Government Steps to Regulate Toto E Rickshaw: অবশেষে রাজ্য সরকার রাজ্যের রাস্তায় চলাচলকারী অবৈধ টোটো বা ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী শুক্রবার টোটো চলাচল এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন নিয়ম প্রকাশ করেছেন। এই নতুন নিয়ম অনুসারে, কলকাতা এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সমস্ত অবৈধ টোটোগুলিকে পরিবহন দফতরের কাছে তালিকাভুক্ত বা নথিভুক্ত করতে হবে এবং একটি অস্থায়ী টোটো তালিকাভুক্তি নম্বর বা TTEN নেওয়া বাধ্যতামূলক।
পরিবহন দপ্তর সূত্রে খবর, কলকাতা ও এর কাছাকাছি অঞ্চলে চলাচল করা বেশিরভাগ ই-রিকশা নথিভুক্ত নয়। এই নতুন নীতির মূল লক্ষ্য হল বিপুল সংখ্যক অবৈধ টোটোকে একটি আইনি কাঠামোর অধীনে নিয়ে আসা।
কী কী নতুন নিয়ম জারি হল? (Government Steps to Regulate Toto E Rickshaw)
পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী জানিয়েছেন যে এই নিয়ম চালু হলে, টোটো চলাচলের জন্য যে যানজট হয় এবং ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলো দেখা দেয়, তা অনেকখানি কমবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী টোটো চালকদের জন্য কিছু নিয়ম দেওয়া হয়েছে, যা তাঁদের মেনে চলতে হবে-
তালিকাভুক্ত করার সময়সীমা: নতুন নীতি অনুযায়ী, নাগরিক সংস্থাগুলি (civic bodies) পরিবহন দফতরের (transport department) আধিকারিকদের অননুমোদিত ই-রিকশাগুলোর গণনা এবং তালিকাভুক্তির কাজে সহায়তা করবে। এই তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়াটি ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে।
পুরনো টোটো বাতিলকরণ: আগামী দু’বছরের মধ্যে সমস্ত পুরনো এবং অননুমোদিত টোটোকে নতুনভাবে অনুমোদিত ই-রিকশা দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে হবে।
ফি প্রদান: অবৈধ ই-রিকশার মালিকদের প্রথমে ১,০০০ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, যা ছয় মাসের জন্য বৈধ থাকবে। এরপর, প্রতি মাসে ১০০ টাকা দিয়ে এই রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি সক্রিয় রাখতে হবে।
QR কোড: তালিকাভুক্ত প্রতিটি টোটোর জন্য একটি QR কোড প্রদান করা হবে, যেখানে চালকের নাম, ঠিকানা এবং নির্দিষ্ট রুটসহ যাবতীয় তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধ রুটে চলাচলকারী টোটোগুলোকে সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
নজরদারির জন্য পোর্টাল: এই সমস্ত ডেটা বা তথ্য একটি নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করা হবে। এই পোর্টালটি রাস্তায় নতুন কোনও অবৈধ টোটো চলাচল করছে কিনা, তা নিরীক্ষণ করতে সাহায্য করবে।
উল্লেখ্য, কলকাতা এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অবৈধভাবে ই-রিকশা উৎপাদনকারী ইউনিটগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তাদের নোটিশের মাধ্যমে ব্যবসা বন্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়। পরিবহন দফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, “যদি এই ইউনিটগুলো বন্ধ করা না হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে এবং ইউনিটগুলো সিল করে দেওয়া হবে।”