Panchdeep Tower Became India Tallest Observatory: পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন ক্ষেত্রে যুক্ত হতে চলেছে নতুন পালক। হাওড়ায় নির্মিত হচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ ওয়াচ টাওয়ার (Panchdeep Tower), যা দিল্লির কুতুব মিনারের চেয়েও উঁচু। প্রায় ৪০০ ফুট বা ১২০ মিটার উচ্চতার এই টাওয়ারটি আগামী বছর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পঞ্চদীপ কনস্ট্রাকশনের ডিরেক্টর এবং প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার রাম রতন চৌধুরী জানান, প্রায় ৭ বছর আগে এই নির্মাণ কাজ শুরু হলেও কোভিড অতিমারীর কারণে প্রায় দুই বছর কাজ বন্ধ ছিল। প্রায় ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টাওয়ারটি বেলিলিয়াস পার্কের মধ্যে অবস্থিত।
টাওয়ারের বিশেষত্ব- Panchdeep Tower Became India Tallest Observatory
ভারতের ‘সবচেয়ে উঁচু’ এই পাবলিক ওয়াচ টাওয়ারটিকে আকর্ষণীয় করে তুলতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পঞ্চদ্বীপ টাওয়ারটিতে একটি রিভলভিং রেস্টুরেন্ট ও একটি ব্যাঙ্কোয়েট হল থাকবে। এই ব্যাঙ্কোয়েট হলে জন্মদিন অথবা এনগেজমেন্টের মতো ছোট অনুষ্ঠানগুলির আয়োজন করা যাবে, যেখানে প্রায় ২০০ জন অতিথি বসতে পারবেন।
চূড়ায় একটি প্যানোরামিক ভিউইং ডেক থাকবে, যা টেলিস্কোপ দিয়ে সজ্জিত। এখান থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটারের মধ্যে গঙ্গা নদী, শহরের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান ওড়ার দৃশ্যও দেখা যাবে।
টাওয়ারে একসঙ্গে ২৪ জন বহন করার জন্য দুটি উচ্চ গতির লিফট স্থাপন করা হয়েছে।
রাম রতন চৌধুরী বলেন, তিনি সারা বিশ্ব ঘুরে দেখেছেন এবং সব দেশেই এমন টাওয়ার দেখেছেন। তাঁর মতে ভারতেও এমন একটি টাওয়ার থাকা উচিত। তিনি আরও বলেন এখানে একটি অতিরিক্ত ফিচার রাখা হয়েছে, সেটি হল রিভলভিং রেস্টুরেন্ট যা বেশিরভাগ টাওয়ারে থাকে না।
টাওয়ারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও টিকিটের মূল্য
টাওয়ারের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। শক্তিশালী রেলিংয়ের পাশাপাশি অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও কাঠামোগত সুরক্ষার অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
একসঙ্গে ১৫০-২০০ জনের বেশি দর্শনার্থীকে উপরে যেতে দেওয়া হবে না এবং সেখানে তারা সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট পর্যন্ত থাকতে পারবেন। অতিরিক্ত সময় থাকলে চার্জ দিতে হবে, যা রঙিন রিস্টব্যান্ডের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
তাছাড়াও স্থানীয়দের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, কর্মদিবসে টিকিটের দাম ১০০ টাকা ও সপ্তাহান্তে ১৫০ টাকা রাখার পরিকল্পনা চলছে।
রাম রতন চৌধুরীর মতে, শহীদ মিনার বা কুতুব মিনারের মতো স্মৃতিস্তম্ভগুলিতে সাধারণত জনসাধারণের প্রবেশাধিকার থাকে না, তাই এই টাওয়ারটি ভারতে জনগণের জন্য উন্মুক্ত সর্বোচ্চ টাওয়ার হবে। হাওড়া পুরনিগমের বোর্ডের প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেছেন, এই টাওয়ারটি হাওড়া তথা রাজ্যের গর্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত হবে।
