Home খবর দেশ ভারতের নতুন শ্রম আইনের নিয়মগুলো কতটা কার্যকর হল জেনে নিন

ভারতের নতুন শ্রম আইনের নিয়মগুলো কতটা কার্যকর হল জেনে নিন

Find out the Latest Update on the Labour Code India
Find out the Latest Update on the Labour Code India

Find out the Latest Update on the Labour Code India​: ভারতের লক্ষ লক্ষ বেসরকারি কর্মীর জন্য নতুন শ্রম আইন একটি বড় পরিবর্তন নিয়ে আসার কথা ছিল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল গ্র্যাচুইটি পাওয়ার জন্য পাঁচ বছর অপেক্ষা করার বাধ্যবাধকতা কমে মাত্র এক বছর চাকরি করার পরেই তা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে, আজও অনেক কর্মী এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত এবং পুরনো নিয়মেই আটকে আছেন। আপনি যদি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নিযুক্ত হন এবং গ্র্যাচুইটি নিয়ে চিন্তিত হন, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য। কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম পরিবর্তনের পরেও কেন আপনি টাকা পাচ্ছেন না এবং এর কারণগুলো আমরা বিস্তারিতভাবে জানাব।

আগের গ্র্যাচুইটি নিয়ম

ভারতে এখন ১৯৭২ সালের গ্র্যাচুইটি আইন চালু আছে। এই আইন অনুযায়ী, কোনও কর্মীকে গ্র্যাচুইটি পেতে হলে একটি কোম্পানিতে একটানা পাঁচ বছর চাকরি করতে হয়। যারা দীর্ঘকাল ধরে একই কোম্পানিতে চাকরি করতেন, তাদের জন্য এই নিয়মটি ভালো ছিল। কিন্তু বর্তমান যুগে, যেখানে অল্প সময়ের জন্য কাজ করার সুযোগ বেশি, সেখানে এটি প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায়ই দেখা যায়, কর্মীরা পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ভালো সুযোগ পেলে কোম্পানি পরিবর্তন করেন, অথবা কাজ শেষ হওয়ার পরে তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ফলে, তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেও গ্র্যাচুইটি থেকে বঞ্চিত হন।

নতুন শ্রম আইনে পরিবর্তনFind out the Latest Update on the Labour Code India

চাকরির বাজারের পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে সরকার নতুন শ্রম আইনে কিছু পরিবর্তন এনেছে। সরকার জানিয়েছে, কোনও কর্মী যদি নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তিতে কাজ করেন, তাহলে পাঁচ বছর নয়, এক বছর চাকরি করার পরেই গ্র্যাচুইটি পাওয়ার যোগ্য হবেন। সরকারের মতে, এখনকার দিনে মানুষ বেশি দিন একই কোম্পানিতে কাজ করে না, তাই তাদের দ্রুত সামাজিক সুরক্ষা পাওয়া উচিত। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল চুক্তিবদ্ধ কর্মীদের স্থায়ী কর্মীদের সমান সুবিধা দেওয়া।

নিয়ম থাকা সত্ত্বেও কেন টাকা পাওয়া যাচ্ছে না?

এখানে প্রধান সমস্যা হল সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। ভারতে শ্রম বিষয়টি কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারের আওতাধীন। কেন্দ্রীয় সরকার আইন তৈরি করতে পারলেও, সেগুলো কার্যকর করার দায়িত্ব রাজ্য সরকারগুলোর। যতক্ষণ না রাজ্য সরকারগুলো তাদের নিজস্ব শ্রম বিধি তৈরি করছে, ততক্ষণ কোম্পানিগুলো নতুন নিয়ম মানতে বাধ্য নয়। বর্তমানে, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও দিল্লির মতো কয়েকটি বড় রাজ্য এই নিয়মগুলো পুরোপুরি কার্যকর করেনি। ফলে, এই অধিকারটি শুধু কাগজেই রয়ে গিয়েছে।

কোম্পানি ও পুরনো নিয়ম

রাজ্য সরকারগুলোর স্পষ্ট নির্দেশের অভাবে কোম্পানিগুলো সাবধানে চলছে। তারা এখনও আগের পাঁচ বছরের নিয়ম অনুসরণ করছে, কারণ তাদের আশঙ্কা, রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নতুন নিয়ম চালু করলে ভবিষ্যতে সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া, এক বছরের মধ্যে গ্র্যাচুইটি দিতে হলে কোম্পানিগুলোর আর্থিক চাপ বাড়বে, যা তারা এড়াতে চাইছে। কোম্পানিগুলোর আরও ভয়, যদি তারা নিজেদের মতো করে নিয়ম চালু করে, তাহলে আগের কর্মীদের বকেয়া গ্র্যাচুইটি পরিশোধ করতে হতে পারে।

আর কী কী সুবিধা আটকে আছে

শুধু গ্র্যাচুইটি নয়, নতুন শ্রম আইন কার্যকর না হওয়ায় আরও অনেক পরিবর্তন আটকে আছে। কর্মীদের বেতন ও পিএফ সংক্রান্ত পরিবর্তনগুলোও রাজ্য সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এছাড়াও, Swiggy ও Zomato-র মতো প্ল্যাটফর্মে কর্মরত কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা, ১২ ঘণ্টার শিফটে তিন দিনের ছুটির বিকল্প এবং ১৫ মিনিটের বেশি কাজ করলে অতিরিক্ত সময়ের বেতন পাওয়ার অধিকারের মতো বিষয়গুলোও এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। রাজ্য সরকারগুলো সক্রিয় না হলে এই সুবিধাগুলো পাওয়া কঠিন।

Exit mobile version