Landlord and Tenant Law Regarding Electricity: দিল্লি হাইকোর্ট ২০২৫ সালের ১৫ই ডিসেম্বর এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণায় বলেছে যে, বিদ্যুৎ পাওয়ার অধিকার একটি ‘মৌলিক অধিকার’। এর অর্থ হল, কোনও ভাড়াটিয়া যদি বৈধভাবে কোনও সম্পত্তিতে বসবাস করেন, তাহলে মালিকের সঙ্গে আইনি ঝামেলা থাকলেও তার বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করা যাবে না।
দিল্লি হাইকোর্ট (মামলা নম্বর ২০২৫: DHC: ১১৩৯৬) বিএসইএস (BSES) রাজধানীকে নির্দেশ দিয়েছে যে, তারা যেন ২০২৫ সালের ১৯শে ডিসেম্বরের মধ্যে ওই ঠিকানায় গিয়ে বিদ্যুতের সংযোগ আবার চালু করে দেয়। দরকার হলে তারা পুলিশের সাহায্যও নিতে পারবে। তবে আদালত পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, ভাড়াটিয়া যদি নিয়মিত বিদ্যুতের বিল না দেয়, তাহলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা নিয়ম অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারবে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
ভাড়াটিয়া ২০১৬ সাল থেকে ওই বাড়িতে থাকছেন। কিন্তু আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে তিনি গত সেপ্টেম্বরের ভাড়া এবং বিদ্যুতের বিল সময়মতো দিতে পারেননি। এর ফলে বাড়ির মালিক বকেয়া ভাড়ার জন্য মামলা করেন এবং বিদ্যুৎ সংস্থা সংযোগ বন্ধ করে দেয়। পুনরায় সংযোগের জন্য বিদ্যুৎ সংস্থা মালিকের অনাপত্তি পত্র (NOC) চাইলে বাড়ির মালিক তা দিতে চাননি। এমনকি মালিক ভাড়াটিয়ার জলের সংযোগও বন্ধ করে দেন এবং বিদ্যুতের মিটারটি একটি তালা দেওয়া খাঁচায় আটকে রাখেন। ভাড়াটিয়া পরবর্তীকালে বকেয়া সমস্ত বিল পরিশোধ করলেও মালিকের এনওসি (NOC)-র অভাবে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়নি। এরপরই ভাড়াটিয়া দিল্লি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন।
কেন ভাড়াটিয়া এই মামলায় জয়ী হলেন? (Landlord and Tenant Law Regarding Electricity)
অ্যাকর্ড জুরিস-এর ম্যানেজিং পার্টনার আলায় রিজভী জানান, দিল্লি হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘জীবন ও সম্মানের অধিকার’-এর একটি অপরিহার্য অংশ হল বিদ্যুৎ। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে কাউকে এই জরুরি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা যায় না।
আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে-
১. ভাড়াটিয়া ২০১৬ সাল থেকে আইনসম্মতভাবে ওই বাড়িতে বসবাস করছেন।
২. যদিও মিটারটি বাড়ির মালিকের নামে, তবুও ভাড়াটিয়া সরাসরি বিদ্যুৎ সংস্থাকে বিল পরিশোধ করছেন।
৩. বকেয়া বিল পরিশোধ করার পরেও শুধুমাত্র মালিকের এনওসি না থাকার কারণে সংযোগ না দেওয়া আইনত ভুল।
গান্ধী ল অ্যাসোসিয়েটসের পার্টনার রাহিল প্যাটেল বলেন, এই রায়ের মূল বার্তা হল – বিদ্যুৎ সুবিধাকে মালিক-ভাড়াটিয়ার মধ্যেকার বিবাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন কাউকে তার মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে উচ্ছেদের জন্য চাপ দেওয়া অসাংবিধানিক।
দিল্লি হাইকোর্টের বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত
ভাড়াটিয়ার আইনজীবী আদালতে জানান যে, ভাড়াটিয়া আইনত ওই বাড়িতে বসবাস করছেন এবং বাড়ির মালিক জল ও বিদ্যুতের মতো জরুরি পরিষেবা বন্ধ করে দিয়ে তাকে হয়রানি করছেন। অন্যদিকে, বিএসইএস-এর আইনজীবী জানান যে, বাড়ির মালিক মিটারটি তালাবন্ধ করে রেখেছেন এবং সহযোগিতা করছেন না, তাই তারা সংযোগ দিতে পারছেন না।
দিল্লি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ
বিদ্যুৎ একটি মৌলিক চাহিদা এবং সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে জীবনের অধিকারের অংশ।
যতক্ষণ পর্যন্ত কোনও আদালত ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদের নির্দেশ না দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার অবস্থাকে অবৈধ বলা যায় না।
কোনও নাগরিককে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় জীবন কাটাতে বাধ্য করা যায় না।
আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশ
১. বিএসইএস-কে অবিলম্বে বর্তমান মিটার থেকেই বিদ্যুতের সংযোগ পুনরায় দিতে হবে।
২. বাড়ির মালিকের থেকে কোনও এনওসি (NOC) বা অনাপত্তি পত্র চাওয়ার প্রয়োজন নেই।
৩. বাড়ির মালিককে এই কাজে সহযোগিতা করতে হবে এবং কোনও বাধা দেওয়া চলবে না।
৪. যদি বাড়ির মালিক বাধা দেন, তাহলে বিদ্যুৎ সংস্থা পুলিশের সাহায্য নিতে পারবে।
৫. ২০২৫ সালের ১৯শে ডিসেম্বর সকাল ১১টায় বিএসইএস কর্মকর্তাদের ওই বাড়িতে গিয়ে সংযোগ চালু করতে হবে।
৬. ভাড়াটিয়াকে নিয়মিত বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করতে হবে, অন্যথায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অধিকার সংস্থার থাকবে।
সতর্কীকরণ: আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই নির্দেশের মানে এই নয় যে ভাড়াটিয়ার মালিকানা সংক্রান্ত কোনও অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হল। মূল আইনি বিবাদ এবং উচ্ছেদের মামলা তার নিজস্ব নিয়মেই চলবে।
