Bengal Resolves Berubari Mouza Maps: জলপাইগুড়ির ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দক্ষিণ বেরুবাড়ি এলাকার জমি নিয়ে অনেক দিনের সমস্যা সমাধানের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার কাজ শুরু করেছে। শোনা যাচ্ছে, বাংলাদেশ সরকারের থেকে এই এলাকার মৌজার ম্যাপ পাওয়া যায়নি।
বেরুবাড়ির মৌজা ম্যাপ তৈরির উদ্যোগ রাজ্য সরকারের (Bengal Resolves Berubari Mouza Maps)
রাজ্যের ভূমি জরিপ বিভাগ শনিবার থেকে বেরুবাড়ির যে অংশে সমস্যা আছে, সেখানকার জমির ম্যাপ তৈরির কাজ শুরু করেছে। এই এলাকাটি জলপাইগুড়ি শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে।
জলপাইগুড়ির জেলাশাসক শামা পারভীন জানান, “দক্ষিণ বেরুবাড়ির জমি নিয়ে যে সমস্যাগুলো আছে, সেগুলো খুব তাড়াতাড়ি সমাধান করা হবে।”
জেলাশাসক আরও জানান, বাংলাদেশের বোদা থানা এলাকার মৌজা ম্যাপের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কাছে চাওয়া হয়েছিল, কারণ এর মধ্যে দক্ষিণ বেরুবাড়ির কিছু অংশ আছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। পারভীন বলেন, “কোনও উত্তর না পাওয়ায় রাজ্য সরকারের ভূমি জরিপ বিভাগ নিজেই মৌজা ম্যাপ তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে।”
২০১৫ সালে ছিটমহল বিনিময়
২০১৫ সালে, ভারতের ভেতরের ৫১টি বাংলাদেশি ছিটমহল এবং বাংলাদেশের ভেতরের ১১১টি ভারতীয় ছিটমহল একে অপরের সাথে বিনিময় করা হয়েছিল।
দক্ষিণ বেরুবাড়ির কাজলদিঘি, বড়াশিন, চিলাহাটি, নাওতারি দেবোত্তর ও পরাণিগ্রামের মতো যে গ্রামগুলো ভারতে এসেছে, সেগুলোর জমির কাগজপত্রে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এর ফলে, সেখানকার অনেক বাসিন্দা, যারা বংশ পরম্পরায় পাওয়া জমিতে বাস করছেন, তাদের জমির রেকর্ডে এখনও ভারতীয় বেরুবাড়ি মৌজার বদলে বাংলাদেশের বোদা থানার নাম রয়েছে।
ফলে, তারা তাদের নামে জমির দলিল করতে পারছেন না, যার কারণে তারা সরকারি সাহায্য নিতে বা জমি কেনাবেচা করতে পারছেন না।
জমির সমস্যার কারণে থমকে সীমান্তের উন্নয়ন কাজ
জমির সমস্যার কারণে সীমান্তের উন্নয়ন কাজও আটকে আছে। প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তে কোনও কাঁটাতারের বেড়া বা রাস্তা নেই।
দক্ষিণ বেরুবাড়ি প্রতিরক্ষা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সারদাপ্রসাদ দাস বলেন, “আমরা জেলা ভূমি অফিসে বার বার আবেদন করেছি, যাতে বাসিন্দাদের নামে জমি রেজিস্ট্রি করা হয় এবং জমির দলিল দেওয়া হয়। এতে শুধু সীমান্ত সড়ক তৈরিই হবে না, লোকজন সরকারি সাহায্যও পাবে।”
খবর সূত্রে জানা যায়, ৬ কিলোমিটার কাঁটাতারবিহীন সীমান্তের চিলডাঙ্গা, ফৌদার পাড়া, বনগ্রাম ও ডাকের কামাত গ্রামের অনেক বাসিন্দার জমির মালিকানার কাগজ নেই। একটি সূত্র জানায়, “তাই, তারা বিএসএফের জমি নেওয়ার চেষ্টায় রাজি হয়নি, কারণ তাদের ভয় জমি নেওয়া হলে ক্ষতিপূরণ পাবে না।”
দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান অন্নকান্ত দাস বলেন, “দক্ষিণ বেরুবাড়িতে জমির সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসন ও রাজ্য সরকার যে সাহায্য করছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা আশা করি খুব শীঘ্রই এর সমাধান হবে।”