The Truth About The US Trade Deal With India: ভারত জানিয়েছে যে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করছে, কারণ তারা একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে এবং শাস্তিমূলক শুল্ক কমাতে আগ্রহী।
নয়াদিল্লিতে শনিবার একজন ভারতীয় কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছেন, বাণিজ্য সম্পর্কিত বিষয়ে উভয়পক্ষের মধ্যেকার পার্থক্যগুলো কমিয়ে আনা হয়েছে (The Truth About The US Trade Deal With India)। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়ে বড় ধরনের কোন মতপার্থক্য নেই বলেই ঐ ব্যক্তি জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক আলোচনা ও আমেরিকার অবস্থান (The Truth About The US Trade Deal With India)
ওই কর্মকর্তা জানান, গত সপ্তাহে ভারতীয় আলোচকদের একটি দল ওয়াশিংটনে কর্মকর্তাদের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছে। ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা এবং রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতকে অভিযুক্ত করার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাঁর বক্তব্যের সুর কিছুটা নরম করেছেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে অন্তত দুবার কথা বলেছেন। ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেছিলেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে, যদিও এটি সম্ভবত একটি ধীর প্রক্রিয়া হবে।
ভারতের নমনীয় অবস্থান
রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আগের মত মোদী সরকার এই বিষয়ে সরাসরি বিরোধিতা করেনি। গত সপ্তাহে নয়াদিল্লি জানিয়েছে যে দেশের মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে জ্বালানি কেনা হবে। সরকারি পরিশোধনাগারগুলো জানিয়েছে যে তারা রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন যে ভারতের কাছে আমেরিকার কাছ থেকে আরও তেল কেনার ক্ষমতা রয়েছে।
ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য
রবিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিবাচক সুরে বলেছিলেন যে ভারত তার প্রতিশ্রুতি রাখবে। তিনি জানান, টেলিফোনে কথোপকথনে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁকে নিশ্চিত করেছেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের পরবর্তীকালে এই বিষয়ে অস্বীকার করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন যে তিনি তা বিশ্বাস করেন না।
ট্রাম্প বলেন, “আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে কথা বলেছি এবং তিনি বলেছেন যে তিনি রাশিয়ার তেলের বিষয়টি আর করবেন না। এতটুকুই।” তিনি আরও বলেন, ভারত যদি এই কেনা বন্ধ না করে, তবে তাকে ‘বিপুল শুল্ক’ দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত তুলনামূলক কম দামে তেল কিনে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান আমদানিকারক হয়ে উঠেছে। আমেরিকার চাপ থাকা সত্ত্বেও, রাশিয়ান তেল বর্তমানে ভারতের মোট আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পূরণ করে।