PM Vidya Lakshmi Yojana for the Education of the Poor: অনেক সময় মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা টাকার অভাবে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে না। ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল বা ম্যানেজমেন্টের মতো কোর্স করতে চাইলেও লক্ষ লক্ষ টাকার ফি জোগাড় করতে না পারায় তারা পিছিয়ে যায়। এই সমস্যায় জর্জরিত শিক্ষার্থীদের সাহায্য করতে কেন্দ্রীয় সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প চালু করেছে, যার নাম “প্রধানমন্ত্রী বিদ্যালক্ষ্মী যোজনা”।
প্রধানমন্ত্রী বিদ্যালক্ষ্মী যোজনা (PM Vidya Lakshmi Yojana for the Education of the Poor)
এই প্রকল্পটি বর্তমানে চালু আছে এবং সরকার ২০২৪-২৫ থেকে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে প্রায় ৩,৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এর মাধ্যমে প্রায় ২২ লক্ষ শিক্ষার্থী উপকৃত হবে, যাদের মধ্যে ৭ লক্ষ নতুন শিক্ষার্থীও রয়েছে।
সহজভাবে বলতে গেলে, প্রধানমন্ত্রী বিদ্যালক্ষ্মী যোজনা (PM Vidya Lakshmi Yojana) হল এমন একটি ব্যবস্থা, যা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের কোনও বন্ধক বা গ্যারান্টার ছাড়াই সহজে ঋণ পাওয়ার সুযোগ করে দেয়।
শুধু তাই নয়, সরকার পারিবারিক আয়ের ওপর ভিত্তি করে ঋণের সুদের হারেও বড় ছাড় দিয়ে থাকে।
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল দেশের প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা যাতে শুধুমাত্র আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা।
কারা কীভাবে উপকৃত হবে?
আয়ের ভিত্তিতে এই প্রকল্পে দুই ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়-
১) যাদের আয় ৪.৫ লক্ষ টাকার কম: শিক্ষার্থীর পরিবারের বার্ষিক আয় ৪.৫ লক্ষ টাকার কম হলে, তারা শিক্ষা ঋণের উপর সম্পূর্ণ সুদ ভর্তুকি (১০০% সুদ ভর্তুকি) পাবে। অর্থাৎ, কোর্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুদের পুরো খরচ সরকার বহন করবে। এটি PM-USP CSIS স্কিমের আওতায় আসে।
২) যাদের আয় ৪.৫ লক্ষ টাকা থেকে ৮ লক্ষ টাকা: যদি পরিবারের বার্ষিক আয় ৪.৫ লক্ষ টাকার বেশি কিন্তু ৮ লক্ষ টাকার মধ্যে হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের উপর ৩% সুদ ভর্তুকি পাবে।
৭.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের গ্যারান্টি: সরকার নিজেই সকল যোগ্য শিক্ষার্থীকে কোনও রকম আয়ের সীমা ছাড়াই ৭.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য ৭৫% ক্রেডিট গ্যারান্টি দেবে। ফলে ব্যাংকগুলো শিক্ষার্থীদের ঋণ দিতে দ্বিধা বোধ করবে না।
যোগ্যতা কী কী?
১) শিক্ষার্থীকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।
২) NIRF দ্বারা র্যাঙ্ক করা দেশের সেরা ৮৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি হতে হবে (সরকারি ও বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানই এর অন্তর্ভুক্ত)।
৩) শিক্ষার্থী অন্য কোনও সরকারি বৃত্তি বা সুদ ভর্তুকি প্রকল্পের সুবিধাভোগী হওয়া চলবে না।
৪) যারা শিক্ষাগত বা শাস্তিমূলক কারণে কলেজ ছেড়ে দিয়েছে, তারা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য নয়।
কীভাবে আবেদন করবেন?
১) শিক্ষার্থীদের আর ব্যাংকে ব্যাংকে ঘুরতে হবে না। প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং স্বচ্ছ করা হয়েছে।
২) অফিসিয়াল পোর্টাল pmvidyalaxmi.co.in (অথবা সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিজস্ব ওয়েবসাইট) দেখুন।
৩) শিক্ষার্থী লগইনের মাধ্যমে নিবন্ধন করুন।
৪) প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি আপলোড করে আবেদন জমা দিন।
৫) এই প্রকল্পটি সমস্ত সরকারি, বেসরকারি ও গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত।
৬) সুদের ভর্তুকির টাকা সরাসরি শিক্ষার্থীর ই-ভাউচার বা সিবিডিসি ওয়ালেটে পৌঁছে যাবে।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদন করার আগে, অনুগ্রহ করে নিম্নলিখিত নথিগুলো প্রস্তুত রাখুন-
- আধার কার্ড/প্যান কার্ড/পাসপোর্ট (পরিচয়পত্র)
- রেশন কার্ড/বিদ্যুৎ বিল (ঠিকানার প্রমাণ)
- দশম শ্রেণির মার্কশিট (জন্মতারিখের প্রমাণ)
- দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির মার্কশিট এবং ডিগ্রি সার্টিফিকেট (যদি প্রযোজ্য হয়)
- কলেজ ভর্তির চিঠি ও ফি-এর বিবরণ
- আয়ের প্রমাণপত্র
- ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
- এই মর্মে স্ব-ঘোষণা যে আপনি অন্য কোনও প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন না।
উচ্চশিক্ষা আপনার অধিকার। শুধুমাত্র অর্থের অভাবে আপনার স্বপ্নকে নষ্ট হতে দেবেন না। আজই পিএম বিদ্যালক্ষী (PM Vidyalaxmi) পোর্টালে দেখুন এবং আবেদন করুন।