Game Changer for the Technology Sector in India: গ্রান্ট থর্নটন ভারতের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় প্রযুক্তি খাতে ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ১.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের চুক্তি নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা ভলিউম-চালিত কার্যকলাপ থেকে মূল্য-চালিত বিনিয়োগে একটি কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এক্ষেত্রে AI, SaaS এবং এন্টারপ্রাইজ অটোমেশনে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের লেনদেনের সংখ্যা ও মূল্য দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রকার উচ্চ-মূল্যের লেনদেনের পরিমাণ চারগুণ বেড়েছে, এবং পূর্ববর্তী প্রান্তিকের তুলনায় এর মূল্য পাঁচগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
মার্জার, অধিগ্রহণ ও প্রাইভেট ইক্যুইটির প্রতি ঝোঁক (Game Changer for the Technology Sector in India)
গ্রান্ট থর্নটন ভারত ডিলট্র্যাকার রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি ত্রৈমাসিকে AI, SaaS এবং এন্টারপ্রাইজ অটোমেশনের প্রতি বিনিয়োগকারী ও অধিগ্রহণকারীদের আগ্রহ বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। আসলে, অর্থনীতির পরিবর্তন, বিশ্বজুড়ে সুদের হারের আশা, আর ব্যবসার সুযোগ বেড়ে যাওয়ায় স্কেলেবল প্ল্যাটফর্মের দিকে সবার নজর, যেখানে প্রযুক্তিই মূল।
২০২২ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের পর থেকে দেশে একীভূতকরণ (Merger) এবং অধিগ্রহণ (Acquisition) সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে AI, SaaS এবং প্রযুক্তিগত পরিষেবাখাতে অধিগ্রহণগুলি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রধান চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে অল্টিমেট্রিক্সের (Altimetriks) এসএলকে সফটওয়্যার (SLK Software) ক্রয় এবং ব্রিলিয়ান্ট আইটি সলিউশনসের (Brilyant IT Solutions) সুগানসা সলিউশনস (Sugansa Solutions) অধিগ্রহণ।
এর পাশাপাশি সুইস ফার্ম এন-ড্রিম এজি (N-Dream AG)-তে KPIT টেকনোলজিসের (KPIT Technologies) অংশীদারিত্ব ক্রয় এবং কোভাস্যান্ট টেকনোলজিসের (Covasant Technologies) মার্কিন একীভূতকরণের মাধ্যমে বহির্গামী লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মোট প্রাইভেট ইকুইটি এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল চুক্তি ছিল ৫০টি, যেগুলোর সম্মিলিত মূল্য ৫৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় চুক্তির সংখ্যায় ৩৯ শতাংশ এবং মূল্যের দিক থেকে ১৭২ শতাংশ বেশি।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক এবং মধ্য স্তরের বিনিয়োগগুলি প্রধান ছিল, যেখানে ফ্র্যাক্টাল অ্যানালিটিক্স (Fractal Analytics) ১৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং গপসপ (Gupshup) ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে। SaaS প্ল্যাটফর্ম MoEngage এবং Whatfix প্রত্যেকে ১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে।
২২টি লেনদেনের মাধ্যমে স্টার্টআপগুলোতে প্রাইভেট ইক্যুইটি (PE) বিনিয়োগ ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে, যা আগের ত্রৈমাসিকের চেয়ে ৪১ শতাংশ কম। প্রধান বিনিয়োগগুলোর মধ্যে রয়েছে Kluisz AI (৯.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার), Presolv360 (৪.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) এবং Maieutic Semiconductors-এর এআই চিপ অটোমেশন তহবিল।
প্রযুক্তি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে মার্জার ও অধিগ্রহণ (M&A) কার্যক্রম তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১৮টি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যেগুলোর সম্মিলিত মূল্য ৬৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল Wipro (৩৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার), Infosys (১৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) এবং Hexaware (১২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) কর্তৃক অধিগ্রহণ, যা মূলত ক্লাউড-নেটিভ এবং অটোমেশন-ফার্স্ট সক্ষমতার উপর ভিত্তি করে গঠিত।
ভবিষ্যতে উন্নতির আশা
২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ভারতের প্রযুক্তিখাতে একটি সুস্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যায়, যেখানে বিনিয়োগকারী এবং অধিগ্রহণকারীরা AI, SaaS এবং এন্টারপ্রাইজ অটোমেশনে মূল্য-চালিত এবং অবকাঠামো-কেন্দ্রিক চুক্তিগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।
আর্লি এবং মিড-স্টেজ ফান্ডিং, নির্বাচিত আন্তঃসীমান্ত M&A-এর সাথে, বিশ্বব্যাপী প্রসারণযোগ্য প্ল্যাটফর্ম- প্রথম সমাধান প্রদানে ভারতের সামর্থ্যের উপর আস্থা রাখছে। গ্রান্ট থর্নটন ভারত এলএলপি-এর অংশীদার এবং প্রযুক্তি শিল্প প্রধান রাজা লাহিড়ী বলেন, “দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে এবং বিশ্বব্যাপী মূলধন স্থিতিশীল হওয়ার সাথে সাথে, গভীর প্রযুক্তি এবং AI-ভিত্তিক অবকাঠামো থেকে নতুন কোম্পানিগুলোর উত্থান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”