Desun Hospital Kolkata plans a college in Dankuni: কলকাতার উপকণ্ঠে ২৫০টি MBBS আসন নিয়ে একটি নতুন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ নির্মিত হতে চলেছে। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের (জাতীয় মহাসড়ক ১৯) পাশে ডানকুনিতে ডিসান হাসপাতাল (Desun Hospital) এই কলেজটি প্রতিষ্ঠা করবে। এই মেডিকেল কলেজটি ডিসান হেলথ সিটি প্রকল্পের অংশ হবে, যেখানে ১,৫০০ শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতালও অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানা গিয়েছে।
ডানকুনিতে ২৫০ আসনের মেডিকেল কলেজ (Desun Hospital Kolkata plans a college in Dankuni)
ডিসান হাসপাতালের সিইও এবং গ্রুপ ডিরেক্টর শাওলি দত্ত (Shaoli Dutta) জানান, প্রথম পর্যায় ২০২৮ সালের মাঝামাঝি নাগাদ কার্যকর হবে এবং পুরো প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ হবে। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে ডিসান বিশ্ববিদ্যালয়ও (Desun University) স্থাপিত হবে, যেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অন্যান্য নন-মেডিকেল কোর্স পড়ানো হবে। শাওলি দত্ত আরও জানান যে ৫৮৫ একর জমির উপর এই প্রকল্পটি গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে আনুমানিক ১,১০০ কোটি টাকা খরচ হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি হাসপাতালটি জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনাল (JCI) স্বীকৃতি পেয়েছে, যা স্বাস্থ্যখাতে বিশ্বজুড়ে একটি মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।
রাজ্যে MBBS আসনের ঘাটতি
রাজ্যে যথেষ্ট চিকিৎসক তৈরি না হওয়ায়, বাংলায় আরও মেডিক্যাল কলেজের প্রয়োজন রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, “২০১১ সালের পর থেকে (যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হন), এমবিবিএস আসনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু চাহিদা ও জোগানের মধ্যে এখনও বিস্তর ফারাক রয়ে গিয়েছে।”
তাঁর মতে, ২০১১ সালে বাংলায় ১,৩৫০টি এমবিবিএস আসন ছিল। বর্তমানে, রাজ্যের ৪০টি মেডিক্যাল কলেজে প্রায় ৬,৫০০টি আসন রয়েছে। ওই কর্মকর্তার বক্তব্য, “কিন্তু ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বলছে যে, বাংলায় ১০,০০০ এমবিবিএস আসন থাকা উচিত। আমরা সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছি।”
পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলিতে এই অভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, “বড় মেডিকেল কলেজগুলোর চেয়ে ব্লক ও সাব-ডিভিশন হাসপাতালগুলোতে এই সংকট বেশি। এসব কেন্দ্রে সুপারস্পেশালিস্টের প্রয়োজন নেই, তাই আরও বেশি এমবিবিএস আসন এই ঘাটতি পূরণ করবে,” তিনি যোগ করেন।
কর্মকর্তারা জানান, সরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৩,০০০ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। তাদের একজন বলেন, “আমরা নিয়োগ প্রক্রিয়া চালাচ্ছি।”
NMC-এর কঠোর নিয়ম- বিদেশে MBBS করার আগ্রহে ভাঁটা
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের (NMC) কড়া বিধিনিষেধের কারণে বিদেশের এমবিবিএস কোর্সে ডাক্তারি পড়তে যাওয়ার আগ্রহ কমেছে বলে মনে করছেন শিক্ষা উপদেষ্টারা।
ট্রেলব্লেজার্স কনসালট্যান্টসের (Trailblazers Consultants) (এই প্রতিষ্ঠান বিদেশে শিক্ষা গ্রহণের জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেয়) ডিরেক্টর পৌলোমী দত্ত জানান, বছর পাঁচেক আগে বাংলা থেকে প্রায় ৩,০০০ জন ছাত্রছাত্রী প্রতি বছর ইউক্রেন, জর্জিয়া, চীন, রাশিয়া, নেপাল ও বাংলাদেশের মত দেশে এমবিবিএস পড়তে যেত। এখন এই সংখ্যা বেশ খানিকটা কমে গিয়েছে। ”
NMC-র নতুন নিয়ম অনুসারে, বিদেশের এমবিবিএস কোর্সে (MBBS programme abroad) অন্তত ৫৪ মাসের অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা এবং একই প্রতিষ্ঠানে ১২ মাসের ইন্টার্নশিপ থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও, ভারতে প্র্যাকটিস করার লাইসেন্স পেতে গেলে ছাত্রছাত্রীদের বিদেশের যে বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা পড়ছে, সেখান থেকে একটি বৈধ মেডিক্যাল লাইসেন্স নিতে হবে। পৌলোমী দত্ত আরও বলেন, “বিদেশী মেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েট পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নিয়মকানুন আরও কঠিন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, “এমবিবিএস আসনের সংখ্যা বৃদ্ধি জরুরি, তবে সরকারকে নজর রাখতে হবে যাতে শিক্ষার মান বজায় থাকে এবং নিয়মকানুন সঠিকভাবে পালিত হয়।”
