Thursday, June 4, 2026
Homeপশ্চিমবঙ্গশহরের চাপে ধুঁকছে 'কলকাতার কিডনি', পূর্ব কলকাতায় জেলেদের বাঁচার লড়াই

শহরের চাপে ধুঁকছে ‘কলকাতার কিডনি’, পূর্ব কলকাতায় জেলেদের বাঁচার লড়াই

East Kolkata Wetlands & fishers fight for survival: ভারতের মাছের ব্যবসা দু’ টি ভিন্ন দিক। বড় বড় কোম্পানি, আধুনিক ট্রলার এবং যন্ত্র ব্যবহার করে প্রচুর মাছ ধরছে একদিকে। অন্যদিকে আছে লক্ষ লক্ষ ছোট ব্যবসায়ী জেলে, সাধারণ জাল এবং ছোট নৌকা দিয়ে মাছ ধরে পেট চালাচ্ছেন। এই দুই দলের একদল উপরে, একদল তলানিতে। যারা তলানিতে তারা এখন আরও তলিয়ে যাচ্ছেন, কেন? চলুন জানি।

ভারতের ছোট জেলেরা কী কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন?

ছোট জেলেরা, যারা বংশপরম্পরায় এই কাজ করে চলেছেন, তাঁদের সমস্যা এখন বাঁধনছাড়া।

  • বড় ট্রলারের দাপট বাড়ছে: সমুদ্রের গভীরে বড় বড় ট্রলার দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। ছোট জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অথচ এই ট্রলারগুলোই সমুদ্রের তলার মাটি পর্যন্ত চেঁছে মাছ তুলে আনছে, মাছের বাসস্থান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, মাছের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।
  • জলদূষণ বাড়ছে: শহর বাড়ার পাশাপাশি নদী-নালার মতো জলাশয়গুলিতে দূষণ বেড়ে চলেছে, কারখানা এবং বাড়ির নোংরা জল, বিষাক্ত রাসায়নিক, এবং প্লাস্টিক ইত্যাদি মিশে মাছকে বাঁচতে দিচ্ছে না।
  • সুযোগ নেই: ছোট জেলেরা আধুনিক প্রযুক্তি, লেখাপড়া, স্বাস্থ্য পরিষেবা বা সহজে ঋণ পাওয়ার মতো সুযোগ না পেয়ে বড় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারছে না।
  • ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়ছেন: সরকারি সাহায্য সঠিকভাবে না আসায়, বাধ্য হয়ে স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে লোন নিয়ে, সেই জালে আটকা পড়ছেন ছোট জেলেরা।

কলকাতার কিডনি কাকে বলে । East Kolkata Wetlands & fishers fight for survival

কলকাতার প্রায় সমস্ত নোংরা জল প্রাকৃতিকভাবে এখানে পরিষ্কার হয়। এই নিকাশি অঞ্চলের নোংরা জলেই মাছ চাষ করেন জেলেরা। আর এই নোংরাগুলো মাছের খাবার হিসেবে কাজ করে। তারপর নিকাশি জলাভূমি থেকে বছরে প্রায় ১০,০০০ টন মাছ জন্মে, প্রায় ৩০,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান হওয়া সম্ভব হয়। এটি কলকাতাকে কম দামে মাছ সরবরাহ করে এবং বন্যার হাত থেকেও বাঁচায়। তাই এই জায়গার নাম কলকাতার কিডনি।

কলকাতার কিডনি ধুঁকছে কেন । East Kolkata Wetlands & fishers fight for survival

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার পাশেই রয়েছে পূর্ব কলকাতা জলাভূমি। “শহরের কিডনি” নাম পরিচিত এ জায়গা। এবার শহর যত বাড়ছে, যত উন্নত হচ্ছে, এই জলাভূমির উপর চাপও তত বাড়ছে। কারণ জলাভূমি ভরাট করে বেআইনিভাবে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট দিন দিন তার আয়তন কমিয়ে দিচ্ছে। নিকাশি খালগুলিতে পলি জমে যাচ্ছে, নোংরা জলের প্রবাহ কম হচ্ছে। জলের গুণমানও তলানিতে ঠেকছে, মাছের উৎপাদনও অনেক কমে যাচ্ছে।

স্বাভাবিকভাবেই আয় কমে যাওয়ায় অনেক জেলে পুকুর বিক্রি করে দিচ্ছেন বা অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এই করে এখন এলাকার প্রায় অর্ধেক মানুষ আর জেলের কাজ করছেন না। তারপর যে ক’ জন তবুও রয়েছেন, তাঁদের বিপদ আরও বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। কারণ খবর মিলেছে, সরকার মাছ চাষের জন্য লাইসেন্স দেওয়ার নতুন নিয়ম চালু করার কথা ভাবছে। এর দরুণ বড় কোম্পানিগুলো এখানে প্রবেশ করলে জেলেদের বিপদ আরও বাড়বেই।

Dhrishti
Dhrishti
I am a passionate professional journalist, driven by the power of storytelling and the responsibility of truth. Journalism, to me, is more than a profession—it is a lifelong commitment to uncovering facts, amplifying voices, and holding power accountable.
RELATED ARTICLES

Most Popular