Name MGNREGA to Pujya Bapu Rural Employment Scheme: মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইন (MGNREGA- মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি এক্ট) গ্রামীণ অদক্ষ মানুষের জন্য কাজ খুঁজে পাওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা। যদি কোনও গ্রামবাসী অন্য কোথাও কাজ না পান, তাহলে তারা MNREGA-এর আওতায় কর্মসংস্থান পেতে পারেন। এই আইন অনুযায়ী ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি এই কর্মদিবস বাড়িয়ে ১২৫ করতে চেয়েছে এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সেই অনুযায়ী বিলটি অনুমোদন করেছে।
NREGA থেকে MGNREGA, এখন ‘পূজ্য বাপু গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি যোজনা’ (Name MGNREGA to Pujya Bapu Rural Employment Scheme)
এখন এটি MNREGA নামে পরিচিত থাকবে না, বরং ‘পূজ্য বাপু গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি যোজনা’ (Pujya Bapu Gramin Rozgar Guarantee Yojana) নামে অভিহিত হবে। নতুন এই পরিকল্পনা কাজের নিশ্চয়তা দিতে পারবে কিনা, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, কর্মদিবসের সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দেশের গ্রামীণ জনসংখ্যার জন্য কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ, কারণ এখনও গ্রামীণ এলাকায় কাজের অভাব রয়েছে। এমনকি যদি কেউ ১০০ দিনের কাজও পায়, তাও পরিবারের ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট নয়।
এই আইন বা প্রকল্পটি আবার নামকরণ করা হয়েছে। ২০০৫ সালে এটি জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (NREGA) হিসেবে চালু হয়েছিল। পরে ২০০৯ সালে, এর নামকরণ করা হয় মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি এক্ট (MGNREGA)। এর মূল উদ্দেশ্য হল গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলোর জীবিকা নির্বাহের নিরাপত্তা বাড়ানো। প্রকল্পটি নিশ্চিত করছে যে, প্রতি পরিবারের অদক্ষ সদস্যদের জন্য প্রতি আর্থিক বছরে কমপক্ষে ১০০ দিনের কাজের সুযোগ থাকবে।
কর্মদিবস ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ এবং এই প্রকল্পের গুরুত্ব
কর্মদিবস বাড়ানোর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হলেও, প্রকৃতপক্ষে সফল হতে হলে এটিকে মাঠ পর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। কোভিডের সময়, যখন অনেক শিল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছিল, তখন এই প্রকল্পটি গ্রামীণ পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেয়। সারা দেশে লক্ষ লক্ষ পরিবারের জীবিকা এই প্রকল্পের উপর নির্ভরশীল।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও চ্যালেঞ্জ
গ্রামীণ এলাকায় এই কর্মসংস্থান প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে আছে। শুরু থেকেই অনেক অনিয়ম দেখা দিয়েছে, যেমন ১০০ দিনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা, কাগজে-কলমে জালিয়াতি এবং নানা আর্থিক অপব্যবহার। কর্মদিবস বাড়ানোর বিষয়টি তখনই অর্থবহ হবে যখন অতীতের সমস্যা ও অনিয়মগুলো দূর করা যাবে। তাই, সরকারের উচিত এই প্রকল্পে একটি শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা তৈরি করা।
আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হল অর্থনৈতিক বাজেট। সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে এটি মূলত চাহিদা-ভিত্তিক প্রকল্প, তাই চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তহবিলের পরিমাণও বাড়ানো হবে। গ্রামীণ অঞ্চলে কর্মদিবস বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, সেটাকেও এই দৃষ্টিতে দেখা উচিত। যদি কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়ে, তাহলে দরিদ্র পরিবারগুলোকে বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার মতো প্রকল্পের প্রয়োজন হবে না। বিনামূল্যে বিভিন্ন জিনিস বিতরণের চেয়েও বেশি জরুরি হলো মানুষকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা, যাতে তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।