Home পশ্চিমবঙ্গ দার্জিলিঙে ভূমিধসের কারণ জানতে মাঠে নামল NTG

দার্জিলিঙে ভূমিধসের কারণ জানতে মাঠে নামল NTG

National Green Tribunal on Landslide in Darjeeling
National Green Tribunal on Landslide in Darjeeling

National Green Tribunal on Landslide in Darjeeling​: দার্জিলিং অঞ্চলে পরিবেশগত অবনতির বিষয়ে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (NTG) স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (suo motu) একটি তদন্ত শুরু করেছে। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দার্জিলিং অঞ্চল ভয়াবহ ভূমিধসের শিকার হয়েছে। এর পাশাপাশি এই অঞ্চলে অপরিকল্পিত উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে। এনজিটি দেখেছে যে ইসরো কর্তৃক প্রকাশিত ‘ল্যান্ডস্লাইড অ্যাটলাস অফ ইন্ডিয়া ২০২৩’ অনুসারে, ১৪৭টি ভূমিধস-প্রবণ এলাকার মধ্যে দার্জিলিং ৩৫তম ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

দার্জিলিং অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসের ফলে উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বালাসন নদীর উপরে দুধিয়া সেতু ভেঙে যাওয়ায় জাতীয় ও রাজ্য মহাসড়কগুলোতে চলাচল ব্যাহত হয়। এই ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে দার্জিলিং এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে কমপক্ষে ৩৩ জন মানুষ নিহত হন এবং ব্যাপক ধ্বংসলীলা সংঘটিত হয়।

২০২৩ সালে, সিকিমে হিমবাহ হ্রদের আকস্মিক বন্যার (glacial lake outburst flood) কারণে দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়ি জেলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছিল, যা এই অঞ্চলের দুর্বলতা প্রকাশ করে, এমনটাই এনজিটি উল্লেখ করেছে।

এই ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য কারণ (National Green Tribunal on Landslide in Darjeeling​)

একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে এনজিটি এই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে, যেখানে অত্যধিক উন্নয়ন, বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির দুর্বলতাকে দার্জিলিং পাহাড়ের ব্যাপক ভূমিধস এবং গুরুতর পরিবেশগত অবনতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ট্রাইব্যুনাল জানতে চায় যে উন্নয়নের কাজগুলি পরিবেশগত বিধি লঙ্ঘন করে করা হয়েছে কিনা, যা সবুজ আইন (green laws) বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে।

এনজিটি আরও জানায়, “সংবাদটি ‘চিকেনস নেক’ করিডোরের কাছে দার্জিলিং-এর কৌশলগত অবস্থানের কারণে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, যা পূর্বাঞ্চলীয় হিমালয়ে জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা (climate resilience) এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জাতীয় স্তরের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।”

প্রসঙ্গত, এনজিটি-র চেয়ারম্যান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য এ. সেন্থিল ভেল-এর সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক (MoEFCC) এবং পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডকে এই প্রসঙ্গে জবাব দাখিল করতে বলেছে ।”

এছাড়াও, ন্যাশনাল ডিসাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি, জিবি পন্ত ইনস্টিটিউট অফ হিমালয়ান এনভায়রনমেন্ট (GB Pant Institute of Himalayan Environment) এবং ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউট অফ হিমালয়ান জিওলজি (Wadia Institute of Himalayan Geology০ -কেও এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দিল্লির প্রিন্সিপাল বেঞ্চ বিষয়টি কলকাতার ইস্টার্ন জোনাল বেঞ্চের সামনে ২২শে ডিসেম্বর শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করেছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে সেই বেঞ্চের কাছে জবাব দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে।

Exit mobile version