The Top 10 Biggest Cricket Stadiums in the World: ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যেকার দীর্ঘদিনের ক্রিকেটীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাদের স্টেডিয়ামগুলোর আকারের মধ্যেও দেখা যায়, যার ফলস্বরূপ বিশ্বের সবচেয়ে বড় দশটি স্টেডিয়ামের সবগুলোই এই দুটি দেশে অবস্থিত।
স্টেডিয়ামগুলোর আকার তাদের দর্শক ধারণক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে তুলনা করা হয়। এখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দশটি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একটি তালিকা দেওয়া হল। ক্রিকেট, খেলাধুলা, স্টেডিয়াম অথবা স্থাপত্যবিদ্যার প্রতি যাদের আগ্রহ আছে, বিশেষ করে স্থপতি ও ডিজাইনারদের জন্য এটি একটি চমৎকার তথ্যের উৎস।
বিশ্বের ১০টি বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়াম
১. নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম, আহমেদাবাদ, ভারত
১ লক্ষ ৩২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই স্টেডিয়ামটি প্রচলিত টাওয়ার ফ্লাডলাইটের পরিবর্তে এলইডি লাইট ব্যবহার করা অল্প কয়েকটি স্টেডিয়ামের মধ্যে অন্যতম। বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
১৯৮৩ সালে প্রথম নির্মিত হওয়ার পরে এটি ভেঙে ফেলা হয় এবং ২০২০ সালে সম্পূর্ণরূপে পুনর্নির্মাণ করা হয়। এর ছাদটি পিটিএফই (PTFE) মেমব্রেন দিয়ে তৈরি, যা হালকা ওজনের এবং আসন থেকে আলাদা করে ভূমিকম্প-প্রতিরোধী করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এছাড়াও, স্থাপত্য ও কাঠামোর জন্য কোনও স্তম্ভের প্রয়োজন না হওয়ায় দর্শকরা প্রতিটি স্থান থেকে স্টেডিয়ামের অবাধ দৃশ্য দেখতে পান।
স্টেডিয়ামটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে এর নিচের স্তরগুলো ছোট ইভেন্টের জন্য ব্যবহার করা যায় এবং সড়কের যানজট কমাতে এটি নিকটতম মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে স্কাইওয়াকের মাধ্যমে সংযুক্ত।
২. মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড, মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
স্থানীয়ভাবে ‘দ্য জি’ নামে পরিচিত স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণক্ষমতা ১,০০,০২৪, যা এটিকে বিশ্বের বৃহত্তম স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে অন্যতম করেছে। ১৮৫৩ সালে নির্মিত এই স্টেডিয়ামটি ১৯৫৬ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক, ২০০৬ সালের কমনওয়েলথ গেমস এবং ১৯৯২ ও ২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের মত বহু গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া ইভেন্টের আয়োজন করেছে।
এই স্টেডিয়ামটি শহর এবং ইয়ারা পার্কের মনোরম দৃশ্য দেখায়। কাঁচ ও ধাতব দিয়ে তৈরি এর ছাদ তিনটি বিশাল কাঁচের অ্যাট্রিয়ামকে সুরক্ষা দেয়, যা তিনটি প্রবেশপথে গিয়ে মিলিত হয়। সংস্কার করা স্টেডিয়ামটির একটি নতুন আকর্ষণ হল অস্ট্রেলিয়ান গ্যালারি অফ স্পোর্টস-এর সম্প্রসারণ, যা বর্তমানে ন্যাশনাল স্পোর্টস মিউজিয়ামের অংশ এবং যেখানে আধুনিক ইন্টারেক্টিভ ডিভাইসও বিদ্যমান।
৩. ইডেন গার্ডেন, কলকাতা, ভারত
১৮৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্টেডিয়ামটি ভারতের প্রাচীনতম ক্রিকেট স্টেডিয়াম, যে কারণে এটিকে ‘ভারতীয় ক্রিকেটের মক্কা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। ৬৬,৩৪৯ জন দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই স্টেডিয়ামটি বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপের মত গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে।
তৎকালীন ভারতের গভর্নর-জেনারেল লর্ড অকল্যান্ডের ইডেন বোনেদের (Eden sisters of Lord Auckland) নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছিল এবং গ্যালারিগুলোর নামকরণ করা হয়েছে ভারতের বিখ্যাত ক্রিকেটার ও সৈন্যদের নামে।
৪. শহীদ বীর নারায়ণ সিং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, রায়পুর, ভারত
৬৫,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই স্টেডিয়ামটি ২০০৮ সালে নির্মিত হয়। এটি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL) দল দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের দ্বিতীয় হোম ভেন্যু। স্টেডিয়ামটির নামকরণ করা হয়েছে বীর নারায়ণ সিং বিনঝওয়ারের নামে, যিনি সোনখান এলাকার একজন জমিদার ছিলেন এবং ছত্তিশগড়ে ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
এখন পর্যন্ত কোনও আন্তর্জাতিক ইভেন্টের আয়োজন না করা সত্ত্বেও, এটি আধুনিক সুবিধা পেয়েছে এবং দেশের অন্যতম সেরা ক্রীড়া মাঠ হিসেবে বিবেচিত হয়।
৫. পার্থ স্টেডিয়াম, পার্থ, অস্ট্রেলিয়া
পার্থ স্টেডিয়াম ২০১৭ সালে নির্মিত একটি বহুমুখী ক্রীড়া ভেন্যু, যেখানে ৬০,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতা রয়েছে। এটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া লিগ এবং বৃহৎ আকারের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্টের আয়োজন করে থাকে। ফ্রিমান্টেল সাগরের নিকটবর্তী হওয়ায় স্টেডিয়ামটি ব্যবহারকারীদের মনোরম দৃশ্য এবং তীব্র গরম থেকে আরাম পেতে সহায়ক বাতাস উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়।
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে অন্যতম এই স্টেডিয়ামটি শহরের পরিত্যক্ত ভূমিকে পুনরুজ্জীবিত করে একটি প্রাণবন্ত পার্ক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার প্রকল্প ছিল। এটি নগর পরিকল্পনার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
৬. রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, হায়দ্রাবাদ, ভারত
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে অন্যতম রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। আইপিএল দল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের এই মাঠটিতে ৬০,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতা রয়েছে। ভারতীয়রা ক্রিকেটকে ধর্মের মত মনে করে, এবং এর প্রমাণ পাওয়া যায় এই স্টেডিয়ামে, যেখানে ঘরের দল যাতে পরাজিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে একটি মন্দির স্থাপন করা হয়েছে।
আগে, স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমগুলোর ভুল অভিমুখে থাকার কারণে যা হিন্দু স্থাপত্য নকশার বাস্তু দোষ অনুসারে এটিকে দলের জন্য খারাপ মনে করা হত। এই সমস্যা সমাধানের জন্য মন্দির নির্মাণের পর বিশ্বাস করা হয় যে দলের ভাগ্য পরিবর্তিত হয়েছে, এবং তারা প্রায়শই নিজেদের স্টেডিয়ামে জয়লাভ করে।
৭. গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম, ত্রিভান্দ্রম, ভারত
২০১৪ সালে নির্মিত এবং ৫৫,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন স্টেডিয়ামটি ভারতের প্রথম ডিবিওটি (DBOT) মডেল আউটডোর স্টেডিয়াম ছিল। কেরালা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন পরিচালনা সংস্থা এটিকে লিজ নিয়েছে এবং প্রথম ১৫ বছরের জন্য কারিয়াভাটম স্পোর্টস ফ্যাসিলিটিস লিমিটেড (Kariavattom Sports Facilities Limited- একটি প্রাইভেট কোম্পানি) মাঠটির মালিকানা ধরে রাখবে।
এখানে টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন ও ভলিবলের মতো ইনডোর খেলার সুবিধা রয়েছে। এছাড়াও, এখানে একটি অলিম্পিক-আকারের সুইমিং পুল, স্পা এবং একটি ক্লাবহাউস বিদ্যমান।
৮. জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়াম, কোচি, ভারত
১৯৬৬ সালে নির্মিত এই স্টেডিয়ামটি নানা ধরনের ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ৫৫,০০০ দর্শক বসতে পারে। স্টেডিয়ামটির বিশেষত্ব হল এর ছাদ, যা তৈরি হয়েছে গ্যালভালুম শিট ও এম.এস. ট্রাস দিয়ে, যা ক্ষয় ও মরচে রোধ করতে সক্ষম। এছাড়া, স্টেডিয়ামের বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা আছে, যা খুব শীঘ্রই স্থাপন করা হবে।
৯. ডিওয়াই পাতিল স্পোর্টস স্টেডিয়াম, নবি মুম্বাই
২০০৮ সালে নির্মিত ডি ওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৫৫,০০০ এবং এটি হাফিজ কন্ট্রাক্টর কর্তৃক নকশা করা হয়েছে। উদ্বোধনের পর থেকে এই স্টেডিয়ামটি অনেক আইপিএল ম্যাচের আয়োজন করেছে এবং এটি আইপিএল দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হোম ভেন্যু হিসেবে পরিচিত। এখানে কনসার্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজিত হয়েছে।
এই স্টেডিয়ামের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এর ক্যান্টিলিভার্ড ফুল-উইং ছাদ, যা জার্মানি থেকে আমদানি করা কাপড় দিয়ে তৈরি এবং যা সকলের জন্য অবাধ দৃশ্য নিশ্চিত করে।
১০. অ্যাডিলেড ওভাল, অ্যাডিলেড, অস্ট্রেলিয়া
১৮৭১ সালে এটি নির্মিত হয়েছিল, এবং এখানে ৫৩,৫৮৩ জন দর্শক বসতে পারেন। এই স্টেডিয়ামটি নগর পরিকল্পনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ এবং এটি অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া স্থাপত্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। নির্মাণের পর থেকে স্টেডিয়ামটি সামাজিকভাবে এবং সাংস্কৃতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
স্টেডিয়ামটিকে তিনটি আলাদা প্যাভিলিয়ন হিসেবে গণ্য করা হয়, এবং প্রতিটি প্যাভিলিয়ন তার আশেপাশের পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই প্যাভিলিয়নগুলোর মধ্যে যে ফাঁকা স্থান রয়েছে, তা স্টেডিয়ামের চিরাচরিত আবদ্ধ বৈশিষ্ট্যকে ভেঙে দিয়ে চারপাশের দৃশ্য দেখতে পাওয়ার সুযোগ করে এবং এর প্রেক্ষাপটের সাথে একটি সংযোগ স্থাপন করে।