Home পশ্চিমবঙ্গ আর চাইলেই নাম বদল নয়! বার্থ সার্টিফিকেটে নতুন নিয়ম জারি

আর চাইলেই নাম বদল নয়! বার্থ সার্টিফিকেটে নতুন নিয়ম জারি

Simple Tips For Birth Certificate Correction Online Process
Simple Tips For Birth Certificate Correction Online Process

Simple Tips For Birth Certificate Correction Online Process: জন্ম সনদ বা বার্থ সার্টিফিকেট নাম বা পদবি পরিবর্তনের নিয়মে কড়াকড়ি আরোপ করল পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দপ্তর। এখন থেকে ইচ্ছামত জন্ম সনদে নাম পরিবর্তন করা যাবে না। এই সংক্রান্ত একগুচ্ছ নতুন নিয়ম জারি করা হয়েছে। আপনার বা আপনার সন্তানের জন্ম সার্টিফিকেটে নামের বানান ভুল থাকলে অথবা আপনি যদি নাম পরিবর্তনের কথা ভাবেন, তবে এই খবরটি আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

কেন এই নতুন এবং কড়া নিয়ম?

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দপ্তরের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, জন্ম সার্টিফিকেট সংশোধনে কঠোর বিধি নিষেধ জারি করা হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় জন্ম সার্টিফিকেটের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ আসছিল। জানা যায়, অনেকে অপ্রয়োজনীয় কারণে অথবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বারবার নাম পরিবর্তন করছিলেন। এমনকি জন্মের অনেক বছর পরেও নাম বদলের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলেও খবর পাওয়া যায়।

এই অনিয়ম ঠেকাতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, নতুন বিধির ফলে নাম সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়া আরও নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ হবে, এবং যাঁদের প্রকৃত সংশোধনের প্রয়োজন, তাঁরা নিয়ম মেনে তা করতে পারবেন।

কোন কোন ক্ষেত্রে নাম সংশোধন করা যাবে?

জন্মের সময় নাম না থাকলে: কোনো শিশুর জন্ম সনদে বা জন্ম সার্টিফিকেটে যদি জন্মের সময় নাম উল্লেখ করা না থাকে এবং পরবর্তীতে নাম যুক্ত করার প্রয়োজন হয়, তবে সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে, প্রমাণস্বরূপ স্কুল সার্টিফিকেট, বার্থ রেজিস্ট্রেশন রেকর্ড, হাসপাতালের জন্ম সংক্রান্ত কাগজপত্র ইত্যাদি দেখতে হবে।

বানান বা টাইপের ভুল হলে: যদি কারো নাম লেখার সময় বানানে ভুল হয় যেমন তা যদি স্পষ্টতই মুদ্রণজনিত ভুল হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে সংশোধনের অনুমতি দেওয়া হবে। এক্ষেত্রেও স্কুল সার্টিফিকেট, আধার কার্ড, পাসপোর্ট-এর মত যথাযথ কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

তবে জানে রাখা ভালো যে বাবা-মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সন্তানের নাম পরিবর্তন বা সংশোধন করা যাবে না। আগে কিছু ক্ষেত্রে বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তানের নাম বা পদবি একতরফাভাবে পরিবর্তন করা হতো, যা বর্তমানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নাম সংশোধনে কী কী ডকুমেন্ট লাগবে?

  1. হাসপাতালের জন্ম প্রমাণ
  2. মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য কার্ড (MCH Card) বা পোলিং কার্ড
  3. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ভর্তি সংক্রান্ত ডকুমেন্ট
  4. তার আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড (যদি প্রযোজ্য হয়)
  5. আদালতের ডিক্লারেশন (যদি প্রয়োজন হয়)
  6. বাবা-মায়ের নামের পরিচয়পত্র

কীভাবে আবেদন করবেন?

আপনার স্থানীয় পৌরসভা অথবা পঞ্চায়েত অফিসে যোগাযোগ করুন। একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র যেমন হাসপাতালের জন্ম নথি, স্কুলের শংসাপত্র, আধার কার্ড সহ জমা দিতে হবে। স্বাস্থ্য দপ্তর আপনার আবেদনপত্র ও অন্যান্য নথি যাচাই করে তদন্তের পর সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

করা প্রভাবিত হবেন এই নতুন নিয়মে?

নতুন এই নিয়ম সেই সকল নাগরিককে প্রভাবিত করবে যারা বর্তমানে নাম পরিবর্তনের কথা ভাবছেন অথবা ভবিষ্যতে নাম পরিবর্তনের কথা ভেবেছেন। এছাড়াও, সরকারি বিদ্যালয়, কলেজ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও এই নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র গ্রহণ করবে।

বিদ্যালয়ে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের জন্মের সার্টিফিকেট দেখানোর সময়, এর পাশাপাশি বিয়ের সময় যখন নাম ও জন্মস্থান যাচাই করা হয়, পাসপোর্ট অথবা আধার কার্ড আপডেট করার সময়, তাছাড়াও যারা বিদেশে শিক্ষা অথবা চাকরি করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্ম সনদে ভুল থাকলে সমস্যা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন নিয়মের কারণে কিছু মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন, তবে দীর্ঘ মেয়াদে এটি পরিচয়পত্রের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে এবং জালিয়াতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সুতরাং, এখন থেকে সন্তানের নাম রেজিস্ট্রেশনের সময় অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে পরবর্তীকালে নাম পরিবর্তন করা নিয়ে কোনও সমস্যায় না পড়তে হয়।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে বেশ কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যা জন্ম শংসাপত্র (Birth Certificate)-এর ভুল সংশোধন বা তথ্য হালনাগাদ করার প্রক্রিয়াকে সহজ করে তুলেছে, যেমন Bengal e-District Portal, Kolkata Municipal Corporation (KMC) Portal ইত্যাদি। এই পোর্টালগুলিতে তে গিয়ে অনলাইনে কীভাবে জন্ম শংসাপত্র সংশোধন করবেন তা দেখে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Exit mobile version