Home পশ্চিমবঙ্গ সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির ডিলারদের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক, জানাল পরিবহন দফতর

সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির ডিলারদের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক, জানাল পরিবহন দফতর

Licence Mandatory for Second Hand Cars Dealers
Licence Mandatory for Second Hand Cars Dealers

Licence Mandatory for Second Hand Cars Dealers: সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির ডিলারদের চিহ্নিত করতে পরিবহন বিভাগ একটি সমীক্ষা শুরু করেছে, যাতে তাদের নাম নথিভুক্ত করে স্বীকৃতি দেওয়া যায়।

পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একটি মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আঞ্চলিক পরিবহন আধিকারিকরা তাদের এলাকায় সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির ডিলারদের খুঁজে বের করবেন। যদি তারা গাড়ির ডিলার হিসাবে নাম না লেখান, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা জানাবেন।

সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির ডিলারদের জন্য নির্দেশিকা (Licence Mandatory for Second Hand Cars Dealers)

আধিকারিকরা জানিয়েছেন, যদি এই গাড়ির ব্যবসায়ীরা নাম নথিভুক্ত না করে কাজ চালিয়ে যান, তাহলে তাদের প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। এরপরও কাজ না হলে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে।

কেন পরিবহন বিভাগের এই সিদ্ধান্ত?

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, কলকাতা ও তার আশেপাশের অনেক গাড়ির ব্যবসায়ী লাইসেন্স ছাড়াই পুরনো গাড়ি কেনাবেচার ব্যবসা করছেন।

আরও খারাপ বিষয় হল, এই লাইসেন্সবিহীন ডিলাররা প্রায়ই মালিকানা পরিবর্তনের নিয়মকানুন মানেন না।

১৯৮৯ সালের কেন্দ্রীয় মোটরযান আইন অনুযায়ী, পুরনো গাড়ির ডিলারদের যানবাহন ডিলার হিসাবে নাম লেখানো বাধ্যতামূলক। পরিবহন বিভাগের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, নাম নথিভুক্ত না থাকলে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পক্ষে সেই ডিলারকে খুঁজে বের করা কঠিন, যেখান থেকে পুরোনো গাড়ি কেনা হয়েছে।

গত অগস্ট মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পুরনো যানবাহন ক্রেতাদের পরামর্শ দিয়েছে যে, গাড়ি কেনার আগে তারা যেন অবশ্যই যাচাই করে নেয় থার্ড-পার্টি ডিলারদের (তৃতীয় পক্ষ) বৈধ লাইসেন্স আছে কিনা।

এখানে ‘থার্ড-পার্টি’ বা ‘তৃতীয় পক্ষ’ বলতে বোঝানো হয়েছে এমন কোনও পক্ষকে, যে সরাসরি বিক্রেতা নয়। রাজ্য সরকার ক্রেতাদের অনুরোধ করেছে, তারা যেন দেখে নেয় পুরনো গাড়ি বা অন্যান্য যানবাহন কেনাবেচার ডিলার হিসেবে ওই সংস্থাটির লাইসেন্স আছে কিনা।

কলকাতা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, “যদি তৃতীয় পক্ষের বৈধ লাইসেন্স থাকে, তাহলে সরকারি নথির মাধ্যমে লেনদেনগুলি চিহ্নিত করা যায়। তা না হলে, এই লেনদেনগুলি খুঁজে বের করার অন্য কোনও উপায় থাকে না।”

পুরনো গাড়ির ডিলারদের লাইসেন্স দেওয়ার পদ্ধতি

পরিবহন বিভাগ একটি নির্দিষ্ট ফি-এর বিনিময়ে পুরনো গাড়ির ডিলার লাইসেন্স দিয়ে থাকে। উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আবেদনকারীদের লাইসেন্সের জন্য তাদের এলাকার আঞ্চলিক পরিবহন আধিকারিকের কাছে আবেদন করতে হবে।

অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্যে যে বিষয়গুলি যাচাই করা হয়-

  • বৈধ ট্রেড লাইসেন্স আছে কিনা
  • আবেদনকারীর (কোম্পানি বা ব্যক্তি) আইনি অধিকার আছে কিনা
  • অফিসের স্থান ও পার্কিং লটের মাপ কত
  • কর্মীর সংখ্যা কত
  • যানবাহন লেনদেনের জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি

পুরনো গাড়ি বিক্রেতারা সরকারের কাছে নাম নথিভুক্ত না করলে কী হতে পারে?

একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, আইন বিভাগ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর বিশেষ ধারার অধীনে একটি বিস্তারিত খসড়া তৈরি করেছে। এই খসড়ার ওপর ভিত্তি করে সেই সব পুরনো গাড়ি বিক্রেতাদের (second-hand car dealer) বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হবে, যারা সরকারের কাছে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেনি। তিনি আরও জানান যে, এই আইনি নিয়মগুলো আঞ্চলিক পরিবহন আধিকারিকদের (RTO) বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবং তাঁরা তাদের নিজ নিজ এলাকার থানায় এই এফআইআরগুলো দায়ের করবেন।

পরিবহন বিভাগ ও পুলিশ কয়েকটি ই-কমার্স কোম্পানিকে চিহ্নিত করেছে, যারা পুরনো গাড়ি কেনাবেচার ব্যবসায় জড়িত। তবে এই সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যে আর্থিক লেনদেন হয়, তার উৎস বের করার কোনো উপায় নেই।

একজন কর্মকর্তা জানান, “আমরা সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রককে (MoRTH) চিঠি দিয়েছি। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ধরনের ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যমে হওয়া যেকোনো লেনদেন ট্র্যাক করতে কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে এবং কেন এই সংস্থাগুলোকে একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা দরকার।”

Exit mobile version