Thursday, June 4, 2026
Homeলাইফস্টাইলপরিবেশভারতে তাপপ্রবাহ রুখতে দ্রুত দূষণ কমানোর পরামর্শ UNEPর

ভারতে তাপপ্রবাহ রুখতে দ্রুত দূষণ কমানোর পরামর্শ UNEPর

Delhi and Kolkata Heat as the UNEP Cooling Report: মঙ্গলবার COP30 জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনের মাঝে প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে কলকাতা এবং দিল্লিতে তাপ-সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

২০৫০ সালের মধ্যে শীতলীকরণের চাহিদা হবে তিনগুণ

ইউনাইটেড নেশন্স এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম (UNEP) কর্তৃক প্রস্তুত করা এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, দ্রুত কার্বন নিঃসরণ কমানো না গেলে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে শীতলীকরণের চাহিদা তিনগুণ বাড়বে।

নির্গমন বাড়ার কারণ- জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুতের ব্যবহার

জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সম্পদের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থেকে নির্গত দূষণ বাড়ছে। প্রতিবেদন অনুসারে, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর মধ্যে কার্যকর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সীমিত সহজলভ্যতার কারণে ক্রমবর্ধমান দূষণ এবং অকার্যকর শীতলীকরণ ব্যবস্থাগুলোর প্রভাব আরও বাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, বিদ্যুতের ব্যবহার কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া এবং জলবায়ু উষ্ণতাকারী রেফ্রিজারেন্টগুলোর ব্যবহার কমানোর চেষ্টা করা সত্ত্বেও ২০৫০ সাল নাগাদ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ ২০২২ সালের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ৭.২ বিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে, যা সর্বোচ্চ চাহিদার সময় পাওয়ার গ্রিডগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং ইউএনইপি-র নির্বাহী পরিচালক ইঙ্গার অ্যান্ডারসেন (Inger Andersen) জানিয়েছেন যে কুলিংয়ের জলবায়ু চ্যালেঞ্জ দু’দিকে। একদিকে সাশ্রয়ী মূল্যের পরিবেশ-বান্ধব কুলিংয়ের উপায় বের করে তার ব্যবহার বাড়াতে হবে, আবার অন্যদিকে কুলিংয়ের জন্য যে শক্তি লাগে এবং কার্বন নিঃসরণ হয়, সেটাও কমাতে হবে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে রেফ্রিজারেশন ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম থেকে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন প্রায় ৪.১ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড সমতুল্য ছিল। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নির্গমন হয়েছে রেফ্রিজারেন্ট লিকেজের কারণে, এবং দুই-তৃতীয়াংশ হয়েছে জ্বালানি ব্যবহারের ফলে। এই রিপোর্টটিতে ভারতের তাপ সংক্রান্ত সমস্যা এবং প্রশমন কর্মসূচির বিষয়ে প্রায় ১০ বার উল্লেখ করা হয়েছে।

দিল্লি-কলকাতার তীব্র ঝুঁকি (Delhi and Kolkata Heat as the UNEP Cooling Report)

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, “ভারতের দিল্লি এবং কলকাতা শহর দুটি অত্যাধিক গরম এবং পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে তাপ-সংক্রান্ত অসুস্থতা ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মক্ষমতা হ্রাস এবং জল সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত চাপের সম্মুখীন হচ্ছে।”

দিল্লির হাসপাতালগুলো ২০২৪ সালের মে ও জুন মাসে তাপপ্রবাহের কারণে ২৭৫টি মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। তীব্র গরমের ফলে বর্তমানে দিল্লিতে কর্মীদের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনে ৪ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে এই ক্ষতি বেড়ে ৫ শতাংশে দাঁড়াবে।

একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, “দিল্লিতে অত্যাধিক গরমের অনুভূতি সেখানকার বায়ু দূষণের কারণে আরও বেড়ে যায়, যা স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। ধারণা করা হয় যে, দরিদ্র শিশুদের ক্ষেত্রে এই গরম এবং বায়ু দূষণের মিলিত প্রভাব ধনী পরিবারের শিশুদের তুলনায় পাঁচ বছর পর্যন্ত গড় আয়ু কমিয়ে দেয়।”

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের পূর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও কলকাতার তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৮০ সালের মধ্যে এই শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে এবং একই সময়ে বছরে প্রায় ১৫০ দিন তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, ১৯৫৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে পর্যবেক্ষণ করা ২০টি শহর ও অঞ্চলের মধ্যে কলকাতায় গড় তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ছিল ২.৬৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

প্রসঙ্গত, সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের একটি গবেষণা থেকে জানা যায় যে কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের আওতাধীন অর্ধেক ওয়ার্ডই ‘উচ্চ’ অথবা ‘মাঝারি’ তাপ-সংবেদনশীলতার ক্যাটাগরিতে রয়েছে। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন ভারতের তাপ-সংক্রান্ত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি এই সমস্যা মোকাবেলায় সরকারের উদ্যোগের কথাও বলেছে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভারতের ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি-এর মত সরকারি উদ্যোগগুলো স্কুল, শহর এবং স্বল্প খরচের আবাসনে প্যাসিভ কুলিং-কে গুরুত্ব দিয়ে তাপ-সংক্রান্ত মৃত্যু কমানোর চেষ্টা করছে। এছাড়াও, ভারতের বিহার রাজ্যের কৃষকেরা ফসল তোলার পরবর্তী ক্ষতি কমাতে এবং আয় স্থিতিশীল রাখতে টেকসই কোল্ড চেইন ব্যবস্থা তৈরি করছে।

Mimi Banerjee
Mimi Banerjee
Passionate content writer with expertise in a variety of areas, including health, environment, and lifestyle, to name a few. Seeking to utilize my writing experience as a Content Writer for an organization that fosters innovative thoughts.
RELATED ARTICLES

Most Popular