Ration Card New Rules 2026 & Effect On West Bengal: পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের জন্য রেশন ব্যবস্থা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০২৬ সালের শুরু থেকেই রেশন বিতরণে বড় রকমের পরিবর্তন আসতে চলেছে। এই খবরটি বিশেষভাবে জরুরি তাদের জন্য, যাদের কেন্দ্রীয় সরকারের রেশন কার্ড রয়েছে। খাদ্য বিভাগের নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, আগামী জানুয়ারি মাস থেকে চাল ও গমের বরাদ্দ পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে, রাজ্য সরকারের নিজস্ব প্রকল্পের কার্ডহোল্ডারদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর আছে। এই প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব কোন কার্ডে কী পরিবর্তন আসছে।
পশ্চিমবঙ্গে রেশন কার্ড সংক্রান্ত নতুন নিয়ম- Ration Card New Rules 2026 & Effect On West Bengal
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী রেশন সামগ্রী দেওয়া হবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। অর্থাৎ, আর অল্প কয়েকদিন বাকি আছে। এর পর, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। গ্রাহকদের এটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে বরাদ্দের পরিমাণ বদলালেও, বিনামূল্যে সমস্ত জিনিস দেওয়ার নিয়ম একই থাকবে। বর্তমানে, রাজ্যে পাঁচ ধরনের কার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে – AAY, PHH, SPHH এবং রাজ্য সরকারের RKSY-1 এবং RKSY-2। এবার দেখে নেওয়া যাক কার্ড অনুযায়ী পরিবর্তনের তালিকাটি।
অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY) কার্ডের জন্য নতুন নিয়ম
দরিদ্রতম পরিবারের জন্য এই অন্ত্যোদয় বা AAY কার্ডে পণ্য বিতরণ করা হয় পরিবার পিছু, সদস্য সংখ্যা অনুসারে নয়। এই কার্ডে চালের পরিমাণ কমানো হয়েছে এবং গমের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।
| খাদ্যশস্য | বর্তমান বরাদ্দ | নতুন বরাদ্দ (জানুয়ারী ২০২৬ থেকে) |
|---|---|---|
| ধান | ১৯ কেজি (প্রতি পরিবার) | ১৫ কেজি (প্রতি পরিবার) |
| গম | ১৪ কেজি (প্রতি পরিবার) | ২০ কেজি (প্রতি পরিবার) |
| আটা (গমের পরিবর্তে) | ১৩ কেজি ৩০০ গ্রাম | ১৯ কেজি |
PHH এবং SPHH কার্ডে বড় পরিবর্তন
অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (Priority Household – PHH) এবং বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (Special Priority Household – SPHH) কার্ডের ক্ষেত্রে, রেশন দ্রব্য বরাদ্দ করা হয় জনসংখ্যার হিসেবে। কেন্দ্রীয় সরকার এই দুই ধরণের কার্ডের ক্ষেত্রেই চালের পরিমাণ কমিয়ে গমের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
চাল (Rice): আগে জনপ্রতি ৩ কেজি চাল বরাদ্দ ছিল, কিন্তু ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে তা গড়ে ২ কেজি করে কমানো হবে।
গম (Wheat): আগে জনপ্রতি ২ কেজি করে গম বরাদ্দ থাকলেও, এখন তা গড়ে ৩ কেজি করে পাওয়া যাবে।
প্রাথমিকভাবে, ১ কেজি গমের বদলে ৯০০ গ্রাম আটা (Flour) দেওয়ার নিয়ম ছিল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মাথাপিছু ২ কেজি আটা দেওয়া হবে, যার জন্য ২ কেজি ৮৫০ গ্রাম গম ব্যবহার করা হবে। সেই হিসাবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চালের পরিমাণ মাথাপিছু ৩ কেজি থেকে কমিয়ে ২ কেজি করা হবে (অর্থাৎ, গমের বদলে এখন আটা দেওয়া হবে)।
রাজ্য সরকারের কার্ডে (RKSY-1 এবং RKSY-2) কি কোনও পরিবর্তন হয়েছে?
অনেকের মনে প্রশ্ন ছিল যে রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনার (State Food Security Scheme) কার্ডগুলিতে কোন পরিবর্তন করা হয়েছে কিনা। তবে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই কার্ডগুলির নিয়মে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।
আরকেএসওয়াই-১ (RKSY-1) কার্ড: এই কার্ডের উপভোক্তারা আগে যেভাবে মাথাপিছু ৫ কেজি চাল বিনামূল্যে পেতেন, তা পাবেন।
আরকেএসওয়াই-২ (RKSY-2) কার্ড: এই কার্ডেও আগেকার মত মাথাপিছু ২ কেজি চাল বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।
এখানে উল্লেখ্য যে, রাজ্য সরকারের এই দুটি কার্ডে গম বা আটা সরবরাহ করা হয় না, শুধুমাত্র চাল বরাদ্দ করা হয়।
সংক্ষেপে বলা যায়, কেন্দ্রীয় কার্ডগুলিতে কার্বোহাইড্রেটের উৎস হিসেবে চালের চেয়ে আটার ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে, সেই জন্য গমের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। তাই, আগামী বছর রেশন দোকানে যাওয়ার আগে এই তালিকাটি দেখে গেলে বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।
