7 Of The Most Remote Islands In The World Discovered: আপনার স্বপ্নের ছুটি বলতে আপনি কী বোঝেন? দুর্বল ওয়াই-ফাই মানের ইন্টারনেট সংযোগ থেকে আপনি দূরে থাকবেন, জনমানবহীন পরিবেশ এবং দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্রের দৃশ্য থাকবে আপনার সামনে, তাহলে এই নির্জন দ্বীপগুলো আপনার জন্য উপযুক্ত গন্তব্য হতে পারে।
প্রচলিত পর্যটন পথ থেকে অনেক দূরে অবস্থিত এই স্থানগুলো ‘সবকিছু থেকে দূরে থাকার’ ধারণাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। আপনি যদি আগ্নেয়গিরির ল্যান্ডস্ক্যাপ, পেঙ্গুইন দেখা, অথবা এমন কোনও স্থানে যেতে চান যা গুগল ম্যাপেও খুব একটা পরিচিত নয়, তবে এখানে পৃথিবীর সবচেয়ে নির্জন সাতটি দ্বীপের তালিকা দেওয়া হল- যেখানে আপনি পৌঁছাতে পারবেন, যদি আপনি সেই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত থাকেন।
বিশ্বের ৭টি সবচেয়ে দুর্গম দ্বীপের তালিকা (7 Of The Most Remote Islands In The World Discovered)
১. Pitcairn Island– পিটকেয়ার্ন দ্বীপ, প্রশান্ত মহাসাগর
এই ক্ষুদ্র ভূখণ্ডটি তার বিপ্লবী অতীতের জন্য পরিচিত। এখানে এখনও HMS Bounty-র নাবিকদের বংশধররা বাস করে, এবং মোট বাসিন্দার সংখ্যা ৫০-এর কম। নিকটতম বিমানবন্দরটি ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে ফরাসি পলিনেশিয়ার মাঙ্গারেভাতে অবস্থিত, এবং সেখানে থেকে এই দ্বীপে পৌঁছাতে ৩২ ঘণ্টার নৌকো যাত্রা করতে হয়। পর্যটকদের জন্য এখানে কোনও হোটেল নেই, থাকার ব্যবস্থা মূলত হোম-স্টে-তে হয়ে থাকে।
২. Tristan da Cunha– ত্রিস্তান দা কুনহা (দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর)
এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত এই আগ্নেয় দ্বীপটিতে মাত্র দু’শোর বেশি মানুষ বসবাস করে। নিকটতম স্থলভাগ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২,৪০০ কিলোমিটার। এটি ব্রিটিশদের অধীনে থাকা একটি অঞ্চল এবং এখানে যাওয়ার একমাত্র উপায় হল কেপটাউন থেকে জাহাজে করে সাত দিনের দীর্ঘ যাত্রা। এই দ্বীপে কোনও বিমানবন্দর, হোটেল বা পরিচিত কফি শপ নেই। তবে এখানে বন্য উপকূল, দুর্লভ সামুদ্রিক পাখি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আন্তরিক ব্যবহার পাওয়া যায়।
৩. Bouvet Island– বুভেট দ্বীপ (দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর)
সাধারণ পর্যটকদের জন্য এই দ্বীপ উপযুক্ত নয়। নরওয়ের অধীনে থাকা এই দ্বীপের প্রায় পুরোটাই বরফে আবৃত এবং এটি সম্পূর্ণ জনবসতিহীন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও অ্যান্টার্কটিকার মাঝে অবস্থিত হওয়ায় এখানে বিজ্ঞানীদেরও যাওয়ার সুযোগ কম। এখানে যেতে হলে বিশেষ গবেষণার অনুমতিপত্র এবং অ্যান্টার্কটিকার উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার মতো মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা প্রয়োজন।
৪. Easter Island– ইস্টার দ্বীপ (চিলি)
যদিও এখানে একটি বিমানবন্দর আছে এবং নিয়মিত ফ্লাইটও চলাচল করে, তবুও ইস্টার দ্বীপ (স্থানীয় নাম রাপা নুই) পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম। চিলির মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই দ্বীপটি ‘মোয়াই’ নামের বিশাল পাথরের তৈরি মূর্তির জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত। তবে শুধু রহস্যময় মূর্তিই নয়, এখানে আগ্নেয়গিরির মুখ, সাদা বালির সৈকত এবং আকর্ষণীয় পলিনেশীয় সংস্কৃতিও রয়েছে।
৫. Kerguelen Islands– কের্গুয়েলেন দ্বীপপুঞ্জ (দক্ষিণ ভারত মহাসাগর)
‘নির্জন দ্বীপপুঞ্জ’ বা ‘Desolation Islands’ নামে পরিচিত এই ফরাসি শাসনাধীন অঞ্চলটি যতটা নির্জন, ততটাই আকর্ষণীয়। মাদাগাস্কার থেকে প্রায় ৩,৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপে কোনও স্থায়ী বাসিন্দা নেই, কেবল বিজ্ঞানীরা গবেষণার জন্য আসেন। এখানে যাওয়ার একমাত্র উপায় হল বছরে কয়েকবার আসা সাপ্লাই জাহাজ। স্থানটি এতটাই বন্য এবং বাতাসপূর্ণ যে এখানে দাঁড়ালে মনে হবে যেন পৃথিবীর শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছেন।
৬. Macquarie Island– ম্যাকুয়ারি দ্বীপ (অস্ট্রেলিয়া)
তাসমানিয়া এবং অ্যান্টার্কটিকার মধ্যে অবস্থিত এই দ্বীপটি হাজার হাজার পেঙ্গুইন ও সিলের আশ্রয়স্থল। অস্ট্রেলিয়ান অ্যান্টার্কটিক ডিভিশন দ্বারা পরিচালিত এই দ্বীপটি একটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট এবং এটি সাধারণ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত নয়। তবে বিশেষ অভিযাত্রী ক্রুজে বুকিং করে এখানে যাওয়া যেতে পারে।
৭. Socotra- সোকোত্রা (ইয়েমেন)
সোকোত্রা দ্বীপকে দেখলে মনে হয় যেন এটি অন্য কোনো গ্রহের অংশ। এখানকার অদ্ভুত আকৃতির ‘ড্রাগন ব্লাড ট্রি’ এবং পরাবাস্তব ভূদৃশ্যের জন্য এটি পরিচিত। আরব সাগরে, ইয়েমেনের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই দ্বীপটি রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বহু বছর ধরে পর্যটকদের নাগালের বাইরে ছিল। তবে, সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে দুঃসাহসিক ভ্রমণপ্রিয় মানুষেরা এখানে যেতে পারছেন।