Artificial Island in Pakistan for Oil Exploration: একটি প্রতিবেদন অনুসারে, গত জুলাই মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি পোস্টের মাধ্যমে পাকিস্তানের “বিশাল তেলের মজুদ” নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করার পর, পাকিস্তান একটি কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করছে বলে জানা গিয়েছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে ইসলামাবাদ অফশোর তেল এবং গ্যাস (offshore oil and gas exploration) অনুসন্ধানের প্রচেষ্টা আরও বাড়িয়েছে।
সিন্ধু উপকূলে প্রথম কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ (Artificial Island in Pakistan for Oil Exploration)
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি সংস্থা পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (Pakistan Petroleum Ltd.- PPL)সমুদ্র থেকে ভূমি পুনরুদ্ধার করছে, যা তাদের খনন কার্যক্রম আরও বাড়ানোর জন্য একটি ঘাঁটি হিসেবে কাজ করবে।
পিপিএল-এর অনুসন্ধান ও মূল ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার আরশাদ পালেকারের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সিন্ধু উপকূল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার (১৯ মাইল) দূরে সুজাওয়ালের কাছে এই মনুষ্যনির্মিত দ্বীপটি তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ছয় ফুট উপরে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মটি জোয়ার এবং উত্তাল জলরাশির প্রবাহ থেকে রক্ষা করে সার্বক্ষণিক অনুসন্ধান কাজ চালিয়ে যেতে সাহায্য করবে। আবুধাবিতে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া মডেল অনুসরণ করে এই প্রকল্পটি জ্বালানি অনুসন্ধানের জন্য সমুদ্রের মধ্যে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরির ক্ষেত্রে পাকিস্তানের প্রথম উদ্যোগ।
বড় অনুসন্ধানের পরিকল্পনা
আশা করা যাচ্ছে যে দ্বীপের নির্মাণ কাজ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে শেষ হবে এবং এর পরপরই অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হবে। PPL নতুন ঘাঁটি থেকে প্রায় ২৫টি কূপ খনন করার পরিকল্পনা করেছে, যা সম্ভাব্য তেলের মজুদ আবিষ্কারের জন্য একটি বৃহৎ প্রচেষ্টা। এই দ্বীপ প্রকল্পটি এমন এক প্রেক্ষাপটে এসেছে যখন ট্রাম্প সম্প্রতি পাকিস্তানের তেল সম্পদ উন্নয়নের উপর দৃষ্টি রেখে একটি নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি প্রস্তাব করেছেন। এই বছরের শুরুতে, ট্রাম্প বলেছিলেন যে দুটি দেশ “তেল কোম্পানি নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে” যারা অংশীদারিত্বের নেতৃত্ব দেবে, এমনকি তিনি এমনও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে পাকিস্তান ভবিষ্যতে ভারতে তেল রপ্তানি করতে পারে – যা ভারতীয় আমদানির উপর ২৫% শুল্ক এবং অতিরিক্ত জরিমানা ঘোষণার কয়েক ঘন্টা পরেই করা হয়েছে।
ট্রাম্পের মন্তব্য কি ভারতের ওপর চাপের কৌশল?
বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইন্দোনেশিয়া, জাপান এবং ভিয়েতনামের সাথে সম্পর্কিত একই ধরনের অস্পষ্ট বাণিজ্যিক ঘোষণার প্রতিচ্ছবি, যা ইঙ্গিত করে যে এই বিবৃতিগুলো ভারতকে আলোচনার টেবিলে চাপ দেওয়ার উদ্দেশ্যেও করা হয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে, পাকিস্তান অপরিশোধিত তেল আমদানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যেখানে প্রমাণিত মজুদের দিক থেকে দেশটি বিশ্বে প্রায় ৫২তম স্থানে রয়েছে – যা অনুসন্ধানের জন্য যথেষ্ট সুযোগ সৃষ্টি করেছে, কিন্তু ট্রাম্প যে “বিশাল” মজুদের কথা বলেছেন তার কোনও নিশ্চিত প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
