Kolkata kalighat kali temple timings & Entry Fee: ভারত, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান জুড়ে বিস্তৃত, ৫১ শক্তিপীঠের মধ্যে অন্যতম কালীঘাট। পুরান বলে, সতীর আত্মত্যাগে ক্রুদ্ধ মহাদেব যখন সহধর্মিনীকে কাঁধে তুলে তাণ্ডবে মত্ত, স্বয়ং বিষ্ণু তাঁকে শান্ত করতে সুদর্শন চক্র দেবীর অঙ্গ ছিন্ন করতে শুরু করেন। সেই সময় সতীর ডান পায়ের আঙুল কালীঘাটে পড়ে এবং সেখানেই পরে মন্দিরটি নির্মিত হয়। এখানকার অধিষ্ঠাত্রী দেবীকে কালিকা বলা হয়, যার নামানুসারে, আজ শহরের নাম কলকাতা।
আদি গঙ্গার তীরে অবস্থিত দেবী কালির এই মন্দির, কলকাতার জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান। ১৯ শতকে নির্মিত, ২০০ বছরের পুরনো এই মন্দির হাজার হাজার ভক্তের প্রাণ।
কলকাতার কালীঘাট কালি মন্দিরের ইতিহাস
চার হস্তে এ মন্দিরে বরাভয় প্রদান করেন দেবী ত্রিনয়নী। উজ্জ্বল শ্যামবর্ণে তিনি আলোকিত করেন ভক্তমন। কথিত আছে যে প্রথমে ছোট কুঁড়েঘরে পূজিত হতেন দেবী। পরে ষোড়শ শতাব্দীর গোড়ার দিকে রাজা মানসিংহ এই মন্দিরের সূচনা করেন। বরিশার সাবর্ণ রায় চৌধুরীর পরিবারে ১৮০৯ সালের দিকে দেবীর এই মন্দিরকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন।
মন্দিরটি ছিল গুপ্ত রাজবংশেরও সময়কালের। সেকালের মুদ্রায়, এ মন্দিরের প্রমাণ মিলেছে। ইতিহাস সাক্ষী, কুমারগুপ্ত প্রথমের পরে গুপ্ত রাজত্বকালে বিখ্যাত হয়ে ওঠা সবচেয়ে জনপ্রিয় তীরন্দাজ মুদ্রাগুলি কালীঘাটেই পাওয়া গিয়েছিল।
কালীঘাট কালী মন্দিরের নিয়মের হাইলাইটস। Kolkata kalighat kali temple timings & Entry Fee
- কালীঘাট কালী মন্দির কলকাতা এন্ট্রি ফি: কোন প্রবেশ মূল্য নেই
- কালীঘাট কালী মন্দির কলকাতা ফোন: নিষিদ্ধ
- কালীঘাট কালী মন্দির কলকাতা ঠিকানা: অনামি সংঘ, কালীঘাট, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ , ৭০০০২৬, ভারত
কালীঘাট কালী মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার সময়
| দিন | সময় |
|---|---|
| সোমবার | সকাল ৫:০০ – দুপুর ১:০০ বিকাল ৪:০০ – রাত ৯:০০ |
| মঙ্গলবার | সকাল ৫:০০ – দুপুর ১:০০ বিকাল ৪:০০ – রাত ১০:০০ |
| বুধবার | সকাল ৫:০০ – দুপুর ১:০০ বিকাল ৪:০০ – রাত ৯:০০ |
| বৃহস্পতিবার | সকাল ৫:০০ – দুপুর ১:০০ বিকাল ৪:০০ – রাত ৯:০০ |
| শুক্রবার | সকাল ৫:০০ – দুপুর ১:০০ বিকাল ৪:০০ – রাত ৯:০০ |
| শনিবার | সকাল ৫:০০ – দুপুর ১:০০ বিকাল ৪:০০ – রাত ১০:০০ |
| রবিবার | সকাল ৫:০০ – দুপুর ১:০০ বিকাল ৪:০০ – রাত ১০:০০ |
কলকাতার কালীঘাট কালী মন্দিরে কীভাবে পুজো দিতে যাবেন? Kolkata kalighat kali temple timings & Entry Fee
- প্লেনে যাওয়া যায়: নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে, মন্দিরে পৌঁছানোর জন্য গাড়ি বা ট্যাক্সি ভাড়া করা যেতে পারে। পৌঁছাতে ৫০ মিনিট থেকে এক ঘন্টা সময় লাগে। মন্দিরটি বিমানবন্দর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
- বাসে যাবেন কীভাবে: দক্ষিণ কলকাতার দিকে যাওয়া শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি রোডের বাস ধরতে হবে। এরপর কালীঘাট বাস স্টেশনে নেমে কালী মন্দির রোড ধরে হেঁটে গেলে মন্দিরে পৌঁছে যাবেন।
- ট্রেনে যাবেন কীভাবে: হাওড়া জংশন বা শিয়ালদা হয়ে আসলে, সেখান থেকেই মন্দিরে পৌঁছানোর জন্য ক্যাব ভাড়া করতে পারেন। চাইলে বাসেও পৌঁছে যেতে পারেন।
- মেট্রো করে কালীঘাট পৌঁছাবেন: কালীঘাট কালী মন্দিরের নিকটতম মেট্রো স্টেশন হল কালীঘাট স্টেশন এবং যতীন দাস পার্ক মেট্রো স্টেশন। এলাকা অনুযায়ী যে স্টেশন আগে পড়বে, সেটাই ধরতে পারেন।
কলকাতার কালীঘাট কালী মন্দিরের অনন্য তথ্য
- মনোষা তাল, জোর বাংলা, নাট মন্দির, হরকথ তাল এবং রাধা কৃষ্ণ মন্দিরও কালীঘাট মন্দিরের অংশ।
- মন্দির চত্বরের মধ্যে কুন্ডুপুকুর নামে একটি জলাশয় রয়েছে। এই জলাশয়েই সতীর ডান বৃদ্ধাঙ্গুলি পাওয়া যায় বলে জানা যায়।
- মন্দিরের গর্ভগৃহে স্থাপিত দেবী কালীর মূর্তিটি তৈরি করেন, দুই সাধক, আত্মারাম ব্রহ্মচারী এবং ব্রহ্মানন্দ গিরি। পাথর খোদাই করা এই মূর্তির তিন বৃহৎ চোখ এবং অধিষ্ঠাত্রী দেবীর চার বাহুই সোনার। তদুপরি, দেবী কালির এই বিগ্রহের জিহ্বাও সোনার তৈরি।
দেবীর পায়ের আঙুল খুঁজে পান কে?
কথিত আছে, আত্মা রাম নামক ব্রাহ্মণ, যিনি ভাগীরথী নদীতে দেবীর পায়ের আঙুল আকৃতির পাথরের কাঠামো খুঁজে পান। কোনও এক আলোর রশ্মি তাঁকে সেই আঙুলের সন্ধান দিয়েছিল। এরপর ব্রাহ্মণ সেই রাতে পাথরের টুকরোটিকে নিয়ে এক স্বপ্ন দেখেন। এই পাথর স্বয়ং সতীর ডান পায়ের আঙুল ছাড়া আর কিছুই নয়। এরপর তিনি স্বপ্নাদেশ পেয়ে স্বম্ভু লিঙ্গ এবং পায়ের আঙুল আকৃতির পাথর উভয়েরই পুজো শুরু করেন বলে জানা যায়।