সমস্যা হবে না।