Alcohol Breath Analyser To Catch Drink And Drive: উৎসবের মরসুমের আগে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো রুখতে কলকাতা পুলিশ শহরে ৫০টি অত্যাধুনিক ব্রেথ অ্যানালাইজার মোতায়েন করবে বলে বৃহস্পতিবার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এই উন্নত ডিভাইসগুলির লক্ষ্য হল রাস্তার পাশের চেকিংগুলিকে আরও কার্যকর এবং জালিয়াতি-প্রতিরোধী বা ট্যাম্পার-প্রুফ করে তোলা।
দীপাবলির আগে কেন এই নিয়ম করা হচ্ছে? (Alcohol Breath Analyser To Catch Drink And Drive)
কালীপুজো, বড়দিন এবং নববর্ষের মত অন্যান্য বড় উৎসবগুলি আসন্ন। তাছাড়া দীপাবলির ঠিক আগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উৎসবের সময়ে সাধারণত মদ্যপানের পরিমাণ বেড়ে যায়, বিশেষ করে গভীর রাতের অনুষ্ঠানে। এর ফলে প্রায়শই সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ে।
একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করতে, পুলিশ তাদের আইন প্রয়োগকারী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নতুন ডিভাইস ব্যবহার করে কলকাতা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নাকা চেকিং চালাবে।”
নতুন ব্রেথ অ্যানালাইজারগুলির সুবিধা
ওই ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এই ব্রেথ অ্যানালাইজারগুলির সম্পর্কে বিশদে বলতে গিয়ে বলেন, পুরনো মডেলগুলোর মত না হয়ে, নতুন এই ব্রেথ অ্যানালাইজারগুলোতে বিল্ট-ইন মেমরি রয়েছে, যেখানে ১০,০০০ পর্যন্ত পরীক্ষার ফল সংরক্ষণ করা যাবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি তথ্যের সাথে তারিখ, সময়, অ্যালকোহলের পরিমাণ, গাড়ির নম্বর এবং অফিসারের পরিচয় লেখা থাকবে, এবং এই সবকিছুই পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত রাখা হবে। কোনও আইনি জটিলতা দেখা দিলে স্পষ্ট এবং প্রমাণযোগ্য তথ্য তৈরি করার জন্য অফিসাররা টাচস্ক্রিন ইন্টারফেসের মাধ্যমে ডিজিটাল স্বাক্ষরও করতে পারবেন। অনেকসময়ই দেখা যায়, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো ব্যক্তিরা পরবর্তীতে তাদের অপরাধ অস্বীকার করে।
ওই IPS কর্মকর্তা আরও বলেন, “এই ডিভাইসগুলো আমাদের শক্তিশালী ডিজিটাল প্রমাণ রাখতে সাহায্য করবে, যেখানে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা তথ্যের বিকৃতির সুযোগ থাকবে না।”
৩০০ গ্রামের চেয়েও কম ওজনের এই ছোট আকারের ও হালকা ডিভাইসগুলোতে উন্নত সেন্সর এবং ৩.২ ইঞ্চি এলসিডি স্ক্রিন রয়েছে। তিনি জানান, খুব কাছ থেকে হালকা শ্বাস ফেললেও দ্রুত অ্যালকোহলের মাত্রা মাপার জন্য এগুলো তৈরি করা হয়েছে।
কর্মকর্তা আরও বলেন, “মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ফলাফল দেখাবে, যা ট্র্যাফিক কর্মীদের দ্রুত ঘটনাস্থলেই ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করবে।”
তিনি আরও জানান, এই সরঞ্জাম কেনার জন্য ২২ লক্ষ টাকা বাজেট ধরা হয়েছে এবং শহরের ২৬টি ট্র্যাফিক গার্ডের মধ্যে এগুলো বিতরণ করা হবে। বেশিরভাগ ট্র্যাফিক ইউনিটে আগে থেকেই ব্রেথ অ্যানালাইজার থাকলেও, পুরনো মডেলগুলোতে নতুন ডিভাইসগুলোর মত নির্ভুলতা ও ডেটা সুরক্ষার সুবিধা নেই।
উল্লেখ্য, দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে বছর শেষের উৎসব পর্যন্ত যে উদযাপন হয় সেই সময়ে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলকাতা পুলিশ এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। পুলিশ আশা করছে যে, কড়া নজরদারির সাথে টেকনোলজির ব্যবহার একসাথে মিলে মদ্যপান করে গাড়ি চালানো বন্ধ করবে, আর রাস্তায় সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।