Latest Update on the Durgapur Medical College Case: দুর্গাপুরে শুক্রবার এক বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ছাত্রীকে নিগ্রহের ঘটনায় অবশেষে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার উত্তরবঙ্গে যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেন যা রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ঘটনাটা দেখে আমি হতবাক। কিন্তু বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিরও দায়িত্ব আছে, বিশেষ করে রাতের বেলায় মেয়েদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা। তাদের বাইরে বেরোতে দেওয়া উচিত নয়। তাদেরও নিজেদের রক্ষা করতে হবে।”
তবে বিরোধী দলগুলি মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ‘পিতৃতান্ত্রিক’ (patriarchal) বলে সমালোচনা করেছে। আইন-শৃঙ্খলার ব্যর্থতা ঢাকতে একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীই পিছিয়ে পড়া ধ্যানধারণা প্রচার করছেন- এমনটাই অভিযোগ করছেন তাঁরা।
তথ্য নিয়ে সন্দেহ ও মুখ্যমন্ত্রীর দাবি
এই ঘটনাটি দুর্গাপুরে শুক্রবার রাতে ঘটে। ২৩ বছর বয়সী ওই ছাত্রী এক পুরুষ সহপাঠীর সঙ্গে রাতের খাবারের জন্য ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়েছিলেন বলা জানা যায়। অভিযোগ হল, ক্যাম্পাস সংলগ্ন একটি জঙ্গলে তাঁকে ওই সহপাঠী এবং আরও তিন জন স্থানীয় যুবক মিলে নিগ্রহ করে।
এই প্রসঙ্গে পুলিশ এবং মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি রাত ৮.৩০টা থেকে ৯.৩০টার মধ্যে ঘটেছিল এবং ছাত্রীটি ৯.৩১ মিনিটের মধ্যে হোস্টেলে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাত সাড়ে ১২টায় সে কীভাবে বাইরে এল? যতটুকু জানি, ঘটনাটি বনাঞ্চলে ঘটেছে।”
ঘটনার পর ওড়িশার জলেশ্বরের বাসিন্দা নির্যাতিতা ছাত্রীটি বর্তমানে তাঁর মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর পুরুষ সহপাঠীকে আটক করা হয়েছে এবং রবিবার তিন জন স্থানীয় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দুর্গাপুর আদালত ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা শিক্ষার্থীদের আমি অনুরোধ করব রাতে (ক্যাম্পাসের) বাইরে না যেতে, কারণ পুলিশ সবসময় কে কোথায় যাচ্ছে তা ট্র্যাক করতে পারে না। বেসরকারি মেডিকেল কলেজেরও একটি দায়িত্ব আছে, কারণ পুলিশ প্রতিটি বাড়ি পাহারা দিতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেকেরই যে কোনও জায়গায় যাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু যারা হোস্টেলে থাকে তাদের জন্য একটা নিয়ম আছে। আমি পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলেছি, কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।”
‘আমার মন্তব্য বিকৃত করা হয়েছে’- দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
এই ঘটনার ওপর তাঁর করা মন্তব্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হওয়ার পর, মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে তাঁর মন্তব্য বিকৃত করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি আর কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
উত্তরবঙ্গে সাংবাদিকদের তিনি বলেন যে তিনি দমদম বিমানবন্দরে যা বলেছিলেন, তা সম্পূর্ণ ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করবেন আর পরে তাঁর মন্তব্য বিকৃত করবেন, এটা চলতে পারে না বলে তিনি জানান।
তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আরও বলেন, “আমার সঙ্গে এমন রাজনীতি করার চেষ্টা করবেন না। আমি আপনাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলি। এমন অনেকেই আছেন যারা আপনাদের সঙ্গে কথাও বলেন না এবং শুধুমাত্র তৈরি করা প্রশ্নের উত্তর দেন।”
প্রসঙ্গত, অনেক সমালোচকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, গত বছর অগস্টে আর জি কর (RG Kar) হাসপাতালে ছাত্রী হত্যার ঘটনার পর, রাজ্য সরকার একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল। সেই নির্দেশিকায় রাজ্য পরিচালিত হাসপাতালগুলিকে মহিলা ডাক্তারদের রাতের শিফটে নিয়োগ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই নির্দেশটি নারীদের পেশাগত সুযোগ থেকে বঞ্চিত করবে- এই অভিযোগে এটির ব্যাপক সমালোচনা হয় এবং এটিকে একটি পিছিয়ে পড়া পদক্ষেপ হিসেবে মনে করা হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের কারণে এই বিতর্কিত নির্দেশিকাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় সরকার।
উল্লেখ্য, বিজেপি এবং সিপিএম অভিযোগ করেছে যে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে এটাই স্বীকার করা হচ্ছে যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নারীদের রাতে স্বাধীনভাবে চলাফেরার জন্য নিরাপদ নয়।
মুখ্যমন্ত্রী এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিয়ে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির দিকে আঙুল তুলে বলেন, মণিপুর, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ওড়িশার মতো রাজ্যেও নারীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “ওই সরকারগুলোরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।” তিনি আরও বলেন যে পশ্চিমবঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপি রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন থানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। রাজ্য বিজেপি সাধারণ সম্পাদক লকেট চ্যাটার্জি দুর্গাপুরে ওই ছাত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, কিশোরীর বাবা হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে তাঁর মেয়েকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভুবনেশ্বরে স্থানান্তরের অনুরোধ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
