Domicile Certificate West Bengal online apply: পশ্চিমবঙ্গের আবাসিক শংসাপত্র (West Bengal domicile certificate) হল একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি, যা পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য জারি করা হয়। এই আবাসিক শংসাপত্রটি রাজ্য সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন স্কিম এবং সুযোগ-সুবিধাগুলির জন্য আবেদনকারীদের জন্য প্রয়োজনীয়। এটি সাধারণত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মহকুমা শাসক (SDO), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (BDO)-এর মত সরকারি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারি করা হয়ে থাকে।
পশ্চিমবঙ্গ আবাসিক শংসাপত্রের জন্য যোগ্যতা
- ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী যেকোনো ব্যক্তি।
- যেসব ব্যক্তি পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করেন না কিন্তু রাজ্যে স্থায়ী সম্পত্তির মালিক।
- যেসব মহিলা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নন কিন্তু রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা এমন ব্যক্তির সাথে বিবাহিত।
পশ্চিমবঙ্গে আবাসিক শংসাপত্রের জন্য কীভাবে আবেদন করবেন?
পশ্চিমবঙ্গে আবাসিক শংসাপত্রের জন্য আবেদন করার দুটি উপায় নীচে দেওয়া হল।
অনলাইন প্রক্রিয়া (Domicile Certificate West Bengal online apply)
ধাপ ১: ওয়েস্ট বেঙ্গল ই ডিস্ট্রিক্ট ওয়েবসাইটটি দেখুন।
ধাপ ২: ‘লগইন/সাইন আপ’ বোতামে ক্লিক করুন এবং ‘রেজিস্টার’ এ ক্লিক করুন।
ধাপ ৩: ব্যক্তিগত বিবরণ, লগইন শংসাপত্র এবং OTP লিখুন এবং ওয়েবসাইটে রেজিস্টার করুন।
ধাপ ৪: ওয়েস্ট বেঙ্গল ই ডিস্ট্রিক্ট ওয়েবসাইটে (West Bengal eDistrict website) লগ ইন করুন।
ধাপ ৫: ‘সার্ভিসেস’ শিরোনামের অধীনে তালিকা থেকে ‘লোকাল রেসিডেন্স (ডোমিসাইল) সার্টিফিকেট’-এ ক্লিক করুন।
ধাপ ৬: ‘ইন্সট্রাকশন্স এন্ড রেকোয়ার্মেন্টস অফ ডোমসাইল সার্টিফিকেট’ পৃষ্ঠায় ‘এপলাই’ বোতামে ক্লিক করুন।
ধাপ ৭: আবেদনপত্র পূরণ করুন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করুন এবং ‘সাবমিট’ বোতামে ক্লিক করুন।
ধাপ ৮: আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর তৈরি হওয়া আবেদন শনাক্তকরণ নম্বরটি সংরক্ষণ করুন যাতে আবেদনের অবস্থা ট্র্যাক করা যায়।
অফলাইন প্রক্রিয়া
যোগ্য আবেদনকারীরা নিম্নলিখিত অফিসগুলি থেকে পশ্চিমবঙ্গের আবাসিক সার্টিফিকেটের আবেদন পেতে পারেন-
- তহসিলদারের অফিস (Tahsildar’s office)
- মহকুমা অফিস (SDO)
- ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট
- রাজস্ব বিভাগ অফিস (Revenue Department Office)
- ডিস্ট্রিক্ট অফিস
নিকটবর্তী সিটিজেন কিয়স্ক অথবা সিএসসি (তথ্য-মিত্য কেন্দ্র) থেকেও আবেদনপত্র সংগ্রহ করা যেতে পারে। আবেদনপত্র পাওয়ার পরে, তাদের ফর্মটি পূরণ করতে হবে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে এবং উপরে উল্লিখিত অফিসগুলোতে জমা দিতে হবে। ফর্মটি জমা দেওয়ার পরে, তারা আবেদনপত্র শনাক্তকরণ নম্বর/প্রাপ্তি স্বীকার নম্বর পাবেন।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
- পরিচয় প্রমাণ, যেমন,
- প্যান কার্ড
- পাসপোর্ট
- ড্রাইভিং লাইসেন্স
- EPIC কার্ড
- রেশন কার্ড
- বয়সের প্রমাণপত্র, যেমন,
- দশম শ্রেণীর স্কুল সার্টিফিকেট
- জন্ম সনদ তথা বার্থ সার্টিফিকেট
- বসবাসের প্রমাণপত্র, যেমন,
- বিবাহের সার্টিফিকেট, যদি প্রযোজ্য হয়।
পশ্চিমবঙ্গের ডোমিসাইল সার্টিফিকেট তথা আবাসিক শংসাপত্র কীভাবে ডাউনলোড করবেন?
- ওয়েস্ট বেঙ্গল ই ডিস্ট্রিক্ট ওয়েবসাইটে লগইন করুন।
- ‘ভিউ স্ট্যাটাস’ অপশনে ক্লিক করুন এবং ‘ট্র্যাক অ্যাপ্লিকেশন’ অপশনটি নির্বাচন করুন।
- আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় তৈরি হওয়া আবেদন শনাক্তকরণ নম্বর (AIN) লিখুন।
- আবেদনের অবস্থা প্রদর্শিত হবে।
আবেদনকারীরা আবেদনের স্থিতি দেখতে নিম্নলিখিত ফর্ম্যাটে ‘166’ অথবা ‘51969’ নম্বরে একটি এসএমএস পাঠাতে পারেন- ‘SMS (wb edist 16 digit AIN)’।
পশ্চিমবঙ্গে আবাসিক শংসাপত্র পেতে কত দিন সময় লাগে?
পশ্চিমবঙ্গের আবাসিক সার্টিফিকেট আবেদন জমা দেওয়ার পর সাধারণত ৭ দিন সময় লাগে সার্টিফিকেট ইস্যু করতে।
পশ্চিমবঙ্গে আবাসিক শংসাপত্রের বৈধতা
পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী নিবাস শংসাপত্র আজীবন বৈধ।
পশ্চিমবঙ্গে কি আবাসিক সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক?
নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে একটি স্থায়ী আবাসিক শংসাপত্র প্রাপ্ত করা বাধ্যতামূলক যেমন,
- স্টেট্ কোটার অধীনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সময়।
- সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় বৃত্তি পেতে।
- রাজ্য কোটার অধীনে সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করার সময়।
একজন ব্যক্তি যে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা তা প্রমাণ করার জন্য একটি স্থায়ী আবাসিক শংসাপত্র অপরিহার্য। চাকরি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজ্য কোটা সংরক্ষণ পেতে এই শংসাপত্রটি জমা দিতে হবে। এটি অনলাইন বা অফলাইন মোডের মাধ্যমে সহজেই আবেদন করে পাওয়া যায়।
