Story Behind the Longest River Dam in the World: মাটি, কংক্রিট দিয়ে তৈরি একটি বাঁধ, যার জল নিষ্কাশন করার এলাকা নাকি শ্রীলঙ্কার আয়তনের দ্বিগুণেরও বেশি! তাই রয়েছে ভারতের। স্বাধীনতার আগে থেকে এই বাঁধের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ইংরেজ আমলেই মানুষ ভেবেছিল এই বাঁধ নির্মাণের কথা। যদিও ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের পরেই ভারতের ভাবনা ফলপ্রসূ হয়।
বিশ্বের দীর্ঘতম হিরাকুদ বাঁধ সম্পর্কে বিস্তারিত
বিশ্বের দীর্ঘতম হিরাকুদ বাঁধ মোট ১,৩৩,০৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জল নিষ্কাশন করে। হিরাকুদ বাঁধের রাস্তা প্রায় ৮ মিটার চওড়া। মোট আয়তন ৭৪৬ বর্গকিলোমিটার। এর উপকূলরেখাও ৬৪০ কিলোমিটারেরও বেশি।
- হিরাকুদ বাঁধের উচ্চতা কত: ৬০.৯৬ মিটার (২০০ ফুট)
- বাঁধের স্প্লিলওয়ে সম্পর্কে: ৬৪টি স্লুইস গেট, ৩৪টি ক্রেস্ট-গেট
- স্পিলওয়েগুলির ধারণক্ষমতা কত: প্রতি সেকেন্ডে ৪২,৪৫০ ঘনমিটার
- জলাধারের ধারণক্ষমতা কত: ৫,৮৯৬,০০০,০০০ বর্গমিটার
- জলাধার এলাকা সম্পর্কে: ৮৩,৪০০ বর্গকিলোমিটার
- হিরাকুদ বাঁধের মোট দৈর্ঘ্য কত : ২৫.৭৯ কিমি
- মূল বাঁধ এলাকার মোট দৈর্ঘ্য কত: ৪.৮ কিমি
- কৃত্রিম হ্রদের মোট আয়তন কত: ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার
- বাঁধের আওতাধীন সেচকৃত এলাকা সম্পর্কে: ২,৩৫৫ বর্গকিলোমিটার
- বাঁধ নির্মাণের জন্য মোট এলাকা : ৫৯৬ বর্গকিলোমিটার
- বাঁধের ক্ষমতা : ৩৪৭.৫ মেগাওয়াট
কীভাবে উপকার করে ওড়িশার হিরাকুদ বাঁধ? Story Behind the Longest River Dam in the World
ওড়িশায় অবস্থিত হিরাকুদ বাঁধ বিশ্বের দীর্ঘতম বাঁধ। বন্যা প্রতিরোধ থেকে শুরু করে, সেচ ব্যবস্থা সবেতেই এর জুড়ি মেলা ভার।
- বন্যা প্রতিরোধ করে: একসময়, মহানদীতে প্রচুর বন্যা হত। বর্ষাকালে এই এলাকার পরিস্থিতি মানুষকে নাজেহাল করে তুলত। প্রবল জলপ্রবাহের রুখতে বাঁধ নির্মাণের পর, মোট ৯৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা এখন আর বন্যপ্রবণ নয়।
- সেচ ব্যবস্থা: ৭৫০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে সেচ ব্যবস্থায় সুবিধা দিয়ে, বিভিন্ন ফসল চাষে সহায়তা করে হিরাকুদ বাঁধ।
- বিদ্যুৎ উৎপাদন: এই বাঁধে আবার বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাও রয়েছে। এর দরুণ মোট ৩৪৭.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, সম্বলপুর, সুবর্ণপুর, বরগড় ইত্যাদি অঞ্চলে বিদ্যুতের ঘাটতি মেটানো হয়।
ঠিক কবে নির্মান করা হয় হিরাকুদ বাঁধ? Story Behind the Longest River Dam in the World
১৯৪৬ সালে, ওড়িশার তৎকালীন গভর্নর স্যার হথর্ন লুইস প্রথম সম্বলপুরের কাছে ওড়িশার দীর্ঘতম হিরাকুদ বাঁধের পরিকল্পনা করেন। ১৯৪৮ সালের ১২ এপ্রিল জওহরলাল নেহেরু কাঠামোটি উদ্বোধনের জন্য প্রথম কংক্রিট ব্যাচ স্থাপন করেন। এরপর ১৯৫৭ সালের ১৩ জানুয়ারি, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায় এই বাঁধ। নেপথ্যে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু।
কীভাবে দেখতে যাবেন হিরাকুদ বাঁধ?
সড়কপথে যেতে হলে – জাতীয় সড়ক ৬ হিরাকুদ বাঁধের পাশ দিয়ে গিয়েছে। মুম্বাই এবং কলকাতার মানুষ সরাসরি পৌঁছে যাবেন। হিরাকুদ বাঁধে পৌঁছানোর জন্য পাবলিক ট্রান্সপোর্টও পেয়ে যাবেন।
বিমানে যাওয়া যাবে- হিরাকুড় বাঁধের নিকটতম বিমানবন্দর হল রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ২৬৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। ভুবনেশ্বরের বিজু পট্টনায়ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ট্রেনে যেতে চান – হিরাকুদ বাঁধ নিকটবর্তী রেল স্টেশনগুলি হল সম্বলপুর এবং হিরাকুদ।
