Home লাইফস্টাইল কলকাতার ইহুদি ইতিহাস, এখনও অজানা এই গোপন লোকেশন

কলকাতার ইহুদি ইতিহাস, এখনও অজানা এই গোপন লোকেশন

Jewish synagogue kolkata​ & History of Kolkata
Jewish synagogue kolkata​ & History of Kolkata

Jewish synagogue kolkata​ & History of Kolkata: কলকাতা শহরের বুকে কি এটা! কলকাতার বহু ধর্ম, বহু জাতির মিলনের এক নীরব সাক্ষী সে। নাম তার মাগেন ডেভিড সিনাগগ। লাল ইটের তৈরি সে যেন রাজকীয় এক গির্জা। কলকাতার ব্যস্ত ব্রাবোর্ন রোড আর ক্যানিং স্ট্রিটের মোড়ে, মানুষের ব্যস্ত আনাগোনার মাঝেই লুকিয়ে আছে এই শান্ত, ইতিহাস ঘেঁষা স্থান। চলুন আরও খোলসা করে বোঝাই। 

কলকাতার ইহুদি সম্প্রদায়ের ইতিহাস। Jewish synagogue kolkata​ & History of Kolkata

১৮শ শতাব্দীর শেষদিকে আলেপ্পো থেকে আসেন এক ব্যবসায়ী। নাম তাঁর শালোম অ্যারন ওবাদিয়া কোহেন। এক নতুন জীবনের খোঁজে, ব্যাগদাদ ঘুরে পৌঁছান কলকাতায়। তিনিই শুরু করেন কলকাতার ইহুদি সম্প্রদায়ের ইতিহাস। তৎকালীন  ভারতের রাজধানী কলকাতায় তখন ব্যবসা চলত রমরমিয়ে। সেই ব্যবসার সুবাদেই ধীরে ধীরে আরও অনেকে এসে বসতি গড়েন তিলোত্তমায়।

জমজমাট কমার্শিয়াল এলাকা বাগবাজার, চিতপুর আর বউবাজারে গড়ে ওঠে ইহুদি সমাজ। তারা নিজেদের স্কুল, ধর্মীয় স্থান, দোকানপাট সব ধীরে ধীরে তৈরি করতে শুরু করেন। এই একই ধারাবাহিকতায় তৈরি হয় মাগেন ডেভিড সিনাগগ। 

এক আশ্চর্য স্থাপনার জন্ম

১৮৮৪ সালে বিখ্যাত এজরা পরিবার তাঁদের পিতামহ ডেভিড জোসেফ এজরার স্মৃতিতে তৈরি করেন মাগেন ডেভিড সিনাগগ। ইহুদি পরিবারের, ইতালীয় রেনেসাঁর ধাঁচে তৈরি এই স্থাপত্য ছিল সে সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। লাল ইটের দালানে ইংল্যান্ড থেকে আনা ঘড়ি, ১৪০ ফুট উঁচু মিনার, রঙিন কাঁচের জানালা আর সাদা-কালো মার্বেল ফ্লোর, সব মিলিয়ে যেন এক স্বপ্নময় দৃশ্যের জন্ম দেয়।

আজও এ গির্জার ভিতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে নীল-সোনালি রঙে আঁকা তারাভরা গম্বুজ, প্যারিস থেকে আনা স্তম্ভ, আর প্রার্থনার কক্ষ জুড়ে থাকা স্নিগ্ধ আলো।

মিশুকে ছিলেন ইহুদিরা

সিনাগগের আশেপাশেই গির্জা, মসজিদ আর মন্দির ছিল। জানা যায়, ইহুদিরা এখানে ধর্ম নির্বিশেষে বাঙালি, মুসলমান, ইংরেজ সবার সঙ্গে মিলেমিশে বাস করতেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, আজও মুসলিম পরিবারের সদস্যরা এই সিনাগগের দেখভাল করেন। ভাবা যায়!

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ইসলাম ধর্মের মানুষের তত্ত্বাবধানেই আজও পর্যটকদের স্বাগত জানায় মাগেন ডেভিড সিনাগগ, দেখলে মনে হয় যেন এক অদ্ভুত ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধা পড়ে গেছে ইতিহাস আর কলিকাতার মানবতা।

যদিও ইহুদি ইতিহাস আজ ফিকে পড়েছে 

একসময় কলকাতায় ছিল কয়েক হাজার ইহুদি নাগরিক বাস করতেন। আজ নাকি সংখ্যাটা ত্রিশেরও কম। উপাসনালয়ে নিয়মিত প্রার্থনা হয় না, কারণ ইহুদি ধর্মে প্রার্থনার জন্য অন্তত দশজন পুরুষের উপস্থিতি প্রয়োজন। কিন্তু সে সংখ্যা আর আছে কই। 

তাও আজও মাগেন ডেভিড আজও দাঁড়িয়ে আছে — স্মৃতির প্রহরী হয়ে। 

Exit mobile version