Weather Update West Bengal & Cyclone on the Bay: বঙ্গোপসাগরে আরও একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, মালাক্কা প্রণালীর (Strait of Malacca) উপরে থাকা একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ বলয় বুধবার নাগাদ বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে।
মালাক্কা প্রণালীর ওপর নিম্নচাপ
মালাক্কা প্রণালী হল উত্তর-পূর্বে মালয় উপদ্বীপ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত একটি সংকীর্ণ জলপথ, যা আন্দামান সাগর এবং দক্ষিণ চীন সাগরকে যুক্ত করেছে। এটি বঙ্গোপসাগরের উপকূল থেকে ১,৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত।
আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে পৌঁছানোর পরে এর গতিপথ কেমন হবে, তার উপর ভিত্তি করে বাংলার উপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নির্ধারিত হবে। ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলবারের মধ্যে এর সম্ভাব্য গতিপথ সম্পর্কে পূর্বাভাস দেওয়া যেতে পারে।
আগামী ৭ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস (Weather Update West Bengal & Cyclone on the Bay)
আবহাওয়া দফতর থেকে প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে, আগামী সাত দিন দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে।
আবহাওয়া অফিসের বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে মালাক্কা প্রণালী ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ আন্দামান সাগরের উপরে যে নিম্নচাপটি ছিল, সেটি এখনও ওই একই এলাকায় একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। এটি সম্ভবত পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে সরতে পারে এবং সোমবার নাগাদ দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং কাছাকাছি দক্ষিণ আন্দামান সাগরের উপরে একটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। যদি এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকে, তাহলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণিঝড় হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ
ঘূর্ণিঝড়টি রূপ নিলে এর নাম হবে ‘সেন-ইয়ার’ (Sen-Yaar), যা নামকরণ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
আলিপুরের আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের প্রধান এইচআর বিশ্বাস জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে বাংলার উপকূল থেকে ১,৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থান করছে। প্রাথমিকভাবে এর গতিপথ পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টির পর এর সম্ভাব্য গতিপথ কোন দিকে যায়, তার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী গন্তব্য নির্ধারণ করা হবে।
তিনি জানান, এরপর থেকে উত্তরমুখী যেকোনো খাড়া ঢাল ঝড়টিকে বাংলা উপকূলের কাছাকাছি নিয়ে আসবে। যদি ঝড়টি তার পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম পথেই চলতে থাকে, তাহলে এর ভারতের দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
তবে আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তাদের মতে আরও কিছু বিষয় এখানে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিলে এই সিস্টেমটি উপকূল থেকে যথেষ্ট দূরে অবস্থান করবে। আবহাওয়া দফতর আগামী সাত দিনে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত তার গতি ধরে রাখতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।