Donald Trump Announced A 100% US tariffs On China: ডোনাল্ড ট্রাম্প চিন থেকে আসা পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, যা আমেরিকা ও চিনের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এই পদক্ষেপটি চিন কর্তৃক বিরল মৃত্তিকা খনিজ (rare earth minerals) রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পরপরই নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের এই ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা (Donald Trump Announced A 100% US tariffs On China) বিশ্বের বৃহত্তম দুটি অর্থিনীতির মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধকে উস্কে দিয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন যে নতুন শুল্ক এবং “যেকোনো এবং সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার”-এর উপর মার্কিন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ১লা নভেম্বর থেকে কার্যকর করা হবে। তিনি আরও জানান যে এই পদক্ষেপটি বিরল মৃত্তিকা খনিজগুলির (rare earth minerals) উপর বেইজিং-এর “অত্যন্ত আগ্রাসী” রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ হিসাবে নেওয়া হয়েছে, যা ইলেকট্রিক যানবাহন, স্মার্টফোন এবং সামরিক সরঞ্জামের মত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
এই বিষয়ে ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, “এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে চিন এমন একটি পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু তারা নিয়েছে, এবং বাকিটা ইতিহাস।”
উল্লেখ্য, এই ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ব বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা দেয়। আমেরিকার শেয়ার বাজার Nasdaq ৩.৬ শতাংশ এবং S&P 500 ২.৭ শতাংশ কমে যায়, যা গত এপ্রিল মাসের পর ওয়াল স্ট্রিটের সবচেয়ে বেশি পতন।
বর্তমান শুল্ক
বর্তমানে, চিনা পণ্যের উপর ৩০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক চালু রয়েছে, যা ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আরোপ করা হয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়ায়, চিন আমেরিকান পণ্যগুলির উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এই নতুন ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যত বেশিরভাগ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারে, যা অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন যে বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও একটি মন্দার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
‘রেয়ার আর্থ’ নিয়ে কেন এত উত্তেজনা?
রেয়ার আর্থ (Rare Earth) হল ১৭টি ধাতব উপাদানের একটি গ্রুপ, যা ইলেকট্রিক গাড়ি (EV), স্মার্টফোন এবং সামরিক সরঞ্জামের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়। এই ক্ষেত্রে চিন প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে। তারা বিশ্বের প্রায় ৭০% রেয়ার আর্থ উত্তোলন করে এবং ৯০%-এর বেশি ম্যাগনেট উৎপাদন করে।
চিন সম্প্রতি রপ্তানির জন্য বিশেষ অনুমতি বাধ্যতামূলক করে রেয়ার আর্থ উপাদানের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করেছে। ট্রাম্প এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন যে চীন এই গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহের ওপর তাদের কর্তৃত্বকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে “বিশ্বকে বন্দী করে রাখার চেষ্টা করছে।”
Donald Trump Announced A 100% US tariffs On China- এরপর কী হতে চলেছে?
এই উত্তেজনার ফলস্বরূপ, চলতি মাসের শেষের দিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে চলা এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (APEC) শীর্ষ সম্মেলনটি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, যেখানে ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে প্রথম বৈঠকে হওয়ার কথা ছিল। ট্রাম্প প্রথমে বলেছিলেন, “এখন সাক্ষাতের কোনো কারণ নেই”, কিন্তু পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের কাছে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই বৈঠকটি তিনি বাতিল করেননি। চীনের বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে বেইজিংয়ের সাম্প্রতিক রফতানি ব্যবস্থার “অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যদিও বেইজিং এএখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও উত্তর দেয়নি।
ভারতের ওপর প্রভাব
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে ট্রাম্পের আকস্মিক শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেইনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতি এমনিতেই মুদ্রাস্ফীতি ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে লড়ছে। তার ওপর আমেরিকা-চীন বাণিজ্য বিরোধের আরেকটি ধাক্কা ভারতের মতো এশীয় বাজারেও অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। কারণ, ভারত উভয় দেশ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক উপকরণ ও কাঁচামাল আমদানি করে।