Kolkata Metropolitan Development Authority Plan For The Pedestrian Underpasses: ইএম বাইপাসের (EM Bypass) নিচে থাকা অব্যবহৃত জলের দুটি পাইপলাইনকে (Water Conduit) পথচারীদের ব্যবহারের জন্য আন্ডারপাসে পরিবর্তন করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি সায়েন্স সিটি (Science City)-র কাছে এবং অন্যটি সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)এর নিকটে অবস্থিত। আশা করা যাচ্ছে যে এই দুটি আন্ডারপাসের নির্মাণ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে অথবা স্কুল বোর্ডের পরীক্ষার আগে সম্পন্ন হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা KMDA জানিয়েছে যে বাইপাসে পথচারী এবং যানবাহন চলাচল উভয়ই বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই আন্ডারপাসগুলি জরুরিভাবে প্রয়োজন।
কেএমডিএ (KMDA) থেকে জানানো হয়েছে যে সায়েন্স সিটি-র আন্ডারপাসটি চালু হওয়ার পরে রাস্তার উপরের একটি পথচারী ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই আন্ডারপাসটির সঠিক অবস্থান হল উত্তর পঞ্চান্নগ্রাম, আম্বেদকর সেতুর কাছাকাছি।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা KMDA জানিয়েছে যে বাইপাসে পথচারী এবং যানবাহন চলাচল উভয়ই বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই আন্ডারপাসগুলি জরুরিভাবে প্রয়োজন।
কেন নেওয়া হল এই উদ্যোগ?
নতুন আন্ডারপাস তৈরি করার চেয়ে পুরোনো এবং অব্যবহৃত পাইপলাইনগুলোকে বা নালাগুলিকে আন্ডারপাসে রূপান্তরিত করা বেশি লাভজনক বলে প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিটি সংস্কারের জন্য ২ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে, যেখানে হায়াত (Hyatt) এবং বেলেঘাটায় নতুন আন্ডারপাস তৈরি করতে ১৪ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
কেএমডিএ-এর একজন কর্মকর্তা বলেন, “নতুন আন্ডারপাস তৈরি করার তুলনায় এই সংস্কার কাজের খরচ অনেক কম। হায়াত এবং বেলেঘাটায় যখন আমরা নতুন আন্ডারপাস তৈরি করেছিলাম, তখন সেগুলোর প্রতিটির জন্য প্রায় ১৪ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। কিন্তু এখন আমরা প্রতিটি নতুন আন্ডারপাসের জন্য ২ কোটি টাকা খরচ করব।”
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে পথচারীদের জন্য তৈরি করা ফুটওভারব্রিজগুলো সাধারণত কলকাতা শহরে ব্যর্থ হয়েছে। এগুলো তৈরি করার জন্য জায়গা খুঁজে পাওয়া কঠিন, এবং এর ফলে প্রতিদিনের যানবাহন চলাচলে সমস্যাও হয় এবং দেরিও হয়।
পাইপলাইনগুলির ইতিহাস
১৯৭০-এর দশকে যখন ধাপে ধাপে ই.এম.বাইপাস তৈরি হয়, তখন রাস্তার দু’পাশে ছিল অসংখ্য জলাশয় এবং জলাভূমি। তখন এই পাইপলাইনগুলি তৈরি করা হয়েছিল রাস্তার একপাশের জলাশয়ের সঙ্গে অন্যপাশের জলের স্তরের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, সেই সমস্ত জলাশয় ভরাট করে তৈরি হতে থাকে বহুতল, শপিং মল এবং হাসপাতাল। ফলে, এই পাইপলাইনগুলিও অপ্রয়োজনীয় এবং অব্যবহৃত হয়ে পড়েছিল। KMDA সেই অব্যবহৃত পরিকাঠামোকেই এবার নতুন করে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই উদ্যোগটি প্রশংসার যোগ্য হলেও, কিছু সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। প্রথম কথা হল এই দুটি আন্ডারপাসে কোনো এসক্যালেটর থাকছে না। পথচারীদের আন্ডারপাসে ৩০টি সিঁড়ি নেমে অন্য পাশের রাস্তায় পৌঁছানোর জন্য আরও ৩০টি সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হবে।
তবে KMDA জানিয়েছে যে চাহিদা থাকলে ভবিষ্যতে এসক্যালেটর বসানো হতে পারে, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের বিপুল খরচ প্রায় প্রতি বছর ১২ লক্ষ টাকা বাঁচানোর জন্য প্রাথমিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, এই পরিকল্পনাটি দূরদর্শিতার অভাবের পরিচয় দেয়। কারণ, সুবিধার অভাবে যদি মানুষ আন্ডারপাস ব্যবহার না করে, তবে পুরো প্রকল্পটি ব্যর্থ হতে পারে।
উল্লেখ্য, সাধারণত দেখা যায় যে কলকাতাবাসী সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে বা নির্দিষ্ট ক্রসিং ব্যবহার করে রাস্তা পারাপার করতে অনিচ্ছুক, এমনকি কোনও কোনও ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও রাস্তা ধরে পারাপার হতেই বেশি পছন্দ করে। তাই অন্যান্য পথচারী পরিকাঠামো যেখানে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে আন্ডারপাসগুলি সফল হবে কিনা তা সময় বলবে