Thursday, June 4, 2026
Homeখবরবিদেশট্রাম্প নন, নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন ভেনিজুয়েলার এই নেত্রী

ট্রাম্প নন, নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন ভেনিজুয়েলার এই নেত্রী

Who Is The Winner Of The Nobel Peace Prize 2025: ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার (Nobel Peace Prize 2025) পেলেন ভেনিজুয়েলার গণতন্ত্রের রক্ষক মারিয়া কোরিনা মাচাদো (Maria Corina Machado)। ভেনিজুয়েলার গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং স্বৈরাচারী শাসন থেকে ন্যায় ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য তাঁর অবিচল প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তাঁকে এই পুরস্কারে সম্মানিত করেছে।

পুরস্কার ঘোষণার পূর্বে শোনা যাচ্ছিল যে গাজায় যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা অনুমোদন করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পুরস্কার পেতে পারেন। কিন্তু নোবেল কমিটির পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের সম্ভাবনা কম ছিল। কারণ, কমিটি সাধারণত আন্তর্জাতিক ভাতৃত্ববোধ এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠায় নীরবে কাজ করা সংস্থাগুলোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়।

নোবেল ফাউন্ডেশনের মতে, মারিয়া মাচাদো কর্তৃত্ববাদী শাসনের অধীনে থাকা ভেনিজুয়েলার জনগণের মধ্যে নিজেকে স্বাধীনতার পক্ষে এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আপোষহীন থেকে তিনি নাগরিক সাহসের এক মূর্ত প্রতীক। নোবেল কমিটি মাচাদো-কে ‘শান্তির একজন সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ রক্ষক’ এবং ‘ক্রমবর্ধমান অন্ধকারের মধ্যে গণতন্ত্রের আলো জ্বালিয়ে রাখা একজন নারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

কে এই মারিয়া কোরিনা মাচাদো?

মারিয়া কোরিনা মাচাদো ১৯৬৭ সালে ভেনিজুয়েলায় জন্মগ্রহন করেন। তিনি এমন একটা পরিবারে বড় হয়েছেন যারা দেশের নাগরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে খুব গভীরভাবে জড়িত ছিলেন। এইরকম একটা পরিবেশেই তিনি স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস পান। তিনি তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় ভেনিজুয়েলাতেই কাটিয়েছেন। এমনকি যখন তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পান, তখনও তিনি সেখানেই ছিলেন।

মাচাদো আন্দ্রেস বেলো ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং (industrial engineering) নিয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর কারাকাসের ইনস্টিটিউটো দে এস্টুডিওস সুপিরিওরেস দে অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (IESA) থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর করেন।

২০০৯ সালে তিনি ইয়েল ইউনিভার্সিটির ওয়ার্ল্ড ফেলোস প্রোগ্রামে যোগ দেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর বাইরের দুনিয়া সম্পর্কে একটা নতুন ধারণা দেয় এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতি তাঁর ইচ্ছাকে আরও জোরদার করে।

রাজনীতিতে আসার আগে, ১৯৯২ সালে তিনি কারাকাসে অসহায় শিশুদের সাহায্য করার জন্য ফুন্ডাসিওন আথেনা (Fundación Atenea) নামের একটা সংস্থা তৈরি করেন। পরে তিনি অপরচুনিটাস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন হন এবং সমাজের উন্নতির জন্য কাজ চালিয়ে যান।

ভ্যালেন্সিয়ার অটো শিল্পে অল্প কিছুদিন কাজ করার পরে, ১৯৯৩ সালে তিনি কারাকাসে ফিরে আসেন। তাঁর জনকল্যাণমূলক কাজকে রাজনীতির বাইরে রাখতেই, নাগরিক আন্দোলন সুমাতে (Súmate)-তে যোগ দেওয়ার সময় তিনি ফুন্ডাসিওন আথেনা থেকে সরে আসেন। এই প্ল্যাটফর্মই তাঁকে জাতীয়ভাবে পরিচিত করে তোলে।

স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই

মাচাদো দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ভেনেজুয়েলার ভেঙে যাওয়া বিরোধী দলগুলোকে এক করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাঁর লাগাতার চেষ্টার কারণেই বিরোধীরা এখন অবাধ নির্বাচন আর প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের নীতিগুলোর পক্ষে এক হয়েছে। অত্যাচারের মুখেও শান্তিপূর্ণভাবে রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে তিনি সবসময় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাঁর কাছে বড় হল, “গুলির বদলে ব্যালট পেপার বেছে নেওয়া”।

একটা সময় গণতান্ত্রিক আর ধনী দেশ ছিল, কিন্তু এখন এটা একটা নিষ্ঠুর স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এখানে নির্বাচনগুলোতে কারচুপি করা হয়, আইন ব্যবহার করে হয়রানি করা হয়, আর বিরোধী নেতাদের জেলে ভরে তাঁদের কণ্ঠরোধ করা হয়। প্রায় আট মিলিয়ন ভেনেজুয়েলার মানুষ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

নির্বাচনেও দেখিয়েছেন সাহস

২০২৪ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে সরকার দ্বারা মারিয়া মাচাদোকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছিল। এরপরেও তিনি অন্য বিরোধী দলের প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেজ উররুটিয়াকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

হয়রানি, গ্রেফতার বা নির্যাতনের হুমকি সত্ত্বেও ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য তিনি লক্ষ লক্ষ স্বেচ্ছাসেবককে সংগঠিত করেছিলেন, যারা পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বিরোধী দল সুস্পষ্ট বিজয় অর্জন করা সত্ত্বেও, ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকার করে।

নোবেল কমিটি উল্লেখ করেছে, “টেকসই শান্তির জন্য গণতন্ত্র একটি পূর্বশর্ত।” মাচাদোর এই সংগ্রাম সেই নীতিরই প্রতিধ্বনি। তিনি তার দেশের বিভক্ত বিরোধী দলগুলোকে একত্রিত করেছেন, সামরিকীকরণকে প্রতিহত করেছেন এবং গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ উত্তরণের জন্য সংগ্রাম করেছেন, যা আলফ্রেড নোবেলের শান্তি পুরস্কারের মানদণ্ড (Nobel Peace Prize 2025) পূরণ করে।

Mimi Banerjee
Mimi Banerjee
Passionate content writer with expertise in a variety of areas, including health, environment, and lifestyle, to name a few. Seeking to utilize my writing experience as a Content Writer for an organization that fosters innovative thoughts.
RELATED ARTICLES

Most Popular