Home খবর দেশ নতুন শ্রম আইনে বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তন!

নতুন শ্রম আইনে বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তন!

India New Labour Laws 2025 changes for employers
India New Labour Laws 2025 changes for employers

India New Labour Laws​ 2025 changes for employers: ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর প্রকাশিত নতুন শ্রম বিধিগুলিতে (labour codes) কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল ‘মজুরি’ (Wages)-এর সংজ্ঞা।

২০২৫ সালের ২১শে নভেম্বরের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সরকার জানিয়েছে-

‘মজুরির অভিন্ন সংজ্ঞা‘- মজুরি’র সংজ্ঞায় এখন মূল বেতন (Basic Pay), মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) এবং রিটেইনিং অ্যালাউন্স (Retaining Allowance) অন্তর্ভুক্ত থাকবে। গ্র্যাচুইটি, পেনশন এবং সামাজিক সুরক্ষা সুবিধাগুলোর হিসাব করার সময় সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার জন্য মোট পারিশ্রমিকের ৫০% (অথবা বিজ্ঞাপিত হতে পারে এমন শতাংশ) মজুরি গণনার জন্য যোগ করা হবে।

India New Labour Laws​ 2025 changes for employersএর অর্থ কী?

খাইতান অ্যান্ড কোং (Khaitan & Co)-এর পার্টনার, বিনয় জয়, বুঝিয়ে বললেন যে নতুন নিয়ম বেতন হিসাব করার আগের অসঙ্গতিপূর্ণ পদ্ধতির বদলে কাজ করবে । তিনি আরও বললেন, নতুন নিয়মে একজন কর্মী র পিএফ,(Provident Fund), গ্র্যাচুইটি আর সামাজিক সুরক্ষা- এই তিনটা জিনিস মিলিয়ে তার মোট বেতনের অন্তত ৫০ শতাংশ হতে হবে। যদি অন্যান্য ভাতা এই সীমাকে ছাড়িয়ে যায়, তাহলে বিধিবদ্ধ সুবিধা গণনার জন্য বাড়তি অংশটিকে নিয়ম অনুযায়ী যোগ করতে হবে।

ডেলয়েট ইন্ডিয়ার (Deloitte India) পার্টনার, দিব্যা বাওয়েজা, বলছেন যে শ্রম আইনে ‘মজুরি’ শব্দটা অনেক বড় অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে প্রায় সব ধরনের বেতন, যেমন টাকা, ভাতা বা অন্য পেমেন্টগুলো ধরা হবে, আর মূল বেতন (Basic Salary)-ও বিশেষভাবে এর মধ্যে পড়বে ।

তবে অ্যাকর্ড জুরিসের (Accord Juris) ম্যানেজিং পার্টনার আলায় রাজভি (Alay Razvi) সাবধান করে দিয়ে বলেন যে এর মানে এই নয় যে নিয়োগকর্তাকে কর্মীদের মূল বেতন নিজেই থেকে বাড়াতে হবে। এর বদলে, নতুন করে হিসাব করা এই মজুরি ফিগারটি বিধিবদ্ধ হিসাবের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। রাজভি সবশেষে বলেন, এর ফলে ডিডাকশন বেস (deduction base) বা কর্তনের ভিত্তি অবশ্যই বাড়বে, কিন্তু প্রকৃত বেতন কাঠামোর পরিবর্তন নির্ভর করবে নিয়োগকর্তা কীভাবে এটি কার্যকর করেন তার ওপর।

গ্রস স্যালারি একই থাকছে, শুধু কাঠামো বদলাচ্ছে

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সামগ্রিক মোট বেতন একই থাকবে।

খাইতান অ্যান্ড কোং (Khaitan & Co)-এর পার্টনার বিনয় জয় বলেছেন, “এখানে যে পরিবর্তনটি হচ্ছে তা হলো বেতনের বিভিন্ন অংশের মধ্যে শুধু অভ্যন্তরীণ বরাদ্দকরণ (internal allocation), যার ফলে কোডগুলোতে বাধ্যতামূলক মজুরির অংশগুলো যেন পঞ্চাশ শতাংশের মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারে। তাই কর্মীদের মোট খরচের (Total Cost to the Employee) কোনও পরিবর্তন না করেই নিয়ম মেনে চলার জন্য কোম্পানিগুলোকে তাদের ক্ষতিপূরণ কাঠামো (compensation structure) পর্যালোচনা করতে হবে।

হাতে পাওয়া বেতন কমলেও বাড়বে গ্র্যাচুইটি

সিরিল অমরচাঁদ মঙ্গলদাস (Cyril Amarchand Mangaldas)-এর সৌম্য কুমার বলেন যে মজুরির সংজ্ঞা একই রকম হওয়ার কারণে সামাজিক সুরক্ষা (যেমন পিএফ, ইএসআই, মাতৃত্বকালীন সুবিধা)– এই সবকিছুর হিসাব করার নিয়ম একই হবে। এর ফলে কোম্পানিগুলোকে তাদের সিটিসি (CTC) হিসাব নতুন করে করতে হবে। দেখতে হবে যে, কর্মীদের যে বেসিক পে (Basic Pay) বা মূল বেতন, তা যেন মোট বেতনের অন্তত ৫০% হয়, যাতে পিএফ কাটার পরে হাতে কিছু থাকে। এখন যাদের মূল বেতন (Basic Pay) আগে কম ছিল, তাদের হাতে যে টাকাটা আসবে,তা কমে যেতে পারে।

ডেলয়েট ইন্ডিয়ার দিব্যা বাওয়েজা এটাও বলেছেন যে, মজুরির ভিত্তিটা বাড়লে গ্র্যাচুইটির খরচও বাড়বে আর যদি গ্র্যাচুইটি সিটিসি-র (CTC) মধ্যে ধরা হয়, তাহলে হাতে পাওয়া বেতনেও প্রভাব পড়বে। যাদের মাসিক আয় ১৫,০০০ টাকার কম, তাদের পিএফের কারণে হাতে কম টাকা আসার সম্ভাবনা আছে।

খাইতান অ্যান্ড কোং-এর বিনয় জয় বলছেন, যাদের মূল বেতন, মহার্ঘ ভাতা আর রিটেইনিং অ্যালাউন্স মিলিয়ে মোট বেতনের ৫০% এর কম, শুধু তাদেরই বেতন কাঠামোটা বদলাতে হবে।

বিটিজি আদ্বায়া (BTG Advaya)-এর অর্জুন পালেড়ির মতে, এই পরিবর্তনের কারণে পিএফ আর ইএসআইসি (ESIC) বাবদ বেশি টাকা দিতে হবে তাই কর্মীদের হাতে কম টাকা আসবে, যদি না কোম্পানিগুলো আগের থেকেই গ্রস বেতনের ওপর এই টাকাগুলো কেটে রাখে।

Exit mobile version