India and Bangladesh Relations on border line: এই মুহূর্তে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। একসময় বাংলাদেশ যখন পাকিস্তানের দ্বারা অত্যাচারিত হচ্ছিল, তখন তাদের মুক্ত করতে এবং একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে ভারতের বড় ভূমিকা ছিল। তবে সেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন দূরে চলে গিয়েছে, এবং বাংলাদেশের কিছু রাজনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা উস্কানিমূলক কথা বলছেন বলে জানা গিয়েছে।
কিছুদিন আগে, বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP)-র নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ভারতকে হুমকি দিয়ে বলেছেন যে, তারা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে কেটে ফেলবেন। অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরা – এই সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলো শিলিগুড়ি করিডোরের মাধ্যমে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, যেটিকে চিকেন নেকও বলা হয়।
বাংলাদেশেরও রয়েছে দুটি চিকেন নেক
ভারতের উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যকে আলাদা করে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের কিছু নেতা ও পাকিস্তানপন্থী সামরিক কর্মকর্তারা। কিন্তু বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থা ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো নয়। সত্যি বলতে, বাংলাদেশের দুটি চিকেন নেক রয়েছে। ভারত যদি এই দুর্বল জায়গাগুলোতে সামান্য চাপ দেয়, তাহলে বাংলাদেশের পক্ষে সেটা সহ্য করা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গের ৮০ কিলোমিটার লম্বা একটি পথ দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ পশ্চিম গারো পাহাড় পর্যন্ত গিয়েছে। এখানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছোট একটা পদক্ষেপ রংপুর বিভাগকে পুরো বাংলাদেশ থেকে আলাদা করে দিতে পারে।
অন্যদিকে, ২৮ কিলোমিটার লম্বা চট্টগ্রাম করিডোরটি আরও বেশি দুর্বল। এটি দক্ষিণ ত্রিপুরা থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই করিডোরটি ভারতের শিলিগুড়ি করিডোরের থেকেও ছোট। এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রাজধানী চট্টগ্রাম ও রাজনৈতিক রাজধানী ঢাকার মধ্যে একমাত্র যোগাযোগের রাস্তা।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর তুলনায় বাংলাদেশের শক্তি
ভারত ও বাংলাদেশের সামরিক শক্তির মধ্যে অনেক পার্থক্য (India and Bangladesh Relations on border line) রয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট বাংলাদেশের থেকে প্রায় ১৭ গুণ বেশি। সারা বিশ্বে ভারতের সেনাবাহিনী চতুর্থ স্থানে আছে। ২০১৫ সালে ভারত শিলিগুড়ি করিডোরের আশেপাশে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তিনটি নতুন মিলিটারি গ্যারিসন তৈরি করেছে।
এছাড়াও, ভারত একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ। বাংলাদেশ যদি কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ভারতও তার জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে সমুদ্রপথে বাণিজ্য বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। ভারতীয় নৌবাহিনী যদি এই পথ বন্ধ করে দেয়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
