India and US trade deal in the final stage & tariffs: ওয়াশিংটন জরিমানা শুল্ক প্রত্যাহার করতে রাজি হওয়ার পর সম্ভবত নভেম্বরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করতে চলেছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে, ভারত সয়াবিন, ভুট্টা এবং কিছু দুগ্ধজাত পণ্যের শুল্কমুক্ত আমদানির জন্য তাদের বাজার উন্মুক্ত করবে, যেখানে উভয় পক্ষ শিল্প এবং কৃষি পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্কের হার চূড়ান্ত করছে।
নভেম্বরের মধ্যে চুক্তি ঘোষণা- রাশিয়ান তেল বিতর্কের সমাধান (India and US trade deal in the final stage & tariffs)
“নভেম্বরের শেষের আগেই চুক্তিটি ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাশিয়ান তেল সমস্যাটি সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এটি স্বীকার করেছেন। তাই, জরিমানা শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে,” আলোচনার সাথে সম্পর্কিত কর্মকর্তারা একটি সংবাদসূত্রকে জানিয়েছেন।
এই সপ্তাহের শুরুতে, ট্রাম্প বলেছিলেন যে আমেরিকা ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি, যা দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ককে প্রসারিত করবে, মার্কিন জ্বালানি রপ্তানি বৃদ্ধি করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন খাতে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে।
“আমরা একটি ন্যায্য চুক্তি করতে যাচ্ছি, কেবল একটি ন্যায্য বাণিজ্য চুক্তি,” ট্রাম্প ভারতে তাঁর রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন। তিনি বলেন, “আমরা ভারতের সাথে একটি চুক্তি করতে যাচ্ছি, অতীতের চেয়ে অনেক আলাদা চুক্তি।”
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় রপ্তানি পণ্যের উপর ৫০% শুল্ক আরোপ করার পরে, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য উভয় দেশ উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা করেছে। এই ৫০% শুল্কের মধ্যে ২৫% হল রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে। তবে, অক্টোবর মাসেই ভারতে রাশিয়ার তেল আমদানি কমে গিয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে নভেম্বর মাস থেকে তা আরও অনেক কমবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন মূল লক্ষ্য হল একে অপরের উপর আরোপিত শুল্কের পরিমাণ (India and US trade deal in the final stage & tariffs) চূড়ান্ত করা। এক্ষেত্রে আলোচনার জন্য দুটি সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, প্রথমটি ১২ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে এবং অন্যটি ১৫ থেকে ১৯ শতাংশের মধ্যে।
ভারত আমেরিকা থেকে কী কী আমদানি করবে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উভয় দেশই শুল্কমুক্ত অথবা কম শুল্কে কোন কোন পণ্য আমদানি করা যাবে, সেই তালিকা নিয়ে অধিকাংশ সমস্যা সমাধান করেছে। ভারতের প্রধান ছাড়গুলোর মধ্যে একটি হল, কিছু নিয়মকানুন মেনে আমেরিকা থেকে সয়াবিন ও ভুট্টা আমদানির অনুমতি দেওয়া। ভারত মূলত ইথানল উৎপাদনের জন্য আমেরিকা থেকে ভুট্টা আমদানি করে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে।
জানা গিয়েছে যে ভারত সরকার শিল্প সংস্থাগুলির থেকে সরাসরি নন-জেনেটিক্যালি মডিফাইড (Non-GM) সয়াবিন কিনতে সম্মত হয়েছে। তবে, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র সয়াবিনের বৃহৎ আকারের ক্রয়ের জন্য খুব বেশি চাপ দিচ্ছে না, কারণ চীন বর্তমানে তাদের থেকে প্রচুর পরিমাণে সয়াবিন ক্রয় করছে।
উল্লেখ্য, ডেয়ারি পণ্যের ক্ষেত্রে, ভারত কঠোর সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার অধীনে সীমিত পরিমাণে আমদানিতে রাজি হয়েছে। একজন কর্মকর্তা জানান, “কিছু নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে, ভারত কয়েকটি ডেয়ারি পণ্য আমদানির অনুমতি দিতে পারে, তবে তরল দুধ (liquid milk) নয়।” এই কৃষি বিষয়ক আমদানি, বিশেষ করে দুগ্ধজাত পণ্য, বাণিজ্যিক আলোচনার সময় সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল।
