Home লাইফস্টাইল অনিরাপদ চারধাম, নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে যাত্রীসংখ্যা! বিজ্ঞানীদের বড় সতর্কবাণী

অনিরাপদ চারধাম, নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে যাত্রীসংখ্যা! বিজ্ঞানীদের বড় সতর্কবাণী

Heaven on Earth with Char Dham Yatra in India
Heaven on Earth with Char Dham Yatra in India

Heaven on Earth with Char Dham Yatra in India: উত্তরাখণ্ডের চারধাম তীর্থস্থানগুলিতে অতিরিক্ত ভিড় পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে, নিরাপত্তা খাতে গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিজ্ঞানীরাও উদ্বিগ্ন।  প্রথমবারের মতো হিমালয়ের ভঙ্গুর স্থানগুলির দিকে তাকিয়ে তাঁরা দেখেছেন, ধীরে এই স্থানের বহন ক্ষমতাও কমছে। এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত তীর্থযাত্রীর সংখ্যা বিপদ ডেকে আনতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। 

নিরাপদ সীমা কত?

বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুসারে, প্রতিদিন চারধাম রুটে ভ্রমণকারী তীর্থযাত্রীদের সংখ্যা নিম্নলিখিতভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে,

  • বদ্রীনাথ: প্রতিদিন প্রায় ১৫,৭৭৮ তীর্থযাত্রী
  • কেদারনাথ: প্রতিদিন প্রায় ১৩,১১১ তীর্থযাত্রী
  • গঙ্গোত্রী: প্রতিদিন প্রায় ৮,১৭৮ তীর্থযাত্রী আসেন
  • যমুনোত্রী: প্রতিদিন প্রায় ৬,১৬০ ভক্ত

ভিড় বাড়ছে, চাপও বাড়ছে! Heaven on Earth with Char Dham Yatra in India

উত্তরাখণ্ড পর্যটন বিভাগের তথ্য অনুসারে, ২০২২ সালে প্রায় ৪০ লক্ষ তীর্থযাত্রী চারধাম পরিদর্শন করেছিলেন। অনুমান করা হচ্ছে যে ২০২৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৬০ লক্ষে পৌঁছতে পারে।

যেহেতু এই স্থানগুলি কেবল এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত খোলা থাকে, তাই ভিড় বাড়তেই থাকে। আর এই সংখ্যাটি এখন যদি আরও বেড়ে যায়, নির্ধারিত নিরাপদ সীমা অতিক্রম করে, বিপদ ধেয়ে আসতে পারে।

চারধাম যাত্রার সুবিধার্থে কেন্দ্রের প্রকল্পও এখন প্রশ্নের মুখে

২০১৬ সালে, চারধাম রুটের ৮৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ হাইওয়ে প্রশস্ত করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার যে প্রকল্প চালু করে, তাও এখন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কিছু অংশের  বিশেষজ্ঞের যুক্তি, ওই নির্মাণ পদ্ধতি রুটের কিছু অংশে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। বদ্রীনাথ ইতিমধ্যেই তার সর্বোচ্চ বহন ক্ষমতা ছুঁই ছুঁই এবং বাকি তিনটি স্থান এই দশকের মাঝামাঝি সময়েই ওই একই স্তরে পৌঁছে যাবে, অর্থাৎ এর বেশি যাত্রী বহনের ক্ষমতা থাকবে না চারধামের!

কীভাবে এমনটা জানতে পারলেন বিজ্ঞানীরা?

ভিসিএসজি উত্তরাখণ্ড উদ্যানতত্ত্ব ও বনবিদ্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের বন সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক এবং চেয়ারম্যান জগদীশ চন্দ্র কুনিয়াল এবং তার সহকর্মীরা প্রতিটি স্থানে তীর্থযাত্রীদের ট্র্যাফিকের বহন ক্ষমতা গণনা করেছেন। গবেষকরা প্রতিটি চারধাম সাইটে প্রতিদিন কতজন দর্শনার্থী স্থান পেতে পারে তা অনুমান করেছেন, তারপর ভূখণ্ড, বাস্তুতন্ত্রের মাপকাঠি বুঝেই এই আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন।

অতএব, এটা স্পষ্ট যে চারধামের পবিত্র তীর্থযাত্রাকে নিরাপদ, এখন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের তীব্র প্রয়োজন, যেখানে ভক্তির জেরে প্রকৃতি সামঞ্জস্য হারাবে না।

Exit mobile version