Dipu Chandra Das Lynched & Body Burnt in Bangladesh: গত ১৮ই ডিসেম্বর রাতে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা অঞ্চলে দীপু চন্দ্র দাস নামক একজন হিন্দু যুবককে উন্মত্ত জনতা অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। নিহত দীপু চন্দ্র দাস একটি পোশাক কারখানার একজন সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তিনি স্থানীয়ভাবে একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন। জনতার মূল অভিযোগ ছিল যে, দীপু চন্দ্র দাস মুসলিম ধর্মকে অপমান করেছেন। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন বলে জানানো হয়েছে।
অত্যন্ত নির্মম এই ঘটনার প্রসঙ্গে কারখানার সিনিয়র ম্যানেজার সাকিব মেহমুদ জানান যে, দীপুর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনও সত্যতা বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও বিকেল ৫টা থেকে শ্রমিকদের মধ্যে একটা অস্থিরতা শুরু হয়, যা খুব শীঘ্রই একটি বড় জনবিক্ষোভে পরিণত হয়।
কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য- বাঁচানোর শেষ চেষ্টা
পাওনিয়ার নিটওয়্যার কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য দীপুকে একটি নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে রাখা হয়েছিল। এমনকি উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার জন্য তাঁকে একটি ভুয়ো পদত্যাগপত্রে সই করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু শিফট পরিবর্তনের সময় দ্বিতীয় শিফটের শ্রমিক ও স্থানীয় লোকজন কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে যায়। রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে উত্তেজিত জনতা দীপুকে টেনে নিয়ে যায়। কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ভিড়ের সামনে অসহায় হয়ে পড়েন।
পুলিশ ও র্যাবের ভূমিকা
ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মহম্মদ ফরহাদ হোসেন খান ও এএসপি জানান, রাত ৮টার দিকে তাঁরা খবর পান। ঘটনাস্থল পুলিশ কার্যালয় থেকে ১৫ কিমি দূরে হওয়ার কারণে এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ জাতীয় সড়কে প্রায় ১০ কিমি দীর্ঘ যানজট থাকার জন্য পুলিশ ঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারেনি। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই উত্তেজিত জনতা দীপুর মৃতদেহ নিয়ে মহাসড়কের দিকে এগিয়ে যায়। র্যাব-১৪-এর কমান্ডার মহম্মদ শামসুজ্জামান জানান, কারখানা বাঁচানোর জন্য বা পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে হয়ত তাঁকে উত্তেজিত জনতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে শেষ পর্যন্ত একটা মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নির্মমতা ও আইনি পদক্ষেপ
উত্তেজিত জনতা দীপুকে পিটিয়ে মারার পরে গাছে উল্টো করে ঝুলিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় (Dipu Chandra Das Lynched & Body Burnt in Bangladesh)। এই ঘটনায় মৃতের ভাই অপু চন্দ্র দাস প্রায় ১৪০-১৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির নামে মামলা করেছেন। পুলিশ এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে।
