Maharani Radhikaraje Gaekwad and Samarjitsinh Gaekwad: ভারতের সবচেয়ে দামি বাড়িগুলির কথা উঠলেই মুকেশ আম্বানির অ্যান্টিলিয়ার নাম প্রায়শই নেওয়া হয়, তবে ভদোদরার ‘লক্ষ্মী বিলাস প্যালেস’ এমন একটি প্রাসাদ, যা কেবল অ্যান্টিলিয়ার চেয়ে চারগুণ বড় নয়, ব্রিটেনের বাকিংহাম প্যালেসের চেয়েও চারগুণ বড়।
লক্ষ্মী বিলাস প্রাসাদ সম্পর্কে বিস্তারিত
বিরাট আয়তন: লক্ষ্মী বিলাস প্যালেসকে বিশ্বের বৃহত্তম ব্যক্তিগত বাসস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি ৭০০ একর জুড়ে বিস্তৃত এবং এর মোট আয়তন ৩০,৪৯২,০০০ বর্গফুট।
মহারাজা সায়াজিরাও গায়কোয়াড়: জানা যায়, এই অসাধারণ প্রাসাদের নির্মাণকাজ ১৮৭৫ সালে বরোদার মহারাজা সায়াজিরাও গায়কোয়াড় শুরু করেছিলেন এবং এটি সম্পূর্ণ হতে পুরো ১২ বছর সময় লেগেছিল।
বিলাসবহুল প্রাসাদে ১৭০টি কক্ষ: প্রাসাদের ডিজাইনার, চার্লস ফেলোস চিশলম, এটি ইউরোপীয় স্টাইলে ডিজাইন করেছেন, যেখানে ১৭০টি কক্ষ, বিরাট বাগান, একটি ঘোড়ায় চড়ার বড় জায়গা, একটি সুইমিং পুল এবং এমনকি একটি ব্যক্তিগত গল্ফ কোর্স রয়েছে।
বিশ্বের প্রথম মার্সিডিজ: মহারাজা সায়াজিরাও গায়কওয়াড় ১৮৮৬ সালে বিশ্বের প্রথম মার্সিডিজ-বেঞ্জ পেটেন্ট মোটরওয়াগন কিনেছিলেন। আজও, রাজপরিবারের কাছে ১৯৩৪ সালের রোলস-রয়েস এবং ১৯৪৮ সালের বেন্টলির মতো ক্লাসিক গাড়ি রয়েছে।
১৭টি মন্দিরের ট্রাস্ট: গায়কওয়াড় পরিবারের কাছে রাজা রবি বর্মার অমূল্য চিত্রকর্ম, সোনা ও রূপার অলংকার রয়েছে এবং গুজরাট ও বারাণসীর ১৭টি মন্দিরের ট্রাস্ট পরিচালনা করে।
এই প্রাসাদে থাকেন মহারানী। Maharani Radhikaraje Gaekwad and Samarjitsinh Gaekwad
লক্ষ্মী বিলাস প্রাসাদটি গায়কোয়াড় রাজপরিবারের আবাসস্থল। প্রাসাদের প্রধান, সমরজিৎ সিং গায়কোয়াড়, তার স্ত্রী রাধিকারাজে এবং পরিবারের সঙ্গে এখানে থাকেন।
দাম শুনলে হাঁফাবেন
প্রাসাদটির আনুমানিক মূল্য ₹২৪,৩৯৩ কোটি (২৪৩.৯৩ বিলিয়ন টাকা)। এটি কেবল রাজকীয়তা এবং জাঁকজমকের প্রতীকই নয়, বরং ভারতের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যেরও একটি অংশ।
সাধারণ মানুষ কি প্রাসাদে ভ্রমণ করতে পারেন?
লক্ষ্মী বিলাস প্রাসাদের একটি অংশ সাধারণ জনগণের জন্য একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়েছে, যাতে তারা এই প্রাসাদের মহিমা এবং ইতিহাস কাছে থেকে দেখতে পারেন।
বলা বাহুল্য, এই প্রাসাদটি কেবল ভারতেই নয়, বিশ্বজুড়ে তার আশ্চর্যজনক জাঁকজমক, অমূল্য ঐতিহ্য এবং রাজপরিবারের উত্তরাধিকারের জন্য বিখ্যাত।
