Home পশ্চিমবঙ্গ মেট্রোর দরজায় ‘অ্যান্টি-ড্র্যাগ’ প্রযুক্তি! দুর্ঘটনা এড়াতে এই নতুন ব্যবস্থা

মেট্রোর দরজায় ‘অ্যান্টি-ড্র্যাগ’ প্রযুক্তি! দুর্ঘটনা এড়াতে এই নতুন ব্যবস্থা

Kolkata Metro to Install Anti-Drag Technology
Kolkata Metro to Install Anti-Drag Technology

Kolkata Metro​ to Install Anti-Drag Technology: মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ তাদের বর্তমান সব ট্রেনের দরজায় নতুন একটি প্রযুক্তি সংযোজন করতে যাচ্ছে। এই প্রযুক্তিটি নিশ্চিত করবে যে, দরজা বন্ধ হওয়ার সময় কোনও ব্যক্তি বা তার পোশাক দরজায় আটকে গেলে ট্রেন যেন তাকে টেনে নিয়ে (Dragging) যেতে না পারে।

২০১৯ সালের জুলাই মাসে পার্ক স্ট্রিট স্টেশনে ঘটা একটি দুর্ঘটনায় একজন যাত্রী প্রাণ হারান। এরপর, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দিল্লির ইন্দ্রলোক স্টেশনে মেট্রোর দরজায় ৩৫ বছর বয়সী এক মহিলার শাড়ি আটকে গেলে তিনিও মারা যান। এই দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতেই যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রী সুরক্ষায় ‘অ্যান্টি-ড্র্যাগ’ প্রযুক্তি (Kolkata Metro​ to Install Anti-Drag Technology)

দিল্লি মেট্রোর দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে, যার দরুন দিল্লিতে অ্যান্টি-ড্র্যাগ প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হয়েছে। কলকাতায়, বর্তমানে যে ট্রেনগুলো আছে, সেগুলোকে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে (Retrofitment)।

মেট্রো সূত্র মারফত জানা যায়, এই সিস্টেমে সজ্জিত ট্রেনের প্রথম ব্যাচটি আগামী বছরের জুলাই মাসের মধ্যে ব্লু লাইন এর জন্য প্রস্তুত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

একজন রেল কর্মকর্তা জানান, “অ্যান্টি-ড্র্যাগ ব্যবস্থা একটি অত্যাধুনিক বৈশিষ্ট্য। যদি কোনও কারণে পোশাকের অংশ বা অন্য কিছু দরজার মধ্যে আটকে যায় এবং ট্রেন চলতে শুরু করে, তাহলে দরজার ওপর চাপ সৃষ্টি হবে এবং ট্রেনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরুরি ব্রেক (Emergency Brakes) কষে থেমে যাবে।”

কলকাতা মেট্রোর পরিকল্পনা

মেট্রো রেলওয়ের মুখপাত্র জানান, “রেলওয়ে বোর্ড বর্তমানে কলকাতা মেট্রো রেলওয়ের ব্লু লাইনে রেট্রোফিটমেন্টের ভিত্তিতে উপলব্ধ সমস্ত রেকে অ্যান্টি-ড্র্যাগ বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। খুব শীঘ্রই এই কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে।

যোগাযোগ-ভিত্তিক ট্রেন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (CBTC- communications-based train control system) সংযুক্ত সমস্ত নতুন রেকে এই বৈশিষ্ট্যগুলি যুক্ত করার জন্য ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি (ICF)-কে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ICF এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে প্রথম থেকেই CBTC রেকে এই অ্যান্টি-ড্র্যাগ বৈশিষ্ট্যগুলি সরবরাহ করা যায়।” তিনি আরও বলেন যে কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে সমস্ত রুটে ট্রেনের সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করতে চায়।

জার্মানিতে অবস্থিত রেলের ব্রেকিং সিস্টেম প্রস্তুতকারক একটি প্রতিষ্ঠান এই সিস্টেমটি (Kolkata Metro​ to Install Anti-Drag Technology) তৈরি করেছে। এই সংস্থার ইঞ্জিনিয়াররা বর্তমান মেট্রো ট্রেনগুলোতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেগুলোকে উন্নত করবেন। সম্প্রতি এই প্রযুক্তিটি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি শিল্প মেলায় দেখানো হয়েছিল।

পূর্বে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা

২০১৯ সালের ১৩ই জুলাই তারিখে, পার্ক স্ট্রিট স্টেশনে একটি মেট্রো রেলের বন্ধ দরজায় ৬৬ বছর বয়স্ক সজল কুমার কাঞ্জিলালের ডান হাত আটকে গিয়েছিল। তিনি তাড়াহুড়ো করে ট্রেনটিতে উঠতে চেষ্টা করেছিলেন। ট্রেনটি যখন চলতে শুরু করে, তখন তার ডান হাতের মুঠি, যেটিতে তিনি টোকেন ধরেছিলেন, বগির ভেতরে ছিল এবং বাকি অংশ বাইরে ছিল। ট্রেনটি তাকে প্ল্যাটফর্মের ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে যায় এবং তার মৃতদেহটি সুড়ঙ্গে পড়ে যায়। পরবর্তীতে মেট্রো কর্মকর্তারা জানান যে কাঞ্জিলালের হাতের তালু নয়, বরং তার আঙুলগুলো দরজার ফাঁকে আটকে ছিল।

অন্যদিকে ২০২৩ সালের ১৪ই ডিসেম্বর, দিল্লির ইন্দ্রলোক স্টেশনে একজন মহিলা যাত্রীর শাড়ি ট্রেনের দরজার মাঝে আটকে গেলে তিনি মেট্রোর নিচে পড়ে যান। দু দিন পরে সফদরজং হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

প্রসঙ্গত, কলকাতা মেট্রোর একজন কর্মকর্তা বলেছেন, “এই অ্যান্টি-ড্র্যাগ প্রযুক্তিটি এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করবে। দরজায় কোন জিনিস আটকে থাকা সত্ত্বেও যেকোনো মুভমেন্ট বা নড়াচড়া জরুরি ভিত্তিতে ব্রেক করার জন্য একটি সংকেত দেবে।”

এটি ব্যস্ত সময়ে মেট্রোর একটি পরিচিত সমস্যা, যেখানে ভিড়ের কারণে অনেক সময় দরজা সঠিকভাবে বন্ধ হতে পারে না। প্রায়শই এমন হয়, কোনও যাত্রীর কিছু অংশ দরজার মধ্যে আটকে যায়। সাধারণত এই পরিস্থিতিতে, দরজা থেকে আটকে থাকা জিনিসটি সরিয়ে দরজা পুরোপুরি বন্ধ না করা পর্যন্ত ট্রেনটি চলাচল করে না। মেট্রোর ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, “এটি সেন্সর-ভিত্তিক একটি বাধা সনাক্তকরণ ব্যবস্থা। তবে প্ল্যাটফর্মে কোনও যাত্রী আটকে গেলে তার নিরাপত্তার জন্য এটি যথেষ্ট নয়।”

Exit mobile version